রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সৌদির কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় নিহত ১২, দু’জন বাংলাদেশি ২৭০০ টাকায়ও মিলছে না এলপিজি: সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ ফায়ার সার্ভিসের বদলি নীতিমালা জারি, একই কর্মস্থলে তিন বছর হলেই বদলিযোগ্য ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অভিযানে গ্রেফতার ৫৫ সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রয়োজন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আইপিইউ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন স্পিকার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি হচ্ছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, ঢাকার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশে মারুবেনির বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় কাফকো স্থাপন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনে নতুন পরিপত্র জারি

‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য শিক্ষার্থীদের চাই জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষা’

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 1:52 pm, বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯

সিএনআই নিউজ : শিক্ষার্থীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অধ্যায় থাকলেও তা পড়ানো হয় না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব ও শিক্ষার্থীদের সচেনতার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিতে হবে। আজ বুধবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৈশোর, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার’  শীর্ষক গোলটেবিল অলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ইউনিটি ফর বডি রাইটস (ইউবিআর) বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ও আরএইচআরএন প্লাটফরম আয়োজিত আলোচনায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইউবিআর অ্যালায়েন্স’র প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শারমীন ফাহাত উবায়েদ। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস)-এর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল মান্নান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’র ড. গোলাম আযম আজাদ, আরএইচ স্টেপ’র নির্বাহী পরিচালক কাজী সুরাইয়া সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আকতার, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কানিজ সৈয়দা বিনতে সাবাহ, ইউএনএফপি’র ড. মোহাম্মদ মনির হোসেন, বিএনপিএস’র নাসরিন বেগম প্রমুখ।

সভায় সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব ড. মাহমুদুল হক বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখার জন্য প্রত্যেকটি স্কুলে একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোতে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম তৈরি করা হচ্ছে। স্কুলের নতুন ভবনে এটি থাকা বাধ্যতামূলক। তিনি বলেন, স্কুলে ওয়াশরুম থাকলেও সেটি পরিষ্কার থাকে না। এ জন্য প্রত্যেক বৃহস্পতিবার স্কুলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সচেনতামূলক নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জেন্ডার দৃষ্টিকোন থেকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যকে না দেখলে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব। এ জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেক স্কুলে কাউন্সিলর নিয়োগ দিতে হবে। এরইমধ্যে সরকার এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ইস্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়াও বিতর্ক, খেলাধুলা এবং সাংস্কুতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সচেতনতার কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজের কুসংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. গোলাম আযম আজাদ বলেন, ‘অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সংক্রান্ত অধ্যায়গুলো শিক্ষকরা পড়ান না। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই অধ্যায়গুলো স্টাপলার করে রাখা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়তে না পারে। এই জড়তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

সভায় নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ধর্ম নিরপেক্ষতা, মূল্যবোধ ও জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে সকল নাগরিকের জন্য জেন্ডার সংবেদনশীল জীবন দক্ষতা ও  বিজ্ঞানমুখী কারিগরি শিক্ষা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরত্বারোপ করেন তিনি।’ সভায় মূল প্রবন্ধে বলা হয়, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পাঠ্যসূচিতে প্রজননস্বাস্থ্য ও জীবন দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তাঁরা বিএড কোর্সসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য ও জ্ঞান লাভ করেন। যার ভিত্তিতে তাঁরা এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পরিবর্তনে সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ অবস্থায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তকে প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে জেন্ডার, যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয় ওই প্রবন্ধে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com