
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির মুখে আতঙ্কিত না হয়ে সর্বাত্মক সচেতনতা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ভ্যাকসিন বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ না থাকায় এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণই এই মারণব্যাধি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ১৫৬ জন। অন্যদিকে, এ বছর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৯ জন। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে সারাদেশে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং ৪১৩ জন প্রাণ হারান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশা মূলত বাড়ির ভেতরে ও আশপাশের জমা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।
পানি জমতে না দেওয়া: ডাবের খোসা, টায়ার বা অপ্রয়োজনীয় পাত্র ডাস্টবিনে ফেলে দিন।
নিয়মিত পরিষ্কার করা: ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, এসির ট্রে এবং রেফ্রিজারেটরের নিচের পাত্রে যেন কোনোভাবেই টানা পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা: বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, “ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল হাসপাতালে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটি শুরু হতে হবে মানুষের বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মস্থল ও স্থানীয় সমাজ থেকে। বৃষ্টিপরবর্তী সময়ে সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুর বার্ষিক দুর্ভোগ থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান জানান, ডেঙ্গু হলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ: ডেঙ্গু জ্বরে শরীরের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। এ সময় মাথায় পানি দেওয়া ও শরীর মুছে দেওয়ার পাশাপাশি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পরপর জ্বর অনুযায়ী প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে।
পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: ডেঙ্গু চিকিৎসায় শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পানির পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাবের পানি, ওরাল স্যালাইন, ফলের রস ও স্যুপ খাওয়াতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় এডিস মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষা এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের দ্বারে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।