সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবীতে এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে আনন্দ মোহন কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ সহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ময়মনসিংহ টাউনহল অভিমুখে যাত্রা করেন। বেলা প্রায় ১২:০০টার দিকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী টাউনহল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এছাড়াও শহরের অন্যান্য পয়েন্টেও বহু শিক্ষার্থী অবস্থান নেন। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, একই সাথে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর সশস্ত্র হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন। এসময় বিভিন্ন শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা।
উল্লেখ্য, ‘আমি কে তুমি কে, রাজাকার রাজাকার’ এই শ্লোগান দেওয়ার প্রেক্ষিতে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিরোধীদলের ইন্ধন রয়েছে দাবী করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কঠোর হস্তে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ সহ ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী৷ তাদের মতে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের এই শ্লোগান স্বাধীনতার চেতনা বিরোধী এবং আন্দোলনকারীরা স্বঘোষিত রাজাকার। তাই তাদের এ দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আন্দোলনকারীদেরকে রাজাকারের বাচ্চা বা নাতি-পুতি বলেননি বলেও তারা দাবী করেন। তাদের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর কথার ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীদের একজন জানান, গত ১৪ জুলাই বাংলাদেশ টেলিভিশন-এর ইউটিউব চ্যানেলে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন’ শিরোনামে আপলোডকৃত একটি ভিডিও-র ৪১ মিনিটে একজন সাংবাদিকের একটি কথার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তার মানে কি, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাতি-পুতিরা কেও মেধাবী না, যত রাজাকারের বাচ্চারা নাতিপুতিরা হলো মেধাবী, তাই না?” যেহেতু কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী কথাটি বলেছেন, আর মেধার ভিত্তিতে চাকরী দেওয়ার দাবীটি সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তুলেছেন, তাই ‘রাজাকারের বাচ্চারা নাতিপুতিরা হলো মেধাবী’ এই কথাটির দ্বারা প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদেরকেই রাজাকারের সন্তান বা নাতিপুতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলে তারা মনে করছেন। তার প্রতিবাদে তারা ‘আমি কে তুমি কে, রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে, সরকার সরকার’ এই শ্লোগানটি দিয়েছেন। তারা এটা বলেছেন আইরনি অর্থাৎ কঠোর এবং বিদ্রূপাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে। প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেদেরকে রাজাকার বলে ঘোষণা দেননি।
এদিকে কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনকারীদেরকে সাহায্য করার জন্য ছাত্রদল সহ আওয়ামীলীগ বিরোধী বিভিন্ন দল ও মতের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন কেও কেও।