
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশটির মূলধারার রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার ভার্জিনিয়ার হলিডে ইন হোটেলে ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. তিতুমীর বলেন, ‘পতিত সরকার লুটপাট করে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের অর্থনীতি যে সচল থাকল, তার কৃতিত্ব প্রবাসী বাংলাদেশিদের।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের কৃতিত্ব আরও একটু বেশি। কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র তুলে ধরেছিল। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা মূলধারার রাজনীতি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তাহলে দেশের প্রতি আরও বড়ভাবে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।’
ড. তিতুমীর বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজেট বৈষম্যহীন আঞ্চলিক উন্নয়নের সমতাভিত্তিক বাজেট।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ মানে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চান এবং তা শুরু করেছেন।’
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চরম সংকটময় সময়ে জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার লুটপাট করে পালিয়ে গেছে। রেখে গেছে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছে।
ড. তিতুমীর বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পরে একটি বিধ্বস্ত দেশ ও অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব জনগণ দিয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর জনগণ ধ্বংসযজ্ঞ অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব দিয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার হাতে। জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা সেই দায়িত্ব দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততার সঙ্গে পালন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় লুটপাটে পঙ্গু করে দেওয়া অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব জনগণ ভোটের মাধ্যমে তুলে দিয়েছেন তারেক রহমানের হাতে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে এবং জিয়া-খালেদার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও জনআস্থার প্রতিদানে কাজ শুরু করেছেন, যার প্রতিফলন ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জাহিদ খান, মিয়া মজনু, নয়ন বাঙালি ও তুহিন।
ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে।