
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর খাল খনন এবং বৃক্ষরোপন কর্মসূচির আওতায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল খননের পর খালের দুই পাশে শুরু বনায়নের কাজ। দুই ধারে লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতীর গাছের চারা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) এর আওতায় ১কোটি ২১ লাখ ১৭৮৪ টাকা ব্যয়ে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি বিলের দুই ধারে ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের এখন পর্যন্ত খনন হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ। সমাপ্তকৃত খালের দুই পাশে ১হাজার ৫শ গাছের চারা রোপনের মধ্যে ১০ জুলাই শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৩শ চারা রোপন এবং ঘেরা দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকালে কুর্শা ইউনিয়নের শিবু দোলারপাড় এবং সরদার পাড়া এলাকায় খাল খনন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খালের পাশে লাল সবুজ নেট দিয়ে ঘেরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা লাগানো দেখে মনে এটা যেনো লাল সবুজের বাংলাদেশ।
সরদারপাড়া এলাকায় খালের পাড় দিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে যাওয়া দুই জন শিক্ষার্থী বলেন, পাড় বেধে দিয়ে আমাদের অনেক সময় বাচিয়ে দিয়েছে। আগে অনেক দুর ঘুরে বাড়ি যাওয়া লাগতো আর এখন খুব অল্প সময়ে বাড়ি থেকে স্কুলে যাইতে পারি।
শিবু দোলারপাড় এলাকার খালের উপর বসাবাসরত কয়েকজন গৃহীনি বলেন, এর আগে এই খালটি খনন করা হলেও আামদের তেমন কোন কাজে লাগে নাই। এবার যেভাবে খাল খনন করেছে তাতে বাড়িতে আর পানি জমে থাকবে না। তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে মাটি ঠিকমতো থাকেনা। দিনের বেলা মাটি কাটে রাতে বৃষ্টিতে আবার ধুয়ে যায়। এর আগে গাছের চারা রোপন করে নাই। এবার চারা গুলো রোপন করার কারণে আরো ভালো হয়েছে। তারা বলেন গাছে ফল আসলে তো সরকার নিয়ে যাবে না, আমরা এলাকাবাসি ভোগ করবো।
ওই এলাকার ফজলুর হক সরদার বলেন, খাল খননের ফলে এই এলাকার কৃষির চিত্র বদলে যাবে। পাইপ দেয়ার কারণে বর্ষার সময় জমির পানি নেমে যাবে। গভীর হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি জমিতে ব্যবহার করা যাবে। বর্ষা কালে এই খালে মাছ চাষ করে এলাকার মানুষ পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারবে। খাল পুনঃখননের ফলে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের ফসলে সেচের সুবিধা বাড়বে এবং কৃষি জমির উর্বরতা ফিরে আসবে। এছাড়া খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশ রক্ষা পাবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ মেজবাহুর রহমান বলেন, গত ১২মে জেলা প্রশাসক মহোদয় খাল খনন এবং বৃক্ষরোপন উদ্বোধন করার পর থেকে কাজ চলছে। প্রতিদিন ২৬৮ জন শ্রমিক ৪০ দিন কাজ করার কথা থাকলে এখানো খননের কাজ বাকি আছে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কুর্শা ইউনিয়নে ৩ দশমিক ৩০০ কিলোমিটার খাল খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মাটি হওয়ায় বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় ভাঙ্গন দেখা যাচ্ছে। খালের দুই ধারে বিভিন্ন প্রজাতির দেড় হাজার গাছের মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত ৩ শ চারা রোপন করা হয়েছে। কাজ চলমান আছে অল্প সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট চারা রোপন এবং খাল খননের কাজ শেষ করা যাবে।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ তানিয়া আক্তার বলেন, এখন প্রায় জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা যায়, বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কৃষককে আর জলাবদ্ধতায় ভুগতে হবে না। ওই এলাকার কৃষকের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। খালের দুই ধারে বৃক্ষ রোপনের ফলে ভুমিধসের সম্ভনা আর থাকবে না।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোছাঃ পাপিয়া সুলতানা বলেন, বৃষ্টির কারণে খনন কাজে কিছুটা বিঘœ হচ্ছে । তবে বৃষ্টি শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।