বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 11:00 am, বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যৌথভাবে একটি ‘সেবা মাশুল’ বা শুল্কারোপের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান।

মঙ্গলবার দেশ দুটি এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। একজন ইরানি কর্মকর্তা এবং চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার একটি চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। তবে ওই চুক্তির অংশ হিসেবেই দীর্ঘমেয়াদে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইরান ও ওমানের ওপর। যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক বাণিজ্যিক মডেলের অংশ হিসেবে এই টোল বা শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা মূলত শত শত বছর ধরে চলে আসা মুক্ত নৌ-চলাচলের নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমান চাইছে এই শুল্কের বিষয়টি যেন ‘ঐচ্ছিক’ রাখা হয়, কিন্তু ইরান এটিকে ‘বাধ্যতামূলক’ করার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল বজায় রাখার খরচ মেটাতেই এই অর্থ ব্যবহার করতে চায় মাস্কাট, যা মালাক্কা বা সিঙ্গাপুর প্রণালীর শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওমানের সঙ্গে যদি কোনো যৌথ চুক্তি সম্পন্ন না-ও হয়, তবে তেহরান একতরফাভাবেই এই শুল্ক আরোপ করবে। মূলত ইরানের এমন একতরফা ও বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত এড়াতেই ওমান একটি মধ্যপন্থা বা বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে।

এদিকে ওমানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটন। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ইরান ও ওমান মিলে যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তবে ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়া’ হবে।

ট্রাম্পের মতে, এই প্রণালিটি একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন উগ্র মন্তব্যের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মার্কিন কূটনীতিকদের বেশ বেগ পেতে হয়। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে ওমানি কূটনীতিকরা আশ্বস্ত করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com