সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রী-ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড আইসিটি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসাই আমার শক্তি- সামিউল ইসলাম খান সজীব চেয়ারম্যান প্রার্থী, আমতা ইউপি ভারতের টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়ের মিশনে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ নিউজিল্যান্ডের কানাডার সঙ্গে ‘শিগগিরই’ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে : ট্রাম্প সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে : রিজভী সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাগ্যে এবার কি আছে! সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ : আইজিপি মিষ্টির শূন্য আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সাক্ষাৎ

সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভাগ্যে এবার কি আছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 2:23 pm, সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

ইসরায়েলের রাজনীতিতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিতর্কিত চরিত্রের নাম। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মূলত তিনটি কারণে তিনি বারবার নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন। তবে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি নেতানিয়াহু।

২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দল শক্ত অবস্থানে থাকায় অস্তিত্ব হারাতে পারেন নেতানিয়াহু।
কট্টর নিরাপত্তানীতি, জাতীয়তাবাদী ভোটারদের নিরঙ্কুশ সমর্থন এবং ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর রাজনৈতিক জোট গড়ার অনন্য ক্ষমতাবলে বারবার ভোটে জিতেছেন তিনি। তবে এবার চিত্র পাল্টে যেতে পারে। কারণ, চরম গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য দেশটির জনগণের বড় অংশ তাকে দায়ী করছে। ফলে এর প্রভাব পড়তে পারে ভোটের লড়াইয়ে।

নেতানিয়াহুর বারবার বিজয়ী হওয়ার প্রধান কারণ

‘মিস্টার সিকিউরিটি’ বা নিরাপত্তার প্রতীক ইমেজ : নেতানিয়াহু নিজেকে ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষার একমাত্র অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ভোটারদের কাছে সফলভাবে তুলে ধরেছেন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের তীব্র বিরোধিতা, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং হামাস-হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে তিনি নিজের শক্তির প্রধান হাতিয়ার বানিয়েছেন।

ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর মেরুকরণ : ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা মূলত কোয়ালিশন বা জোটভিত্তিক। নেতানিয়াহু কট্টর ডানপন্থী এবং অতি-অর্থোডক্স (আল্ট্রা-অরথোডক্স) ইহুদি দলগুলোকে এক সুতোয় বেঁধে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত পারদর্শী।

রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা ও ক্যারিশমা : দুর্নীতির মামলা, দেশজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভ এবং তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি বারবার খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।
তার কট্টর সমর্থকদের বড় অংশই যেকোনো পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্বের ওপরই ভরসা রাখে।

এবার কী? (২০২৬ সালের নির্বাচন)

আগামীকাল ২৭ অক্টোবর এই নির্বাচনের বর্তমান চিত্র

নেতানিয়াহুর অস্তিত্বের লড়াই ৭ অক্টোবরের চরম গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য ইসরায়েলের একটি বড় অংশের মানুষ নেতানিয়াহুকে দায়ী করে। নির্বাচনের ঠিক আগের দিনগুলোতেও তেল আবিবের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ তার পদত্যাগ ও বিচার বিভাগীয় সংস্কারের বিরোধিতায় তীব্র বিক্ষোভ করেছে। তবে নেতানিয়াহু পদত্যাগ না করে গাজা ও লেবাননে সামরিক সাফল্য এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আক্রমণকে পুঁজি করে ভোটারদের পুনরায় আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কে?

নেতানিয়াহুর প্রধান চ্যালেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক সামরিক বাহিনী প্রধান গাদি আইজেনকোট। আইজেনকোটের নতুন দল ‘ইয়াশার’ নির্বাচনে ভালো করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন ক্যাবিনেট থেকে পদত্যাগ করেছিলেন এবং ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার ওপর একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে?

বর্তমান জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার কোনো পক্ষের জন্যই সরকার গঠন করা সহজ হবে না।

ত্রিশঙ্কু পার্লামেন্ট (ডেডলক) : ১২০ আসনের নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার ডানপন্থী জোট যেমন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) না পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তেমনি বিরোধী জোটেরও সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল।

নেতানিয়াহুর কৌশল : একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে নেতানিয়াহু হয়তো এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইবেন, যাতে অন্য কেউ সরকার গঠন করতে না পারে, যার ফলে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে পারেন।

ভোট শুরু ও শেষ (সময়সূচি) ভোট শুরু : সাধারণত স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

ভোট শেষ : রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তাদের বুথফেরত জরিপ (Exit Polls) প্রকাশ করবে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলে নির্বাচনের দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।

সর্বশেষ জনমত জরিপ (Polls)

ভোটের ঠিক আগে (২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে প্রকাশিত) সর্বশেষ জরিপগুলোতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থার (Deadlock) আভাস পাওয়া গেছে।

নেতানিয়াহুর জোট : বিভিন্ন জরিপে (যেমন- Kan এবং Channel 12) নেতানিয়াহুর জোট সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিরোধী জোট : গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির ৫২ থেকে ৫৪টি আসন পেতে পারে।

আরব দলসমূহ : বাকি আসনগুলো আরব দল এবং অন্যান্য ছোট দলগুলোর কাছে যেতে পারে। কোনো পক্ষই এককভাবে বা তাদের স্বাভাবিক জোটসঙ্গীদের নিয়ে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পাচ্ছে না, ফলে নির্বাচন-পরবর্তী কোয়ালিশন আলোচনা অত্যন্ত জটিল হবে।

ফলাফল প্রকাশ

প্রাথমিক ফলাফল: ভোট শেষ হওয়ার পর রাতেই (২৭ অক্টোবর) অনানুষ্ঠানিক ও বুথফেরত জরিপের ফলাফল চলে আসবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভোট গণনা সম্পন্ন হবে।

অফিশিয়াল নিশ্চিতকরণ : ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আগামী ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা ও নিশ্চিত করবে। (ফলাফলের বিরুদ্ধে আপিল করার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর ২০২৬)।

এবারের নির্বাচনটিকে মূলত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর একটি গণভোট (Referendum) হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি নেতানিয়াহুর তিন দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, যেখানে ভোটাররা ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার জন্য তাকে শাস্তি দেবেন নাকি তার কঠোর যুদ্ধের নীতিতে আস্থা রাখবেন, তা নির্ধারিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com