

তোফাসানি : রাজধানীর উপকন্ঠে সাভার একটি ব্যস্ততম শিল্প এলাকা। এই এলাকায় এখন শিশু ও কিশোরদের কাছে ড্যান্ডি বা রঙ্গীন নামক নেশা এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই নেশার কবলে পরে নিজেদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে এসব শিশুরা।
সরজমিনে গিয়ে জানাগেছে, সাভারের বাসস্ট্যান্ড, বাজাররোড, মজিদপুর, গেন্ডা, থানারোড, রেডিও কলোনী, শিমুলতলা, আশুলিয়ার বাইপাইল, ফ্যান্টাসী কিংডম, পল্লী বিদুৎ, জিরানী, ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক ও রাস্তায় প্রকাশ্যে ড্যান্ডি নেশা করতে দেখা যায় শ্রমজীবি শিশু, কিশোর ও যুবকদের। এদের বয়স সাত থেকে বিশ বছরের মধ্যে। অনেক স্থানে বড়দেরও এই নেশা করতে দেখা গেছে। বাসের ছাদে, টার্মিনালে, মার্কেটের আড়ালে শ্রমজীবি শিশু ও কিশোররা নেশা করে থাকে বলে জানায় অনেকে।
সাভারের আড়াপাড়ার জাহাঙ্গীর (১৮), রেডিও কলোনীর রফিক (৭), বাইপাইলের মুনসুর (৩৮) ও ফাহাদ (১৫) ধামরাইয়ের জুলহাস (১২) এবং তাদেও মত অনেক শিশু ও কিশোররা জানায়, তারা মহল্লা, ডাষ্টবিন ও রাস্তা থেকে বোতল, পলিথিন, টিন, লোহা, কাগজসহ বিভিন্ন দ্রব্য টুকিয়ে নিয়ে তা ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করে থাকে। অনেক সময় মার্কেটের অরক্ষিত বৈদ্যুতিক বাতি, মালামালসহ বিভিন্ন কিছু চুরি করে নিয়ে বিক্রি করে থাকে। এসব টাকা দিয়ে দোকান থেকে হলুদ রঙ্গেও পেষ্টিং গাম কিনে এনে তা পলিথিনের ভেতর ঢুকিয়ে মুখে নিয়ে নি:শ^াসের মাধ্যমে নেশা করে থাকে। অনেকে বিভিন্ন কষ্টের জন্য, অনেকে বন্ধুদের পাল্লায় পরে আবার অনেকে দেখে দেখে আসক্ত হচ্ছে এই নেশায়। এই নেশা করলে নাকি পৃথিবীটা তাদের কাছে রঙ্গীন মনে হয়।
এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা আমজাদুল হক জানান, ড্যান্ডি নেশাকে রঙ্গীন নেশা বলা হয়ে থাকে। এই নেশা করলে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হয়। নেশাগ্রস্থদের হাঁপানী, শ^াসকষ্ট, ফুসফুস ক্যান্সার হতে পারে। শিশু ও কিশোরদের স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, লিভার আক্রান্ত হয়, যৌনশক্তি হ্রাস পায় এমনকি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যেহেতু, এই নেশাটি ইনহেলারের মত অক্সিজেনের মাধ্যমে নেয়া হয়ে থাকে তাই এটা দেহের আরো মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
সাভার পৌরসভা ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবর রহমান জানান, রাস্তা-ঘাটে এখন ড্যান্ডি বা রঙ্গীন নেশা খাওয়া এখন প্রকাশ্য হয়ে গেছে। এসব কারনে ঘটছে সামজিক ও নৈতিক অবক্ষয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশু পদক্ষেপ নিয়ে এসব নেশা বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহন করলে এসব শিশু ও কিশোরদের অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব।