শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন

৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জে যমুনা ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শেষ

টি এম কামাল
  • আপডেট সময় : 10:54 am, শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
 সিরাজগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এতে ভয়াবহ ভাঙন থেকে বহু বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্রমাগতভাবে যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে যমুনার বিভিন্ন স্থানে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। এতে যমুনা নদীর তীরবর্তী কাজিপুর, চৌহালী, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে এসব ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সরকারি বিধিমতে প্রায় ৫৫ জন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে প্যাকেজ ভিত্তিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভাঙন প্রতিরোধে যথাসময়ে কাজ শুরু করে।
ভাঙনকবলিত এসব স্থানে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হয়। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে চৌহালীর চর সলিমাবাদ, ভুতের মোড়, সদিয়া চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ সদরের ভাটপিয়ার, পূর্ব বাহুকা ও কাজিপুরের মেঘাই ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। তবে চৌহালীর জনতা স্কুলের সামনে, বেলকুচির মূলকান্দি ও কাজিপুরের নিশ্চিন্তপুর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিকে শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (হেড কোয়ার্টার) নাজমুল হোসাইন জানান, এসব ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় ভয়াবহ ভাঙন থেকে স্থানীয়রা রক্ষা পেয়েছেন। বিশেষ করে বহু বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা পেয়েছে। তিনি জানান, এসব ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলাকালীন স্থানীয় এমপি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তারা কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় না নেওয়ার নির্দেশনা দেন। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে এসব কাজ তদারকি করেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শেষ করা হয়েছে। তবে ২/৩টি ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম দিকে শেষ হবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় যমুনা পাড়ের মানুষ উপকৃত হয়েছে এবং বহু বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা পেয়েছে। এ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। যমুনা নদীর ভাঙন এলাকা নিয়মিতভাবে সার্ভে করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। #

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com