শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বান্দরবানে ৪ পর্যটককে উদ্ধার করেছে বিজিবি হতাশাজনক বিশ্বকাপের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ভিনিসিয়াস আমাকে হত্যার চেষ্টা হলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন’ করা হবে: ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় সম্মত ট্রাম্প, তবে বললেন যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে কৌশলগত তেলের মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা অনুমোদন ভারতের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সঠিক চিকিৎসাই স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে : প্রধানমন্ত্রী জয়পুরহাট সীমান্তে পুশইন ঠেকাল বিজিবি কাজিপুরে তিন সেতুর অভাবে ধুঁকছে লাখো মানুষ চট্টগ্রামের বন্যা মোকাবিলায় এনসিপির রেসপন্স টিম গঠন দেশের ১৬ জেলায় ঝড়বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

বিপাকে শ্রমজীবীরা! পাইকগাছায় টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : 10:59 am, শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
 খুলনার পাইকগাছায় টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় নিম্নচাপের প্রভাবে গত ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শুক্রবারও (১০ জুলাই) অব্যাহত রয়েছে। একটানা বর্ষণে ভ্যাপসা গরম কমলেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, রাস্তাঘাট জলমগ্ন এবং জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও মৎস্যজীবীসহ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর সদর, বাণিজ্যিক নগরী কপিলমুনি সহ বিভিন্ন বাজারের সড়কে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ব্যস্ত বাজার ও সড়কগুলোতে দেখা দিয়েছে এক ধরনের নীরবতা। তার উপর বাণিজ্যিক নগরী কপিলমুনি বাজারে বৃষ্টির পানিতে কংক্রিটের সহ কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কৃষিকাজ, নির্মাণকাজ এবং খোলা আকাশের নিচে অধিকাংশ শ্রমনির্ভর কাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমজীবী মানুষ। সরল গ্রামের দিনমজুর কবিরুল বলেন, টানা বৃষ্টিতে কোনো কাজ করতে পারিনি। সংসারের বাজার কীভাবে করব, সেটাই এখন বড় চিন্তা। ভ্যানচালক সবির জানান, যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে যাওয়ায় সারাদিন ভিজে থেকেও কাঙ্ক্ষিত আয় হচ্ছে না। একই ধরনের সংকটের কথা জানান দৈনিক শ্রমিক রেজাউল। তিনি বলেন, একদিন কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না। সেখানে এত দিনের বৃষ্টিতে কাজ নেই। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। বৃষ্টিতে কাঁচা সড়কগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী স্বপ্না জানান, স্কুল-কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী ও মৎস্যঘেরে স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। কেনাবেচা অনেক কমে গেছে। তবে কৃষকদের একাংশের মতে, আষাঢ়ের এই বৃষ্টি আমন চাষের জন্য উপকারী। যদিও অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে আমনের বীজতলা ও কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কোথাও যাতে জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com