জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার সংসদীয় আসনগুলো আগাম নির্বাচনি প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে। সম্ভাব্য কিংবা চুড়ান্ত প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজ, নিজ এলাকায় স্থানীয় নেতা-কর্মিদের নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেছেন। সেইসাথে, তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বিজেপিসহ সব দল।
দলীয়ভাবে চূড়ান্ত ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো জেলা। মাঠ গোছাতেও ব্যস্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, কেন্দ্র কমিটি গঠন এবং সদস্য সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে বিএনপি থেকে একাধিক নেতার মনোনয়ন প্রত্যাশা থাকায় দলের ভেতরে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং নেতাকর্মীরা জানান, কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে এবং কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা দেবে, সেটা তারা মেনে নিয়ে তার পক্ষেই কাজ করবেন।
এখন সবার অপেক্ষা কেন্দ্র থেকে চূড়ান্তভাবে কার নাম ঘোষণা আসে।
জানা গেছে, বিএনপি, জামায়াত, বিজেপি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই বেশি। তবে প্রার্থিতার বিষয়ে আপাতত এ জেলায় জাপা এবং এনসিপিসহ অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা নেই।
এদিকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানারে ছেয়ে গেছে শহরের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা।
চারটি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত দ্বীপজেলা ভোলার রাজনৈতিক মাঠ এখন অনেকটাই সরগরম। বিএনপি, বিজেপি এবং জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার মতো। তারাই এখন তৃণমূলে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীরের নাম শোনা যাচ্ছে। তার পক্ষে দলীয় শুভেচ্ছা ব্যানার টানিয়ে রাখা হয়েছে শহরের অলিগলিতে।
বিজেপি থেকে দলের চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের পক্ষে কাজ করছেন নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে জামায়াত থেকে দলের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফার নাম শোনা যাচ্ছে।
ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসন থেকে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম।
এ আসনে জামায়াত থেকে প্রার্থী হচ্ছেন মাওলানা ফজলুল করিম। তবে বিজেপি বা অন্যদলের প্রার্থীদের নাম নিয়ে আলোচনা নেই।
ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে বিএনপিতে এককভাবে মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব নিজামুল হক নাঈমের শোনা গেলেও বিজেপি, জাপা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায় নেই।
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। যাদের মধ্যে সাবেক সংসদ নাজিম উদ্দিম আলম, অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুল্লা, নুরুল ইসলামাম নয়ন রয়েছেন। এছাড়াও জামায়াত থেকে অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে কামাল উদ্দিন আলোচনায় রয়েছেন। অন্যান্য দলের প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি বড় দল, এ দল থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন চাইতেই পারেন। সবচেয়ে বড় কথা কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে, আমরা তাই মেনে নেব। তার পক্ষেই কাজ করব।
জানতে চাইলে জামায়াতের ভোলা জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, ভোলার চারটি আসনেই আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত। আমাদের কেন্দ্র কমিটি গঠন করা শেষ, চলছে সদস্য সংগ্রহ। দল পুরোপুরি গোছানো আছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে এনসিপির ভোলা জেলার প্রধান সমন্বয়ক মেহেদী হাসান শরীফ বলেন, ভোলার চার সংসদীয় আসনে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি, তবে নির্বাচনকে সমানে রেখে আমরা মাঠ গোছাতে ব্যস্ত আছি।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের মতো দ্বীপজেলা ভোলার সর্বত্র সরব হয়ে উঠেছে প্রতিটি জনপদ।