শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নবম পে স্কেল নিয়ে বড় সুখবর, অবশেষে আজ ভেটিংয়ে উঠল প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা চলছে: জামায়াত আমির শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর থেকেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটেন : আইনমন্ত্রী গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কাজীপুরে তেকানী ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় তায়েজ উদ্দিন তাজ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র বড় সাফল্য ৩ কোটির ও বেশি টাকার চোরাচালানী পণ্য জব্দ ‌‘ছট মাইয়া’ সিনেমায় গানের দৃশ্য দেখে পুরোহিত খুব খুশি, বললেন তামান্না শেখ হাসিনার নির্দেশে ইশতিয়াক ডিএমপিতে টর্চার সেল বানান ৫০ বছর পর ফের লজ্জার হারের সাক্ষী ইউনাইটেড প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন আবুল খায়ের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি: অস্তিত্বের সংকট নাকি নতুন উত্থানের হাতছানি?

নিজস্ব প্রতিবেদক,.রফিকুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : 1:28 pm, সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

​পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ বর্তমানে এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে যেমন উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্যের মাধ্যমে জনপদ ও ধর্মীয় অনুভূতির ওপর আঘাত হানার রাজনীতি দেখা যাচ্ছে—ইসলামপুরকে ‘ঈশ্বরপুর’ বলা কিংবা পবিত্র কুরআন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য—তা আসন্ন এক কঠিন সময়েরই ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের পরিস্থিতি যেকোনো সচেতন নাগরিককেই ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য যে, আগামী দিনে রাজ্যের সামাজিক বুনট এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা কোন স্তরে গিয়ে পৌঁছাবে।

​ভোটের পরিসংখ্যান বনাম রাজনৈতিক প্রাপ্তি

​দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের ৩২% মুসলিম ভোটার একটি নির্দিষ্ট ধারা বজায় রেখে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হলো, এই বিশাল জনসমর্থনের বিনিময়ে তাদের প্রাপ্তি কেবল ‘নির্যাতিত না হওয়া’র নিশ্চয়তা। নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন কিংবা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অর্জন আজও অধরা। অথচ একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ৩২% ভোটব্যাংক যেকোনো সরকারের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট।

​স্বতন্ত্র রাজনৈতিক এজেন্সির প্রয়োজনীয়তা

​এতদিন কেবল অন্যদের ক্ষমতায় বসানোর সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায়ের ক্ষমতা হারিয়েছে এই বিশাল জনগোষ্ঠী। সময় এসেছে আত্মোপলব্ধির।

​প্রভাবশালী পক্ষ হওয়া: কেবল ‘ভোটদাতা’ না হয়ে ‘রাজনৈতিক অংশীদার’ হওয়া জরুরি।

​স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর: নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্সি বা স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারলে প্রশাসনকে কেবল প্রভাবিত নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখা সম্ভব।

​সংকট থেকে উত্তরণ: ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিকূল পরিবেশই নতুন নেতৃত্বের জন্ম দেয়। বিজেপির এই আগ্রাসী রাজনীতির মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে যদি একটি সুসংগঠিত এবং স্বতন্ত্র রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে, তবেই দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

​উপসংহার:

পরনির্ভরশীল রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বতন্ত্র সত্তা গড়ে তোলাই হোক আগামীর লক্ষ্য। শোষিত হওয়ার ভয়ে নয়, বরং অধিকার আদায়ের দাবিতে ৩২% মানুষের এই বিশাল শক্তিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার এখনই সময়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com