
নিরাপদ কর্মস্থল, জীবন যাপন উপযোগী মজুরি ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গিকার নিয়ে হাজার হাজার শ্রমিক আজ মে দিবস উদযাপন করছেন। কিন্তু আমেরিকার শিকাগোতে যে শ্রমিকদের জীবন দানের উপরে ঐতিহাসিক মে দিবস সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে সেই আমেরিকাতেই মে দিবস স্বীকৃতি পায়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
রোববার (১ মে) মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পুরানা পল্টনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি নিজেদের অধিকার অর্জন ও রক্ষায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহবান জানান।
বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও বিভিন্ন এলাকা থেকে বর্ণিল মিছিল নিয়ে তারা রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সমবেত হয়েছেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের মে দিবসের সমাবেশে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘গার্মেন্টস কারখানার মালিকদের অতি মুনাফার শিকার হয়েছেন সারাকা গার্মেন্টস থেকে শুরু করে রানাপ্লাজা ধসে নিহত কয়েক হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক। তিনি বলেন, ‘তাজরিনের অগ্নিকান্ডের পর সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের কারখানায় ইউনিয়ন গঠনের অধিকার দিলেও কারখানা মালিকরা ইউনিয়ন করার অপরাধে গার্মেন্টস শ্রমিকদের নির্যাতন চালাচ্ছে।’

সভাপতির বক্তৃতায় শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিন রানাপ্লাজা ও তাজরিন ট্রাজেডির মত ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সকল গার্মেন্টস কারখানাকে নিরাপদ কর্মস্থল হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কারখানা মালিক, বায়ার ও শ্রমিকের একত্রে কাজ করার আহবান জানান।
তিনি অবিলম্বে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবন যাপন উপযোগী মজুরি প্রদানের জন্য কারখানা মালিক, বিজিএমইএ বায়ার ও সরকারের নিকট দাবি জানান। জনাব আমিন ইউনিয়ন করার অপরাধে শ্রমিক ছাটাই ও নির্যাতন বন্ধ করার আহবান জানান।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মিস সাফিয়া পারভিন ও সহ-সভাপতি মো. ফারুক খান প্রমুখ।
হাজার হাজার শ্রমিক লাল, সবুজ, বেগুনি পতাকা ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে পল্টন মোড়ে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের মে দিবসের র্যালিতে যোগদান করে। ঢাকা রুটি বিস্কুট ও কনফেশনারি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র গার্মেন্টস শ্রমিকদের এই জমায়েতে যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করে।