জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় স্ত্রী হত্যা ও আলামত ধ্বংসের মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদন্ড ও অপর দুজনকে কারাদন্ড প্রদান করেছে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।
মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তরা হচ্ছে- নিহত গৃহবধু তপতি রানীর সতীন (২য় স্ত্রী) শ্রীমতি প্রতিমা রানী (৪৫), তার পুত্র আকাশ চৌধুরী (২৫) ও দেবর কাজল মহন্ত (৩০)।
এই মামলার অন্যতম আসামী নিহত গৃহবধু তপতি রানীর স্বামী সাধনানন্দ চৌধুরীকে (৬২) বয়স বিবেচনায় আমৃত্যু কারাদন্ড এবং অপর আসামী জীবন চৌধুরীকে ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়।
আজ (বুধবার) বিকেলে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম রেজাউল বারী এই আদেশ প্রদান করেন ।
দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম জানান, স্ত্রী হত্যার ঘটনাটি সন্দেহাতিতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার অন্যতম আসামী নিহত গৃহবধু তপতি রানীর স্বামী সাধনানন্দ চৌধুরীকে (৬২) বয়স বিবেচনায় আমৃত্যু কারাদন্ড, অপর আসামী নিহত গৃহবধু তপতি রানীর সতীন শ্রীমতি প্রতিমা রানী (৪৫), তার পুত্র আকাশ চৌধুরী (২৫) ও দেবর কাজল মহন্তকে (৩০) মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেয়া হয়। আসামী জীবন চৌধুরীকে ১০ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়।
দিনাজপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো: মনিরুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাতে গৃহবধু তপতি রানীকে তার স্বামী সাধনানন্দ চৌধুরী, তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রতিমা রানীর পুত্র আকাশ চৌধুরী, কাজল ও জীবনের সহায়তায় তপতি রানীকে নিমর্মভাবে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নিহত তপতি রানীর লাশ হত্যার পর দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুর গ্রামের বাঁশ ঝাড়ে ফেলে রাখে। পরদিন ৭ এপ্রিল লাশ আগুনে পোড়ানোর প্রস্তুতি নিলে তপতি রানীর একমাত্র পুত্র কাষ্টমস্্ কর্মকর্তা শুভনন্দ চৌধুরী (৩২) পুলিশের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের পর দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এই ঘটনায় দন্ডিত ৫ জনকে আসামী করে শুভনন্দ চৌধুরী বাদী হয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাদী পক্ষে ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দন্ডিত আসামীদের সকলেই জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।