
জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান বলেছেন, তার দলকে নিয়ে যে সংশয় ও সমালোচনা রয়েছে তা দূর করার একমাত্র উপায় হলো বিশ্বকাপ জয়। শেষ-৩২ পর্বে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি এ কথা বলেন।
গ্রুপ ‘ই’-তে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করা এবং আইভরি কোস্টকে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ-৩২ নিশ্চিত করেছিল জার্মানি। তবে শেষ ম্যাচে ইকুয়েডরের কাছে হারের পর টুর্নামেন্টে তাদের অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার বোস্টনে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ডি গ্রুপের তৃতীয় দল প্যারাগুয়েকে হারাতে পারলে, শেষ-১৬-তে জার্মানির সামনে শক্তিশালী ফ্রান্সের মতো প্রতিপক্ষ অপেক্ষা করতে পারে।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে নাগেলসম্যান বলেন, “জার্মান জাতীয় দলকে নিয়ে কথা বললে লক্ষ্য থাকে প্রতিটি ম্যাচ জেতা। আগামীকালের ম্যাচ জেতাই এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। প্রত্যাশার চাপ সামলানোর উপায় হলো আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা, ভালো পরিকল্পনা করা এবং খেলোয়াড়দের এমন পরিকল্পনা দেওয়া যাতে তারা মাঠে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তারা যেন মাঠে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিততে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ফুটবলে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই জয়ের ওপর নির্ভর করে। জিতলে সবকিছু নিখুঁত মনে হয়, আর হারলে সবকিছুই খারাপ লাগে। তাই আগামীকাল আমাদের জিততেই হবে।”
সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ কোচ স্বীকার করেন, ইকুয়েডরের বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পরও তার দল “কৌশলগত আত্মহত্যা” করেছে।
যেখানে অন্য অনেক কোচ শেষ গ্রুপ ম্যাচে পরের রাউন্ড নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন, সেখানে নাগেলসম্যান প্রায় পূর্ণশক্তির দলই নামিয়েছিলেন। তবে তার বিশ্বাস, সেই পরাজয়ের কোনো নেতিবাচক প্রভাব দলের ওপর পড়বে না।
তিনি বলেন, “আগামীকাল আমাদের নিখুঁত পারফরম্যান্স দিতে হবে। অনুশীলনে ছেলেদের দেখে আমি খুবই সন্তুষ্ট। আমি নিশ্চিত, তারা আগামীকাল নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেবে।”
প্রথম দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে তিন গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে দারুণ প্রভাব দেখানে কেই হাভার্টজ একাদশে থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর্সেনালের এই ফরোয়র্ড বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে খেলার অপেক্ষায় রযয়েছেন। কারণ আগের দুই বিশ্বকাপেই জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল।
হাভার্টজ বলেন, “আমার মনে হয় বড় ম্যাচ খেলতেই আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। কেন এমন হয় আমি জানি না। তবে এসব ম্যাচে আমি খুব স্বস্তিতে থাকি।”
চেলসি ও আর্সেনালের হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে গোল করা এই ফরোয়ার্ড বলেন, “আশা করি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপেও আমি সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারব।”
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বড় জয়ে দুটি গোল করেছিলেন হাভার্টজ। তবে ইউরো ২০২৪-এ নিজেদের মাঠে ফ্লোরিয়ান রিটজ ও জামাল মুসিয়ালাকে নিয়ে যে আক্রমণভাগ দারুণ ছন্দে ছিল, বিশ্বকাপে এখনো সেই সমন্বয় দেখা যায়নি।
চোটের কারণে হাভার্টজ ও মুসিয়ালার মৌসুম বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খেয়েছেন রিটজ।
হাভার্টজ বলেন, “আমরা খুব কাছাকাছি আছি। কোথায় উন্নতি করা যায়, কীভাবে আরও ভালো হওয়া যায়, এসব নিয়ে আমরা নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা তিনজনই জানি আমাদের পূর্ণ সামর্থ্য এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি এবং সেটাই করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আগামীকালের ম্যাচের আগে আমরা পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যে জিততে পারব। আমরা তিনজনই এর আগে বড় মঞ্চে খেলেছি এবং নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।”