কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রোগীর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগে লুৎফর রহমান (২০) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃত যুবকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (৪ জুলাই) উপজেলার কচাকাটা থানাধীন দক্ষিণ সরকারটারী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল করিম ও আমির হোসেন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর শনিবার সকালে জহুর আলীর ছেলে লুৎফর রহমান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের এক রোগীর ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে তৎক্ষণাৎ লুৎফর রহমানকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয় এবং তার নিকট থেকে দুটি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম বলেন, “এক যুবক ধারালো দুটি অস্ত্রসহ হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে তাকে আটকে রেখে থানা পুলিশকে জানাই।”
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আল হেলাল মাহমুদ জানান, “গ্রেফতারকৃত লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাকে আজ শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
হাসপাতলের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের অস্ত্রসহ প্রবেশের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।