চাকরীর প্রলোভন দিয়ে অপহরণ ও পরে হত্যা চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪ সিপিসি-২ সদস্যরা। রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র্যাব ৪ এর কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট রাকিব মাহমুদ খাঁন।
র্যাব জানায়, গাজীপুরের বিশ্বাস পাড়ায় বসবাস করতো সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার বাজরা গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে আরিফ হোসেন (১৯)। সে স্থানীয় একটি রং তৈরীর কারখানায় কাজ করতো। গত ২১ জানুয়ারী নিখোঁজ হয় আরিফ।
অপরদিকে, ২৪ জানুয়ারী আশুলিয়ার কলতাসুতি গ্রামের কবরস্থান থেকে বিবস্ত্র এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। লাশটি আশুলিয়া থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। লাশটি সনাক্তের পর নিহত আরিফের বড় ভাই আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রহস্যজনক আরিফ হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে মামলার ছায়া তদন্তে নামে র্যাব-৪ সদস্যরা। উদঘাটন হয় হত্যা রহস্য। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ জানুয়ারী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত মূলহোতা রাজশাহীর সেন্টু সরদার (৩৫) ও তার সহযোগী দিনাজপুরের জমির উদ্দিন (৩৩), সুনামগঞ্জের রাব্বি আহমেদ (২৪), টাঙ্গাইলের জহিরুল ইসলাম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করে। হত্যাকারীরা সাভার ও গাজীপুরের বিভিন্নস্থানে পালিয়ে ছিল।
র্যাব আরও জানায়, আরিফকে গার্মেন্টসে ভাল একটি চাকরী পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে ডেকে আনে সেন্টু। এ সময় জমির উদ্দিন গার্মেন্টেসের ভূয়া জিএম সেজে মোবাইল ফোনে কথা বলে আরিফের সাথে। সুযোগ বুঝে ২১ জানুয়ারী চাকরীতে যোগ দানের কথা বলে তাঁকে অপহরণ করা হয়। এরপর ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় অপরাধীরা। দাবিকৃত টাকা আদায়ে কলতাসুতি গ্রামের গণ কবরে নিয়ে আরিফকে উলঙ্গ করে নির্মম নির্যাতন করে সেন্টু বাহিনী। অবশেষে টাকা না পেয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তাঁকে।
নিহত আরিফের বাবা ওয়াজেদ আলী বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই। চাকরীর প্রলোভন দিয়ে আমার ছেলেকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
র্যাব-৪ সিপিসি ২ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর আরিফ হত্যাকান্ডের ঘটনা বর্ণনা করেছে। তারা ঢাকা ও পাশ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করে এ ধরনের কাজ করে আসছিল।