উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী কাজ করছে। এরই মধ্যে আগুন লাগার কারণ নির্ণয় করতে ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেমিকেলের কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে দাবি স্থানীয়দের। অপরদিকে, এত রোগী হাসপাতাল কখনও দেখেনি।আহতদের ৩ জনকে ঢাকায় আনা হয়েছে। স্বেচ্ছায় কাজ করছে বিভিন্ন সংগঠন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী।আরেকজন ফায়ার ফাইটারের লাশ উদ্ধার হতে পারে বলে গণমাধ্যম জানিয়েছে। বাড়ছে লাশের সারি। হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছে লাশ। আহতদের চিৎকার ও স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সীতাকুন্ড ও পার্শবর্তী এলাকা।
কনটেইনারই হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকায় আগুনের ভয়াবহতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দফায় দফায় ঘটছে বিস্ফোরণ
এদিকে নিহত পাঁচজন ফায়ার সার্ভিসকর্মীর মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার নাম মো. মনিরুজ্জামান। তিনি কুমিরা ফায়ার স্টেশনে নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে।
জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের ১৫ কর্মী এখনো সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরও দুই কর্মীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি এলাকায় কাশেম জুট মিল সংলগ্ন বিএম কনটেইনার ডিপোতে শনিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের নিহতের ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
হাসপাতালে জায়গা নেই, তবুও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে আগুনে দগ্ধ এসব মানুষকে। এত দগ্ধমানুষ হাসপাতাল কখনও দেখেনি।
প্রায় ৪’শ জন আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দফায় দফায় কেমিকেল কনটেইনার বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয় এলাকা।
প্রধমদিকে ফায়ারসার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে কনটেইনারের কাছাকাছি চলে যায়। এ সময় কনটেইনার বিস্ফোরণে নিহত ও আহত হন ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। তারা আগুন নেভাতে কাজ করছেন।
আমাদের প্রতিনিধির সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই ভয়াবহতা স্মরণকালের সব ঘটনাকে হার মানিয়েছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুনের কাছে যেতে পারেনি। তাদের সব প্রশিক্ষণ কাজে লাগেনি। তবে, আজ সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহা পরিচালক ঘটনাস্থলে এলে নতুন উদ্যমে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোনাইছড়ির কদমরসুল এলাকায় অবস্থিত ওই কনটেইনার ডিপোতে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আমদানিকৃত একটি কনটেইনারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। অল্পক্ষণের মধ্যেই তা বিভিন্ন কন্টেইনারে ছড়িয়ে পড়ে।