মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ন

জ্বর হলেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ চিকিৎসকদের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : 3:00 pm, রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

এক থেকে দুই দিনের জ্বর হলেই নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। একই সাথে পরীক্ষায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ শনাক্ত হলে ঘরে বসে না থেকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। এ বছর বিশেষ করে স্কুলগামী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই জ্বর দেখা দিলেই দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর এনএস-১ পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও সিএম পরীক্ষা ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকায় নিয়ে এসেছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন এবং মারা গেছে ৫৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নারী ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। আক্রান্তের মধ্যে শূন্য থেকে ৩০ বছর বয়সী ১০ হাজার ৮২৭ জন; এ বয়সী মারা গেছে ২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২২ জন এবং নারী ৩৭ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগেই ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর তুলনামূলক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৭৩ জন। ২০২৫ সালে যা ছিল ২৩ হাজার ৪১০ জন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত  হয়ে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে এতে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার তুলনায় বর্তমান বছরে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দুটোই কম।

ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় এডিস মশা ধ্বংস করা। এর জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তাই আমাদের সবার উচিত বাড়ির আঙিনা সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যাতে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পানি জমে না থাকে। এডিস মশা ধ্বংসে সকল নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার মাধ্যমে জ্বর কমাতে হবে। এ ছাড়া জ্বরের তীব্রতা বাড়তে থাকলে দ্রুত ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এক-দুই দিনের জ্বর হলেও দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত।

পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বৃদ্ধির আশঙ্কায় দেশের সব হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত শয্যা ও পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com