শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৫৩ অপরাহ্ন

আর্জেন্টিনায় আমি কখনো বর্ণবাদের শিকার হইনি, বললেন রামোস

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 11:32 am, শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

ভেলেজ সার্সফিল্ডের তরুণ উইঙ্গার কিকি রামোস অবশেষে মুখ খুললেন। হাইতিতে জন্ম নিলেও পরে আর্জেন্টাইন নাগরিকত্ব পাওয়া এই খেলোয়াড় দিয়েগো প্লাসেন্তের অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। একটি সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। এর মধ্যে ছিল ২০১০ সালে মধ্য আমেরিকার দেশটিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পের বিষয়ও।

২০০৯ সালে আর্জেন্টাইন নাগরিকত্ব পাওয়া হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার স্টিফেন ‘কিকি’ রামোস রেডিও লা রেডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীরবতা ভাঙেন। দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে অভিষেকের পর তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন। দেশটিতে বর্ণবাদের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবর কীভাবে জানতে পারলেন, সব কিছু নিয়েই কথা বলেন তিনি।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-১ ব্যবধানে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করে আসা এই তরুণ ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আর্জেন্টিনায় আসার পর থেকে আমি কখনো বৈষম্যের শিকার হইনি। নিজেকে কখনো অন্যদের থেকে আলাদা মনে হয়নি। আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনা বর্ণবাদী – এই কথাটা মানুষ শুধু বলার জন্যই বলে। আর্জেন্টিনা একটা সুন্দর দেশ।’

এরপর জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তে তিনি কী করছিলেন, তার বর্ণনা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি তখন অনলাইনে গণিতের ক্লাসে ছিলাম, ভেলেজের আমার ফিজিক্যাল ট্রেইনারের কাছ থেকে একটা মেসেজ পাই। তাতে লেখা ছিল অভিনন্দন, কিন্তু আমি ক্লাসে এতটাই মনোযোগী ছিলাম যে মেসেজটা ঠিকভাবে খেয়াল করিনি। এরপর বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক মেসেজ আসতে শুরু করে। যখন আমার ফিজিক্যাল ট্রেইনারের মেসেজে ঢুকি, সেখানে লেখা ছিল ‘এএফএ’। প্রথমে আমি ভুল পড়েছিলাম মনে করেছিলাম, তারপর বিশ্বাসই করতে পারিনি। ক্লাস থামিয়ে দৌড়ে গিয়ে বাবা-মাকে খবরটা জানাই।’

২০১০ সালে হাইতিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পের বিষয়েও কথা বলেন তিনি। ওই ভূমিকম্পে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং দেশটির বেশিরভাগ এলাকায় নেমে এসেছিল অপরিমেয় মানবিক সংকট। তিনি বলেন, ‘এর আগেই সব কাগজপত্রের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল, ভূমিকম্প হওয়ার সময় আমি তখনও এতিমখানাতেই ছিলাম। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমি ছিলাম সেই শিশুদের একজন, যাদের কিছু হয়নি।’

কিছুদিন পর তিন হাইতিয়ান শিশুসহ তার বাবা-মা দেশে পৌঁছান, যাদের সঙ্গে আগে কিকির নিজেরও পরিচয় ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি যখন একটু বড় হই, তখন এই গল্পটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি। তবে বাবা-মা আমার আর আমার ভাইবোনদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো হাইতিতে যাইনি, আজ আর্জেন্টিনায় যে জীবন আছে তাতেই আমি ভালো আছি। ফিরে যাওয়ার কথা কখনো ভাবিওনি, তবে হয়তো বয়স বাড়লে এই বিষয়ে আগ্রহ জন্মাতে পারে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com