সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাগবাটী ইউনিয়ন যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী, পাশ্ববর্তী ইউনিয়ন ছোনগাছা ইউনিয়ন থেকেও কয়েকজন নেতাকর্মীকে ভাড়া করে নিয়ে এসে এর সহযোগীতায় শ্যামপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক প্রতিপক্ষের আধা পাকা ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের ফসলি মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চরহাসনা গ্রামের মৃত আজিবর তালুকদার উক্ত নালিশী জমি ১৯৭৪ সালে শ্যামপুর গ্রামের মৃত মোজদার হোসেন এর নিকট থেকে সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন । আজিবর তালুকদার মারা যাওয়ার পর হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত উক্ত নালিশি জমি ভোগ দখলে রয়েছেন তার দুই ছেলে সিহাব উদ্দিন এবং সুলতান মিয়া ।
উক্ত বিষয়ে পিতার ওয়ারিশ সুত্রে জমির মালিক সিহাব উদ্দিন বলেন, আমার বাবা ১৯৭৪ সালে এই জমির সাড়ে ১৩ শতাংশ ক্রয় করে চাষাবাদ করেছেন বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা দুই ভাই এই জমিটি চাষাবাদ করে আসছিলাম । একটা পর্যায়ে আমাদের সাংসারিক অভাব অনটন দেখা দিলে গত বছর ২ আগে আমাদের গ্রামের মোবারক আলী মাষ্টার এর পুত্র শামীম আক্তার এর নিকট এই সাড়ে ১৩ শতাংশ জমি খায় খালাশী দেই ।
উক্ত নালিশি জমি বিক্রেতা মৃত মোজদার হোসেন এর পুত্র নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই জমি নিয়ে ঝামেলা তৈরি করে আসছে ।
এরই জের ধরে গত ২ মে শনিবার ভোরের দিকে বাগবাটী ইউনিয়ন যুবদল, ছোনগাছা ইউনিয়ন জামায়াতের কর্মী সহ বেশ কিছু ভারাটিয়া মাস্তান এর সহযোগীতা নিয়ে উক্ত নালিশি জমির খায় খালাশী আবাদী শামীম আক্তার এর লাগানো ধান জোড়পূর্বক ভাবে আধা পাকা অবস্থায় কেটে নিয়ে যান নজরুল ইসলাম পিতাঃ মৃত মোজদার হোসেন, সাহার আলী, জেলহোসেন উভয়ের পিতাঃ মৃত কাদের, আয়নাল হক সহ নাম না জানা আরো কয়েকজন ব্যক্তি ।
ভুক্তভোগী নালিশি জমির খায় খালাশী মালিক শামীম আক্তার চাকরির সুবাদে ঢাকা থাকায় তার বাবা মোবারক আলী মাষ্টার উক্ত জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন । উক্ত বিষয়ে মোবারক আলী মাষ্টার দাবি করেন, তিনি খায় খালাশী সূত্রে নেওয়া জমিতে গত প্রায় দুই বছর ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। শনিবার (২ মে) সকালে তিনি খবর পান, নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা বাগবাটী ইউনিয়ন যুবদলের কিছু নেতা কর্মীদের ব্যবহার করে নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ জমির আধা পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
আমি মোবারক আলী মাষ্টার ঘটনা শোনার পর সেখানে গেলে প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ঘটনাস্থলে না গিয়ে এলাকায় মাতব্বর দের কে বিষয়টি জানাই ।
এ বিষয়ে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ভুক্তভোগী খায় খালাশী আবাদী মোবারক আলী মাষ্টার বলেন যেহেতু আমার ছেলের নামে খায় খালাশী দলিল করা এই জন্য ছেলে ঢাকা থেকে খুব শীঘ্রই এসে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানা যায় ।
উক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম এর কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই জমি আমার। আমার বাবা কিভাবে জমিটি বিক্রি করেছেন তা জানি না । এইজন্য আমি বাগবাটী এবং ছোনগাছা ইউনিয়নের কিছু নেতাকর্মী কে জানিয়ে আধা পাকা ধান কেটে নিয়ে আসি। পরে যা হয় হবে দেখা যাবে ।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি ছুটিতে ছিলাম আজ এসে জয়েন করলাম উক্ত ঘটনার কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জমি বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।