শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

পাইকগাছায় বিধবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার! দেবর আটক 

পাইকগাছা(খুলনা)প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : 4:26 pm, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনিতে পুলিশ রাশিদা বেগম (৩৪) নামে দুই সন্তানের জননী বিধবার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ঐ বিধবার দেবর মফিজুল গাজী ওরফে মইদুল (৩৮) কে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল লিচু গাছ থেকে রাশিদার মৃতদেহ উদ্ধার করে সুরোতহাল রিপোর্ট শেষে ময়না তদন্তের প্রস্তুতি নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে।

পুলিশ জানায়, রাশিদাকে নির্যাতন ও তার যৌনাঙ্গে লাঠি জাতীয় কিছু ঢুকিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ। ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের মৃত এছেম আলী গাজীর মেঝ ছেলে মৃত এনামুল গাজীর বিধাব স্ত্রী রাশিদা বেগম প্রতি রাতের ন্যায় তার মেয়ে তাসমিরা খাতুন (১৩) কে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। অপর ঘরে ঘুমিয়ে ছিল তার শাশুড়ী। এরই পাশে তার ভাসুর জা ও তাদের সন্তান। রাতের যেকোন সময় রাশিদাকে ঘর থেকে ফুসলিয়ে বের করে নির্যাতনের পর হত্যা শেষে বাড়ির সামনের একটি লিচু গাছে ওড়না দিয়ে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। সকালে বাড়ির লোকজন ঐ গাছে তার লাশ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে স্থানীয় কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স সহ ঘটনাস্থল লিচু গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এর আগে স্থানীয়রা ঘটনার শিকার রাশিদার আপন দেবর মফিজুল ইসলাম ওরফে মইদুল (৩৮) কে আটক করে স্থানীয় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বেঁধে রাখে। পরে পুলিশ পৌছালে তাকে তাদের হাতে সোর্পদ করা হয়। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন জানায়, গভীর রাতে তার মাকে তারই কাকা মফিজুল জমির মিউটেশন করার কথা বলে ঘরের বাইরে ডেকে নেয়। একপর্যায়ে বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে সে তার মা, কাকা, দাদী ও চাচাকে ডাক চিৎকার দিলেও কেউ সাড়া দেয়নি। যদিও নিহতের ভাসুর রবিউল গাজী বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবী ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে বাইরে আসলে লিচু গাছটি নড়া-নড়ি করার শব্দ পান। এসময় তিনি মনে করেন গাছে বিড়াল উঠেছে ভেবে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরে নামাজ শেষে ঘেরে চলে গেলে সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে পথিমধ্যে তার মেয়ে বিষয়টি মোবাইলে তাকে জানালে তিনি ফিরে এসে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন। এব্যাপারে কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে তাকে হত্যা শেষে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ময়না তদন্ত শেষে বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com