মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন

ডব্লিউইউএসটির সাথে অংশীদারিত্ব বাংলাদেশে নতুন সম্ভানার দ্বার উম্মোচন করবে

আনিসুর রহমান, ব্যুরো প্রধান, যুক্তরাষ্ট্র
  • আপডেট সময় : 1:12 pm, বুধবার, ১৮ মে, ২০২২
  • ১০১ বার পঠিত

বাংলাদেশের হাইটেকপার্ক যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি’র সঙ্গে অংশীদারিত্বের বড় সম্ভাবনা দেখছে। প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ট্রান্সফার করাই এই সময়ের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও উপযোগী পদক্ষেপ যা হাইটেকপার্ক ও ডব্লিউইউএসটি’র মধ্যে হওয়া সম্ভব। খুব শিগগিরই এ ধরনের অংশীদারিত্বের বড় ঘোষণা আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ হাইটেকপার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ জানান, তিনি বুধবার (১১ মে) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ডব্লিউইউএসটি (পুর্ব নাম আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি) ক্যাম্পাস পরিদর্শনে এসে এর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বাংলাদেশি আমেরিকান প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আবুবকর হানিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন, সিএফও ফারহানা হানিপ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় আরও ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত রোমানিয়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি. (বেঙ্গল গ্রুপ) ‘র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বাবলু, আরটিভি’র সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, যুক্তরাষ্ট্রে বিশিষ্ট বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ক্রিকেটপয়েন্ট-এর সিইও কাজী জামান, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার ইকনমিক মো. মেহেদি হাসান প্রমুখ।
বিকর্ণ ঘোষ তার বক্তৃতায় আরও বলেন, একজন বাংলাদেশি আমেরিকান এই যুক্তরাষ্ট্রে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব মালিকানায় পরিচালনা করছেন, এটি আমাদের বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। আমরা চাই এমন আরও আবুবকর হানিপ বাংলাদেশে তৈরি হোক আর সে কারণেই আমাদের পারষ্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির দক্ষতানির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা যা ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে একটা ইকোসিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে, সে কথা উল্লেখ করে বিকর্ণ ঘোষ বলেন, এই বিষয়টিই এখন শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশেও শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন প্রায়োগিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ডব্লিউইউএসটি-কে আহ্বান জানাতে চায়, যেনো এই শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশেও তারা নিয়ে যেতে পারেন এবং সে জন্য বাংলাদেশে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় জমি দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন একটি সুযোগ ডব্লিউইউএসটি’র জন্য একটি বড় পাওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়তে আসছেন তাদের ভবিষ্যত সময়ের উপযোগী শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে তৈরি করা হয়। যাতে তারা শিক্ষা শেষে যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বের উন্নত জব মার্কেটে ঢুকতে পারেন। বাংলাদেশ থেকে যে শিক্ষার্থীরা আসছেন তাদের নিয়ে বড় স্বপ্ন হচ্ছে- এদের কেউ কেউ একদিন অ্যামাজন, গুগল, সিসকো, ফেসবুক, টুইটারের মতো ফরচুন ওয়ান হান্ড্রেড কোম্পানিগুলোর সর্বোচ্চ পর্যায়ের পদগুলোতে আসীন হবেন।
“ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি’র শিক্ষকরা একাধারে স্কলার ও প্র্যাকটিশনার, যাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে রয়েছে ন্যুনতম চার বছর থেকে ত্রিশ বছর পর্যন্ত কর্মদক্ষতার অভিজ্ঞতা। এই শিক্ষকদের কাছ থেকে শিখে শিক্ষার্থীরা যখন কর্মজগতে প্রবেশ করবেন তখন তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।”
আবু বকর হানিপ বলেন, একটি সময়ে আমরা এই ঘোষণাই দিতে সক্ষম হবো, যখন আমরা বলতে পারবো ডব্লিউইউএসটিতে পড়াশোনা শেষ করলে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত ভালো কাজ পেয়ে যাবেন, তখন আমরা ‘নো জব নো টুইশান’ ঘোষণা করতে পারবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পদ্ধতি, এর শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার ও ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডব্লিউইএসটি, পুরাতন আইজিইউ’র শিক্ষা পদ্ধতিটি ইউনিক। এবং এই সময়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয়।
অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন শিক্ষাপদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষকরা তাদের শেখান ও তৈরি করেন, এটাই আইজিইউ’র বর্তমান ডব্লিউইউএসটির মূল পদ্ধতি।
মো. হুমায়ুন কবিব বাবলু তার বক্তৃতায় ডব্লিউইউএসটির শিক্ষাক্রম, এর পরিচালন পদ্ধতি এবং পাঠদান পদ্ধতির প্রশংসা করেন। একজন বাংলাদেশি আমেরিকানের নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে যা তাকে গর্বিত করে বলে তিনিও তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।
ভার্জিনিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী জামান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্র বসবাসকারী প্রতিটি বাংলাদেশির জন্য একটি গর্বের বিষয়।
ফারহানা হানিপ তার বক্তৃতায় সকলকে ধন্যবাদ জানান ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এই অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দববার উম্মেচন হবে বলে মনে করছেন প্রবাসী ব্যক্তিরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com