বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বালিয়াকান্দিতে ষষ্ঠ শ্রেণীর স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও লিফলেট বিতরণ উত্তরাঞ্চল থেকে শিমুল গাছ বিলুপ্তপ্রায় বালিয়াকান্দিতে ভাই ভাই ফিলিং স্টেশন ও মা মিষ্টান্ন ভান্ডারকে জরিমানা জয়পুরহাটে স্কুল পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৯ বালিয়াকান্দিতে মানসিক অবসাদগ্রস্ত বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সুন্দরগঞ্জে বসত বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্ৰেফতার-১ দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী থেকে ১০০ লিটার চোলাই মদসহ এক কারবারী গ্রেপ্তার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ট্রাম্পের আমলে সর্বোচ্চ সংঘাত ঢাকার বাতাসের মান আজ ভালো

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ট্রাম্পের আমলে সর্বোচ্চ সংঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : 11:48 am, মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ২০২৫ সালে বিশ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক রাষ্ট্রীয় সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা ও প্রাণহানিও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নরওয়ের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত অসলো পিস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআইও) বার্ষিক ‘কনফ্লিক্ট ট্রেন্ডস’ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিশ্বজুড়ে অন্তত একটি রাষ্ট্র জড়িত ছিল এমন ৬৫টি সংঘাত নথিভুক্ত হয়েছে, যা ১৯৪৬ সালের পর সর্বোচ্চ।

রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র সংঘাতও গত ৮০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের সংঘাত দ্বিগুণ হয়ে ৮টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান, আফগানিস্তান-পাকিস্তান, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্ত সংঘর্ষ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সিরিয়ায় ইসরাইলের আগ্রাসন উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদনটির গবেষক সিরি অ্যাস রাস্টাড বলেন, ‘এবার ইতিবাচক কিছু খুঁজে বের করা খুব কঠিন। সংখ্যাগুলো সত্যিই বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ছিল স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের তৃতীয় সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সহিংসতায় সরাসরি প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৬ হাজার ৫০০ জন বেসামরিক নাগরিক সরাসরি হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪ হাজার ২০০।

বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর এই বড় বৃদ্ধির পেছনে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর সংঘাতকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে অবরোধ ও গণহত্যায় প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্নায়ুযুদ্ধের পর শুধু ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডা গণহত্যা এবং ২০২১ সালে ইথিওপিয়ার টাইগ্রে অঞ্চলের যুদ্ধেই এর চেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতের দিক থেকে আফ্রিকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল। সেখানে ২৯টি সংঘাত নথিভুক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইউরোপ।

গবেষক রাস্টাড বলেন, গত কয়েক বছরে একাধিক বড় যুদ্ধ ও সংঘাত একই সময়ে চলতে থাকায় বিশ্ব কোনো বিরতি পাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিকভাবে সহিংসতার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ অবস্থায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরাইল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম আক্রমণাত্মক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গাজা, সিরিয়া, লেবানন, ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিভিন্ন সংঘাতে দেশটির সম্পৃক্ততার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর শুধু সংঘাতই বাড়েনি, বাণিজ্যিক বাধাও বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হচ্ছে এবং বিশ্ব আরও বিভক্ত ও মেরুকৃত হয়ে উঠছে।

তার ভাষায়, ‘জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কার্যকরভাবে কাজ করছে না। ফলে বিশ্ব ক্রমেই আরও বেশি বিভক্ত হয়ে পড়ছে।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com