বরগুনার আমতলী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বৈদ্যুতিক মোটরটি নষ্ট হয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী এবং তাদের সঙ্গে আসা স্বজন, ডাক্তার এবং নার্সরা মহাবিপাকে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও আবাসিক ভবনে পানি সরবরাহের জন্য গত বছর একটি নতুন বৈদ্যুতিক মোটর বাসানো হয়। মোটরটি গত বুধবার দুপুরে আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে রবিবার পর্যন্ত পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
রবিবার দুপুরে সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, রোগী এবং স্বজনরা বালতি এবং পানির বোতল ভরে বাহিরের গভীর নলকূপ থেকে পানি নিয়ে আসছেন। অনেক রোগী আবার বাইরে গিয়ে গোসল ও শৌচাগারের কাজ সেরে আসছেন।
রোগীর সঙ্গে আসা শিরিনা বেগম নামের এক স্বজন বলেন, গভীর নলকূপ থেকে পানি ভরে চার তলায় নিয়ে ওঠা খুব কষ্টকর। এভাবে আর পারা যায় না।
ডেঙ্গু জরে আক্রান্ত লিটন কাজী বলেন, ৫ দিন ধরে গোসল করতে পারছি না। শৌচাগারে যেতে পারছি না। শহরের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে গোসল এবং শৌচাগার সেরে আসি।
হাসপাতালের আবাসিক ভবনে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীসহ বসবাসরত চাকরিজীবীরাও পড়েছেন মহাবিপদে।
হাসপাতালের অভ্যন্তরে একটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে ৪টি আবাসিক ভবন। এ সকল ভবনে বসবাসরত চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীরা পানির অভাবে গোসলসহ সাংসারিক কাজকর্ম করতে পারছেন না।
হাসপাতালের আবাসিক ভবনে বসবাসরত নার্স রেবা, সালমা, মোর্শেদা, আখি বলেন, হাসপাতালের পানি তোলার বৈদ্যুতিক পাম্প মেশিনটি নষ্ট হওয়ায় আমরা পানি পাই না। বিকল্প ব্যবস্থায় বাইরে থেকে পানি সংগ্রহ করে তা দিয়ে সাংসারিক কাজ-কর্ম করছি। পানির অভাবে খুব কষ্টে আছি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপ সহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত হালদার বলেন, কি কারণে মোটরটি নষ্ট হয়েছে তা জানি না। দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিম্নমানের মোটর বসানোর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, ভালো মানের মোটর বসানো হয়েছিল।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ বলেন, হাসপাতালে ৫ দিন ধরে পানি তোলার বৈদ্যুতিক মোটরটি নষ্ট হওয়ায় পানির সমস্যা প্রকট আকার ধারন করেছে। সমস্যা সমাধানের জন্য সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে। আশা করি দুই একদিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।