
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। রবিবার (১ নভেম্বর) শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষ ও দিনভর উত্তেজনার পর দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে, বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকাল থেকেই গাজীপুরের কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে এসব এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
উত্তেজিত শ্রমিকরা কয়েকটি স্থানে পুলিশ বক্সে আগুন দেন এবং কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করেন বলে জানা গেছে।
একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কাজে যোগ না দিয়ে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে।
লাঠিসোঁটা ও লোহার পাইপ হাতে হাজারো শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।
আন্দোলনকারীরা সড়কের মাঝখানে কাঠসহ বিভিন্ন বস্তুতে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা একটি পুলিশ বক্সেও আগুন দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়েন সংবাদকর্মীরাও।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, শফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
পরে পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। এরপর মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হলে যান চলাচল শুরু হয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘শ্রমিকরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আশপাশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’