
ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন বেলমা মৌজায় পৈত্রিক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে সন্ত্রাসী হামলা, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, নগদ টাকা ও মোবাইল লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা জমির মালিকের নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না পেয়ে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম (৫১) বাদী হয়ে ঢাকার বিজ্ঞ আদালতে আশুলিয়া থানার কুটুরিয়া ও কাটগড়া এলাকার চিহ্নিত ৬ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
মামলার এজাহার ও আরজি সূত্রে জানা যায়, সাভারের শাহীবাগ (কমিশনার রোড) এলাকার বাসিন্দা ও ডগর মোড়ার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত দলিল উদ্দিন সরদারের পুত্র মোঃ রফিকুল ইসলাম বিগত ২৯/০৬/২০০৬ইং তারিখে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৪৩৩০/০৬ নং সাফ কবলা দলিল মূলে বেলমা মৌজার ৩১.৬০ অযুতাংশ জমির প্রকৃত মালিক হন। উক্ত জমিটি মূলত সাবেক সাভার (বর্তমানে আশুলিয়া) থানাধীন গকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত শেখ বহরের পুত্র শেখ ছমুরদ্দিনের পৈত্রিক সম্পত্তি ছিল, যা পরবর্তীতে ওয়ারিশসূত্রে হস্তান্তরিত হয়ে মোসাঃ ময়না বেগম নামজারি ও জমাভাগ সম্পন্নপূর্বক বৈধভাবে ভোগদখল করছিলেন এবং পরে রফিকুল ইসলামের নিকট বিক্রি করেন। রফিকুল ইসলামও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে নিজের নামে ২০৫৮১/০৬নং কেইসের আদেশ মূলে নামজারি ও জমাভাগ (জোত নং-২৯৭) সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধপূর্বক শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
বর্বরোচিত হামলা ও চাঁদাবাজির বিবরণ: মামলার বিবরণীতে বাদী উল্লেখ করেন, গত ১৫/০৪/২০২৬ইং তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫:০০ টার সময় মামলার ১ থেকে ৬ নম্বর আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন সন্ত্রাসী অতর্কিতে তফসিল বর্ণিত ভূমিতে প্রবেশ করে। তারা জমিতে ঢুকেই বাদীর ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। সন্ত্রাসীরা বাদীর নির্মিত ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এ সময় ১ নং আসামি শহীদুল পালোয়ান বাদীর নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্য আসামিরাও একযোগে হুমকি দিয়ে বলে, “১০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তোকে এই জমিতে থাকতে দেওয়া হবে না।”
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ৩ নং আসামি ফারুক হোসেন তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে বাদীর মাথায় কোপ মারার চেষ্টা করেন। বাদী তাৎক্ষণিকভাবে বাম হাত দিয়ে তা ঠেকালে তার হাত গুরুতর জখম হয়। এরপর ৫ নং আসামি লিটন বাদীর পকেট থেকে নগদ ২৫,০০০/- টাকা এবং ৪ নং আসামি রানা ১৮,০০০/- টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে ৫ ও ৬ নম্বর আসামি বাদীকে মাটিতে ফেলে গলায় পাড়া দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। তারা হুমকি দিয়ে বলে, “এই জমি ও বাড়িতে আর আসলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলবো এবং জমি থেকে বেদখল করবো।” পরে বাদীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
বাদী মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩ (বেআইনি সমাবেশ), ৪৪৭ (অনধিকার প্রবেশ), ৩২৩/৩২৪ (স্বেচ্ছায় আঘাত ও মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে জখম), ৩০৭ (হত্যার চেষ্টা), ৩৭৯ (চুরি/লুটপাট), ৪২৭ (ক্ষতিসাধন) এবং ৫০৬ (অপরাধমূলক হুমকি) ধারায় অপরাধের অভিযোগ এনে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন।