কুড়িগ্রামে এবার ইসলামী শারী আহ্ নামে এক লক্ষ গ্রাহকের সাথে প্রতারনা করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। পলিসির মেয়াদ শেষে জমানো টাকা সহ লভাংশের জন্য গ্রাহকদের চক্কর কাঁটতে হচ্ছে জেলা ও উপজেলা অফিসে। রাতারাতি অফিস বন্ধ,অফিস স্থানান্তর,অফিস প্রধানের চাকুরী নেই এমন বিভিন্ন অজুহাতেই কেটে যাচ্ছে ৭ বছর। এই ইসলামী নামধারী বীমা কোম্পানীটির চেয়াম্যান বদল হলেও দেশের পিছিয়ে পরা জেলার গৃহে কাজের বুয়া,ভিক্ষুক,দিন মজুর, ঠেলা গাড়ী ও রিক্সা চালকদের এই বীমা অফিসে তিল তিল করে জমানো এক লক্ষ গ্রাহকের এক শত কোটি টাকার সঠিক হদিস মিলছে না। পলিসির জমানো টাকা লভাংশ সহ ফেরত পেতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন এই জেলার গ্রাহকরা।
জানা যায়, ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে পিছিয়ে পরা জেলা কুড়িগ্রামের দরিদ্র ও হত দরিদ্র মানুষদের বোকা বানিয়ে ব্যবসা শুরু করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। ২০০০ ইং সাল থেকে ব্যবসা শুরু করে জেলা,উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন অফিস চালু করে সাধারণ মানুষদের নিকট বীমা জমানোর নামে টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে কোম্পানীটি। অল্প সময়ের মধ্যেই এই জেলায় এক লক্ষ গ্রাহক তৈরি করে ফেলেন কোম্পানীটির কমিশন ভিক্তিক কর্মকতা,কর্মচারী ও বোকাররা। এর পর ২০১৯ ইং সাল হতে শুরু করে দেয়া হয় প্রতারনা। পলিসির মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়া গ্রাহকরা চক্কর কাঁটতে শুরু করে দেন বীমা অফিসে। গ্রাহকরা তাদের জমানো টাকা ও লভাংশ পেতে কর্মকতা,কর্মচারী এবং বোকারদের পিছনে ঘুড়তে ঘুড়তে হয়রান হতে থাকেন। ফারইস্ট এর কুড়িগ্রাম জেলা মডেল জোনাল অফিস জানায়, এই জেলায় এক লক্ষ গ্রাহকের জমানো টাকার লভাংশ সহ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক শত কোটি টাকার মতন। চেয়ারম্যান বদল হয়ে পলিসির মেয়াদ উত্তীর্ণদের বীমা দাবীর টাকা ফেরত দেয়ার সিরিয়াল করা হয়েছে। এতে এই জেলার গ্রাহকের সিরিয়াল রয়েছে অনেক দূরে। এখনো বীমার দাবী পূরন করতে শুরু করেনি কোম্পানীটি। বীমার দাবী পূরন শুরু করলে এই জেলার গ্রাহকদের সিরিয়াল আসতে আরো ৫ বছর লেগে যেতে পারে। বীমার মেয়াদ উত্তীর্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ খারুয়ার পাড় গ্রামের হত দরিদ্র গৃহিনী আফরোজা খাতুন বলেন,আমি মুরগির ডিম,মুষ্টির চাল ও পরিবারের খরচ বাঁচিয়ে বীমার কিস্তি পরিশোধ করেছি। আমার বীমার মেয়াদ শেষ হয়েছে দুই বছর আগেই। দুই বছর ধরে ঘুড়ছি,কিন্তু বীমা দাবীর টাকার কোন হদিস পাচ্ছি না। গত রবিবার অনেক খোঁজার পর জেলা শহরে মডেল জোনাল অফিস খুঁজে পেয়ে সেখানে জানলাম আমার সিরিয়াল নং-১৮৪৭। আমার এই সিরিয়াল আসতে আরো কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। যাদের মাধ্যমে বীমা করেছি এবং কিস্তি পরিশোধ করেছিলাম তারা এখন কেউ এই বীমা কোম্পানীর হয়ে কাজ করেন না। ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় নগরাজপুর গ্রামের খুদ্র কাঁচামাল ব্যবসায়ী নুর আমিন বলেন,ইসলামী শারী আহ্ তাই প্রতিমাসে কষ্ঠ করে পাঁচ শত করে টাকা বীমার কিস্তি পরিশোধ করেছি। পলিসির মেয়াদ শেষ হবার দুই বছর অতিবাহিত হলেও বীমা দাবির টাকার কোন খোঁজ পাচ্ছি না। ইউনিয়ন অফিস রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে। উপজেলা অফিসে গেলে কোন তথ্য জানা যায় না। তাই আজ জেলা জোনাল অফিসে এসে ম্যানেজারের দেখা পাইনি। অফিস সহকারি জানালেন আমার বীমা দাবীর টাকা পাওয়ার সিরিয়াল নং-২৩০১। কবে টাকা পাবো সেই তথ্য তিনি জানাতে পারেননি। উলিপুর উপজেলার সবুজ পাড়া গ্রামের দিন মজুর কামরুল নাহার বলেন,আমি ফারইস্ট এর পলিসি গ্রহণ করে প্রতারনায় পরেছি। আমি ১০ বছরের জন্য এক কালীন পলিসি গ্রহণ করেছিলাম,যার মেয়াদ গত ১৮/৫/২০২৩ ইং শেষ হয়েছে। তিন বছর হয়ে গেলো এখনো বীমা দাবির টাকা পাইনি। এখন জানলাম আমার সিরিয়াল দেয়া হয়েছে- ২৩১৬। কবে টাকা পাবো তা জেলা জোনাল ম্যানেজারো বলতে পারেন না। জোনাল ম্যানেজার নুর সুলতান বলেন, করোনার সময় থেকে ফারইস্ট এর ব্যবসায় ধস নামে। এর মধ্যে সরকারের পট পরিবর্তনের মাধ্যমে কোম্পানীর নতুন চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন। আমাদের নতুন চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম তিনি নোয়াখালি-৫ আসনের বিএনপির এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আমাদের নতুন চেয়ারম্যান গ্রাহকদের বীমা দাবীর টাকা অতিসত্বর পরিশোধ করার চেষ্টা করছেন। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীর এমডি আব্দুর রহিম ভূঁইয়া বলেন,আমরা কোম্পানীর পলিসি গ্রহণকৃত গ্রাহকদের বীমা দাবীর টাকা সিরিয়াল অনুযায়ী অতিসত্বর পরিশোধ করবো।