গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক আবহের মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন “শতকণ্ঠে পবিত্র গীতা পাঠ”। শুক্রবার (১লা মে) সকাল ১০টায় রাণীগঞ্জ সার্বজনীন কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির শ্রী অঙ্গনে বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনায় এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঘোড়াঘাটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শতাধিক কণ্ঠে গীতার উচ্চারিত হওয়ায় এলাকায় এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও শাস্ত্রীয় নিয়মমাফিক পূজার্চনার মাধ্যমে কর্মসূচি সূচিত হয়। এরপর শতাধিক ভক্ত সমবেত কণ্ঠে পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শ্লোক পাঠ শুরু করলে পুরো এলাকায় এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজনের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রভু কানাই-বালাই এর মনোমুগ্ধকর ভোগ আরতি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন (এম.পি)।
পবিত্র গীতযজ্ঞ কমিটির সভাপতি শ্রী সুবাস সাহার সভাপতিত্বে এবং সাদুল্লাপুরের কানাই-বালাই আশ্রমের শ্রী শ্যামল চন্দ্র গোস্বামীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব রুবিনা তানজিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মোঃ আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ এবং সহকারী পুলিশ সুপার জনাব আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ্।
ঘোড়াঘাট থানার ওসি জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম, ৩নং সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব শাহ্ মোঃ শামীম হোসেন চৌধুরী। উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন মহন্ত ভুট্টু এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী কার্তিক সরকার।
ঘোড়াঘাট উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপি-র শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) প্রতিনিধিগণ।
মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন বলে জানান আয়োজক ও স্থানীয় ভক্তবৃন্দ। রাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি শ্রী কার্তিক সরকার তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন:
“এ বছর প্রথমবারের মতো ছোট পরিসরে ভগবানের বাণী শতকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে এবং প্রভু কানাই-বালাই এর আরতি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য রয়েছে, আগামী বছরগুলোতে এই আয়োজনকে আরও বড় পরিসরে সারা বাংলাদেশের সামনে তুলে ধরার।”
উপস্থিত অতিথিরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, গীতা কেবল ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি মানবজীবনের সঠিক পথপ্রদর্শক। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত শত শত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে পবিত্র প্রসাদ বিতরণ করা হয়। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।