‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। শুক্রবার দিনভর জেলা প্রশাসন, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
আজ সকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাদশা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, আর মালিক-শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। শ্রমিক ও মালিক একে অপরের পরিপূরক।’ তবে মে দিবসের কর্মসূচিতে পূর্বের তুলনায় কিছুটা ভাটা পড়েছে উল্লেখ করে তিনি শ্রমিকদের নিজেদের অধিকার আদায়ে আরও সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বাদশা আরও বলেন, গত ১২ফেব্রুয়ারির অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
বগুড়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) রাজিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. সাথিল মন্ডল।
সভায় বক্তারা ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আত্মদানকারী শ্রমিকদের স্মরণ করেন এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রাসেল মন্ডল, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ মিতুল এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল বগুড়া জেলা শাখার মো. আব্দুল ওয়াদুদ।
মালিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রনজিত কুমার পালিত, এশিয়া সুইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল বাসার চন্দনসহ আরও অনেকে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শুক্রবার সকাল থেকেই বগুড়া শহরের বিভিন্নস্থানে নানা শ্রমিক সংগঠন মিছিল, র্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে। শহরের সাতমাথা, চারমাথাসহ প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলোতে শ্রমিকদের লাল পতাকা হাতে সংহতি প্রকাশ করতে দেখা যায়। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৮৮৯ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে-কে স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী উদ্যাপিত এই দিনটি আজও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে ভাস্বর হয়ে আছে।