বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিইসি শপথ ভঙ্গ করেছেন : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনারা জেন-জি রিপ্রেজেন্ট করেন, জামায়াত জেনারেশন হইয়েন না : পার্থ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান হাকিমপুরে মাদ্রাসা ছাত্র বলাৎকারঃ মহতামিন আটক বিরামপুর সরকারি টিনের জন্য একই ছবি দিয়ে ৭শত আবেদন শেরপুরে অতিরিক্ত বিল আদায়ে রাজি না হওয়ায় হোটেল কর্মচারীকে পিটিয়ে জখম মালিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ পাইকগাছায় মজুদ  ৪’শ লিটার তেল জব্দ; ৫ হাজার টাকা জরিমানা  ঘোড়াঘাটে এক ব্যবসায়র ওযার্কশপ থেকে ১৬৭১ লিটার আটক জব্দ দ্বন্দ্ব ও সংবেদনশীল এইচআরবিএ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার-বীজ দেবে সরকার

সিরাজগঞ্জে পথের ধারে অযত্নে বেড়ে ওঠা ভাট ফুল মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে

টি এম কামাল :
  • আপডেট সময় : 4:16 pm, শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬

শীত বিদায় নিয়ে প্রকৃতিতে ঋতুরাজের মাঝামাঝি অবস্থা। চারদিকে ধুলোর মাঝে প্রকৃতির রুক্ষতার জানান দিচ্ছে। এরইমধ্যে একেবারেই অনাদর আর অবহেলায় জন্ম নিয়ে বেড়ে উঠেছে বাংলাদেশের আদি ফুল ভাটফুল বা বনজুঁই। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন গ্রামীন সড়কের পাশে সাদা ধবধবে এই ফুল এখন সহজেই মানুষের নজর কেড়েছে।

শুরুটা হয়েছে ঋতুরাজের আগমনের পর থেকেই। ঝোপ-ঝাড়ে, বন-জঙ্গলে, সড়ক ও গ্রামীণ মেঠোপথের দু’ধারে, নদী-খাল-দিঘী ও জলাশয়ের পাড়ে, গ্রামীণ পরিবেশের আনাচে-কানাচে, থোকায় থোকায় ফোটা এই ফুল পথচারীদের মাঝে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছে। এ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মানুষের পাশাপাশি মুগ্ধ প্রকৃতির মধুজীবী প্রাণিকুলও।

সরেজমিনে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চিরচেনা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ ভাটিফুল তার অপরূপ সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়েছে। স্থানভেদে এটির নাম ভাটি ফুল, ভাটফুল, ঘেটু ফুল, ভাত ফুল, ঘণ্টাকর্ণ থাকলেও ক এ এলাকায় ‘ভাটির ফুল’ বা ভাইটার ফুল নামেই বহুল পরিচিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ভাটি পূজায় এই ফুল ব্যবহার করে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্লোরোডেনড্রাম ভিসকোসাম। এই ফুল ল্যামিয়াসেই পরিবারভূক্ত। এটি ইনফরচুনাটাম প্রজাতির। ভাটি ফুল দেশজ গুল্ম জাতীয় বুনোফুল। ছোট আকৃতির নরম শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট ঝোপ জাতীয় গাছে ভাটি ফুল ফোটে। ফুলের রং সাদা। পাঁচটি পাপড়ি। প্রতিটি ফুলের অভ্যন্তরে বেগুনি রঙের ঢেউ যেন ব্রাশ দিয়ে টেনে দেওয়া হয়েছে। রাতে ভাটিফুল সুবাস ছড়ায়।

এটি একটি ওষধি উদ্ভিদ। এর পাতা কবিরাজরা অ্যাজমা, টিউমার, সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করেন। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা জ্বর, চর্মরোগ ও বিছার হুল ফোটানোতে এর পাতা, ফল, ফুল ও মূল ভেষজ হিসেবে ব্যবহার করেন।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের সর্বত্রই ভাটি ফুলের কম বেশি দেখা মেলে। তবে বহু বিলুপ্ত উদ্ভিদের মতো ভাটি ফুলও বিলুপ্তির দিকে। আমিনা মনসুর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আফরোজা নৌশিন জানান, ভাটি ফুল ফুটলেই নিশ্চিত হওয়া যায় প্রকৃতিতে বসন্ত প্রবেশ করেছে। শীত শেষে ভাটি ফুল ফুটলে প্রকৃতির চেহারায় সতেজতার ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আরেক শিক্ষার্থী তাসমিন জানান, কলেজে আসা-যাওয়ার পথে ভাটি ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি। গ্রামীণ পরিবেশে এ ফুলের সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com