মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন

কাজে আসছে না কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু, ভরসা সাঁকো; বেড়েছে চরম দুর্ভোগ!

জয়ন্ত সাহা যতন, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : 5:18 pm, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬
খালের উপর সেতু নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার জন্য নেই সড়ক। ফলে বাধ্য হয়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো বেয়ে উঠতে হচ্ছে পথচারীদের। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলেও অ্যাপ্রোচ সড়ক না হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়াইকান্দি গ্রামের খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুটি দৃশ্যত সম্পূর্ণ হলেও দুই প্রান্তে অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। সেতুর দুই পাশে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেছেন। সময়ের সঙ্গে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা অন্য কোনো ছোট-বড় যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও পারাপার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুল-কলেজগামী অনেক শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল কাঁধে নিয়ে সাঁকো পার হতে দেখা গেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের নকশা ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন করেছে। প্রায় তিন মাস আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়কে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে, প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মধ্যে। তাদের দাবি, দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। পাশাপাশি, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করেই কীভাবে বিল পরিশোধ করা হলো, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছর বড়াইকান্দি খালের উপর সেতু নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তর। ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতু নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রামিম এন্টারপ্রাইজ। এতে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। কাজ শুরু হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। এই বছরের জুনের মধ্যে সেতুটি নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়। প্রাক্কালন ও চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির উভয় পার্শ্বে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণ না করেই তুলে নিয়েছেন পুরো বিল। প্রায় তিন মাস আগে কাজ শেষ হলেও এখন সেতুর দুই ধারে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানালেন- কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়।
কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান জানালেন- বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা না হলে এই সেতুর কোনো উপকারই আমরা পাচ্ছি না।
এ বিষয়ে জানতে মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার জিয়াউর রহমানকে একাধিকবার কল করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানকে সরকারি নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি তার অফিসে গিয়েও দেখা পাওয়া যায় নি। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন- খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com