শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আইনানুযায়ী রাজস্ব প্রদানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাঙালিকে স্বাধীনতা এনে দিয়ে জাতির পিতা অমর হয়ে রয়েছেন : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী শিক্ষাক্রম নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যাচার করা হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপির নেতৃত্বে মূল্যবোধ নৈতিকতা ও সততার ঘাটতি আছে : হানিফ রাশিয়ার অর্থ জব্দ করে ইউক্রেনকে দিতে অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি মহাসচিব মিথ্যাচার করেছেন : ওবায়দুল কাদের সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় সেনা সদস্য নিহত বর্তমান সরকারের সময় শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে : প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর দেশে সার, বীজসহ কৃষি উপকরণের কোন দাম বাড়ান হবে না : কৃষিমন্ত্রী

নয়াপল্টনের ঘটনার জন্য বিএনপিই দায়ী : তথ্যমন্ত্রী

সিএনআই নিউজ
  • আপডেট সময় : 6:39 pm, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নয়াপল্টনে বুধবারের ঘটনার জন্য বিএনপি এবং বিএনপি নেতারাই দায়ী। 
তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বলেন,  ‘আমরা বহু আগে থেকেই বলছিলাম যে, বিএনপি সমাবেশ নয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। বিএনপি সমাবেশের ডাক দিয়েছে ১০ ডিসেম্বর অথচ ৭ ডিসেম্বরেই নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর কিভাবে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার রাতে বিআরটিসি বাসে ও আরো গাড়ি-ঘোড়াসহ বিভিন্ন স্থানে তারা আগুন দিয়েছে, আপনারা দেখেছেন। বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে অবিস্ফোরিত ১৫টি ককটেল ২ লাখ পানির বোতল, ১৬০ বস্তা চাল, রান্না করা খিচুড়ি, হাড়ি-পাতিল এবং দুই লাখ নগদ টাকাও পেয়েছে পুলিশ।’ 
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘দুপুর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জমায়েত হতে থাকে এবং যখন সেখানে একটি রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, তখন দয়া করে অন্তত একটি লেন চালু থাকার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ তাদের বারবার অনুরোধ জানায়। কিন্তু সেই অনুরোধ তারা উপেক্ষা করে। এরপর মতিঝিল-রমনা এলাকার ডেপুটি কমিশনার হায়াৎ সেখানে নিজে গিয়ে আবারও অনুরোধ জানান। যখন তিনি অনুরোধ জানাচ্ছিলেন তখন তাকে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে আঘাত হানা হয় এবং তার বডিগার্ডকে দা’য়ের কোপ দেয়া হয়। সেখান থেকেই শুরু এবং এরপর পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা পরিচালনা করা হয়। ৮জন পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়াসহ সর্বমোট ৩৫জন পুলিশ আহত হয়। তখন পুলিশ বাধ্য হয়ে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে বাধ্য হয়। একজন সাধারণ নাগরিক সেখানে মৃত্যুবরণ করেছেন। পুলিশ ধারণা করছে তিনি ককটেলের আঘাতে মৃত্যুবরণ করছেন। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বেরুনোর পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ 
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সবসময় বলে এসেছে যে, তারা ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটাবে। নয়াপল্টন অফিসের সামনে ১০-২০ হাজার মানুষ ধরে। তারা যাতে ১০ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটিয়ে বড় সমাবেশ করতে পারে, সেজন্য তাদেরকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে যেতে অনীহা প্রকাশ করলে মিরপুরের পল্লবী মাঠ, কালশী মাঠ, যেখানে বিএনপি ইতোপূর্বে সমাবেশ করেছে অথবা ইজতেমার মাঠ, বাণিজ্য মেলার মাঠ এগুলো তাদের ব্যবহার করার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অসৎ উদ্দেশ্যে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দেয়।’ 
হাছান মাহমুদ বলেন, অথচ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা বিএনপিকে আমরা কখনো দেইনি এবং সেটির প্রমাণ হচ্ছে সারাদেশে তারা সফলভাবে ৯টি বড় সমাবেশ করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে সরকার সর্বোতভাবে সহায়তা করেছে। 
তিনি বলেন, ‘বিএনপি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে পারে, এজন্য আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের আমরা নির্দেশ দিয়েছিলাম, যাতে তাদের উস্কানির মুখেও ধৈর্য্য ধরে। কিন্তু আসলে তারা দেশে শান্তি চায় না বিধায় গতকাল বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তান্ডব ঘটিয়েছে।’ 
মন্ত্রী হাছান স্মরণ করিয়ে দেন, ‘আমি আগেও বলেছি যে, সরকার কাউকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেবে না। কিন্তু তারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। বিএনপির যে সব নেতা বড় গলায় কথা বলছেন, অগ্নিসন্ত্রাস ঘটানোর জন্য অর্থদাতা, হুকুমদাতা কিম্বা অংশগ্রহণকারী হিসেবে তারা প্রায় সবাই এ অপরাধের মামলার আসামী। রিজভী সাহেবসহ আরো বেশ কয়েকজন মামলার ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে বুধবার সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশের নাকের ডগায় যখন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ঘুরে বেড়ায় তখন তো তাদের গ্রেপ্তার করা পুলিশের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। যখন কোনো নেতা কার্যালয়ের ভেতরে তাজা ককটেল নিয়ে বসে থাকে তখন সেই নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হয়। সরকার সেই ব্যবস্থাই নিয়েছে।’ 
তথ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ‘কিন্তু বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুঁড়ে আমাদের নেত্রীকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল।’ 
তিনি বলেন, ‘শেখ হেলাল এমপির জনসভায় হামলা চালিয়ে এক ডজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কিবরিয়া সাহেব এবং আহসান উল্লাহ মাস্টারের জনসভায় হামলা চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, শতশত মানুষকে আহত করা হয়েছিল, খুলনার মঞ্জুর ইমামসহ অনেককে তারা হত্যা করেছে এবং আমরা যখন পার্টি অফিসের সামনে কোনো সমাবেশ করতাম তখন তারা দুই পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাখতো। এমনকি ধানমন্ডিতে রাসেল স্কোয়ারে আমাদের প্রয়াত নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে পুলিশ পিটিয়ে ছিল। দেশের জ্যেষ্ঠ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মতিয়া আপাকে টানা হেঁচড়া করেছিল। কই তাদের কোনো নেতাকে তো এমন করা হয়নি, তাদের কোনো সমাবেশে তো পটকাও ফোটেনি।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দেশের সাম্প্রতিক বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘মার্কিন সরকার কোনো বিবৃতি দেয়নি। সেখানে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিএনপি ঘরানার একজন সাংবাদিক যিনি আগে খালেদা জিয়ার প্রেস উইংয়ে কাজ করতেন তিনিই সেখানে প্রশ্ন করেছেন এবং সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে। এটি কোনভাবেই মার্কিন সরকারের কোনো বিবৃতি নয়। সমাবেশের জন্য উপযুক্ত মাঠের প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে তারা নয়াপল্টনের সামনে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বুধবারের ঘটনা ঘটিয়েছে এবং সমস্ত ঘটনার জন্য বিএনপি এবং বিএনপির নেতারাই দায়ী।’ 
১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাছান বলেন, ‘বিএনপির মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রগুলো আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে পাঠাবো। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারা যে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, ২০১৩-১৪-১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে এবং এখন বাস-ট্রাকে আগুন দিয়ে আবার মানুষের অধিকার হরণ করছে, সেগুলো আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়কে জানাবো।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com