
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে মঙ্গলবার রাতে সুইডেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশ্যম তাঁর দলকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘হারানোর কিছু নেই’-এমন মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামা সুইডেনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সোমবার নিউইয়র্ক সিটির বাইরে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমকে দেশ্যম বলেন, “সুইডেন টিকে থাকার চাপে খেলছে না। অবশ্যই তারা ম্যাচ জিততে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, কিন্তু তাদের হারানোর কিছু নেই। আমাদের বিনয়ী থাকতে হবে, দৃঢ়তা ও মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচ জেতায় আমাদের কিছুটা ভুল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু এখন আর দ্বিতীয় কোনো সুযোগ নেই।”
মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দিতে দেশে ফিরে যাওয়ায় দেশ্যম নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৪-১ গোলের জয়ের ম্যাচটি মিস করেন। শনিবার তিনি আবার দলের ঘাঁটি বোস্টনে ফিরে আসেন।
২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া ফ্রান্স এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপে এসেছে।
গ্রুপ পর্বে তাদের শুরুটা কিছুটা নড়বড়ে ছিল। সেনেগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধে তারা প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি। তবে নিউ জার্সিতে সেই ম্যাচটি ৩-১ গোলে জয়ের পর ফিলাডেলফিয়ায় ঝড়ের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলে হারায় তারা। এরপর বোস্টনে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে নামা নরওয়েকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে।
লেস ব্লুজরা গ্রুপ পর্বে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট অর্জন করা মাত্র তিনটি দলের একটি। অন্য দুটি দল হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও এবং সহ-আয়োজক মেক্সিকো। গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের করা ১০ গোলও ছিল সর্বোচ্চ। সমান সংখ্যক গোল করেছে জার্মানী ও নেদারল্যান্ডসও।
নকআউট পর্ব শুরুর আগে দেশ্যম বলেন, “আমাদের শুধু আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে, তবে এখন থেকে সবকিছু নতুন করে শুরু হচ্ছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী, তবে এটাও জানি যে এখন প্রতিপক্ষের মানও আরও বেড়ে যাবে।”
বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে সর্বশেষ স্থান পাওয়া পরও উয়েফা নেশন্স লিগে পারফরম্যান্সের সুবাদে প্লে-অফে সুযোগ পেয়ে বিশ্বকাপে আসে সুইডেন। গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে হারলেও তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এবং জাপানের সঙ্গে ড্র করার সুবাদে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে তারা শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়।
দেশ্যম বলেন, “তারা ভালো দল, খুবই অ্যাথলেটিক। এছাড়া ভিক্টও গায়োকেরেস, আলেক্সান্দার ইসাক ও এন্থনি এলানগার মতো খেলোয়াড় থাকায় আক্রমণভাগেও তাদের অনেক গুণগত মান রয়েছে।”
কোনো বড় টুর্নামেন্টে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল ইউরো ২০১২’তে। তখনও দেশ্যম ফ্রান্সের দায়িত্ব নেননি দেশ্যম।
দেশ্যম জানান, সামান্য পেশির চোটের কারণে ফরোয়ার্ড মার্কোস থুরামের খেলার সম্ভাবনা কম। অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তেকে নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
অন্যদিকে, পিঠের ব্যথার কারণে নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকা সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবার মূল একাদশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।