মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

সাটুরিয়ার ইতিহাস (পর্ব-৩)

গবেষনা- তোফায়েল হোসেন তোফাসআনি
  • আপডেট সময় : 2:35 pm, রবিবার, ১৫ মে, ২০২২
  • ১৩২ বার পঠিত

২’শ বছর বাংলা দিল্লীর অধীনতা মুক্ত ছিল

মানিকগঞ্জ জেলার গাজীখালী বিধৌত একটি উপজেলা সাটুরিয়া। যার আয়তন ১৪০.০৯ বর্গ কিলোমিার। ৯ টি ইউনিয়নে রয়েছে ২৯০ টি গ্রাম। সবুজের ঢেউ খেলানো বাংলাদেশের এ অঞ্চলটি পরিপূর্ণ লোক-সংস্কৃতিতে। এ অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস সাক্ষি বহন করে যে, অনেক অত্যাচার, অবিচার সহ্য করে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে নিজস্ব একটি ভূখন্ড অর্জন করেছে এদেশের মানুষ।
বিভিন্ন গোত্রের রাজাদের শাসন এসেছে এদেশে। এসেছে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী। ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে এদেশে পাকিস্থানী শাসন শুরু হয়। ১৯৭১ সালে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাদীন সার্বভৌম একটি নিজস্ব ভূখন্ড “বাংলাদেশ।”

মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া বাংলাদেশেরই একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। যার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি। এসব ইতিহাস এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে।

সাটুরিয়া সদর গড়ে উঠেছে গাজীখালী নদীর তীরে। গাজীখালী খাল নয় নদী। এই নদীটি পশ্চিমে ধলেশ্বরী ও পূর্বে বংশী নদীর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। নদীটির ছিল অনেক শাখা বা খাল। গাজীখালীর এসব খাল এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে।

এক সময় সাটুরিয়াসহ পাশ্ববর্তী বিশাল এলাকাজুড়ে মাত্র কয়েক’শ লোকের বসবাস ছিল। ঐতিহাসিকগণের মতে অনেক অনেক আগে জনমানবের চিহৃ ছিলনা এখানে। ঐতিহাসিক এবং প্রত্মতাত্মিক পন্ডিতগণের মতে পুন্ড্রনগর বা পুন্ড্রবর্ধণ (বর্তমান মহাস্থানগড়) বাংলার প্রাচীনতম নগর। আনুমানিক চার’শ বছর আগে সেখানে জনপদ ছিল। এ সময়ের ইতিহাসে সাটুরিয়া বা মানিকগঞ্জের কোন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে, মৌয্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে মানিকগঞ্জের অধীনে থাকা ধামরাই তার রাজ্যভূক্ত ছিল। এ থেকে ধারনা করা যায়, সাটুরিয়ায় সম্রাট অশোকের শাসন বিদ্যমান ছিল। এ অঞ্চলে গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য, সমাচার দেব, প্রমূখের শাসন প্রচলন ছিল। ৬ষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে মৌখরী বংশের উত্থান হলে সাটুরিয়া, মানিকঞ্জসহ এতদ্বঞ্চল তাদের শাসনে থাকতে পারে বলে ধারনা করা হয়।

আরো পড়ুন-

এখনও বিভিন্ন প্রত্মতাত্মিক নিদর্শন তাঁর পরিচয় বহন করে চলেছে।
কোন কোন ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, শশাঙ্কই বাংলাকে সর্ব ভারতীয় রূপাদান করেন। শশাঙ্কের পরে আসেন হর্ষবর্ধন (শিলাদিত্য)। এ সময়ের ইতিহাসে মানিকগঞ্জ সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। তারপর বাংলার ইতিহাসে ভদ্র বংশ, খড়গ বংশ, রতি বংশ, লোকনাথের বংশ, দেব বংশ, চন্দ্র বংশ রাজত্ব করেন। এদের মধ্যে চন্দ্র বংশের প্রভাব ছিল সাটুরিয়াসহ এতদ্বঞ্চলে।

পাল, সেন, বর্মন বংশের শাসন ছিল এ অঞ্চলে। তম্মধ্যে লক্ষণ সেন (১১৭৮-১২০৫ খৃ:) দুই বছর শাসন বলবৎ রাখেন। তাঁর পুত্র বিশ্বরূপ সেন (১২০৬-১২২০), কেশব সেন (১২২০-১২২৩ খৃ:) এ অঞ্চলকে তাদের শাসনে এনেছিলেন। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী লক্ষণ সেনকে (১১৭৯-১২০৬ খৃ:) পরাজিত করে লখনৌ (গৌড়) অধিকার করেন।
লক্ষণ সেনের রাজত্বের পরে তাঁর পুত্ররা রাজত্ব শাসন করেন এবং এরপর এ অঞ্চল মুসলিম শাসকদের অধীনে চলে যায়।

আরো পড়ুন-

তুর্কী সুলতানদের রাজত্বকালে ১২২১ খৃষ্টাব্দে হুসাম উদ্দিন আইওয়াজ খিলজী সুলতান গিয়াস উদ্দিন উপাধী নিয়ে গৌড়ের সিংহাসনে বসেন এবং তৎকালীন মধ্য বাংলাকে কর প্রদানে বাধ্য করেন। ১২২৫ খৃষ্টাব্দে ইলতুৎমিশ গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে তার পুত্র নাসির উদ্দিন মাহমুদকে শাসনাধীনে আনেন। ১২৬৫-১২৮০ খৃষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে মুঘীস উদ্দিন তুগরিল সোনারগাঁয়ে মুসলমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। ১২৬৬-১৮৮৭ খৃষ্টাব্দের মধ্যে তুগরিলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গিয়াস উদ্দিন বলবন তাঁর পুত্র বুগরা খানকে বাংলার শাসন কর্তা নিয়োগ করেন। এ অঞ্চলে তখন বলবন বংশীয় শাসন ছিল বলে জানা যায়। বুগরা খানের পর তাঁরে পুত্র রোকন উদ্দিন কায়কাওয়াস স্বাধীনভাবে বাংলার শাসন ক্ষমতা বজায় রাখেন। ১৩২২ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা থাকে শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহের শাসনাধীনে। তারপর সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলক বাংলায় নিজস্ব অধিকার এনে নাসির উদ্দিন ইব্রাহীমকে বাংলার শাসনকর্তা নিয়োগ করেন। ১৩২৫-১৩৫১ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত মোহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে শাসসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলায় স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। ১৩৩৮ খৃষ্টাব্দে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ সোনারগাঁয়ে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। তারপর ২’শ বছর ১৩৬০-১৫৬০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলা দিল্লীর অধীনতা মুক্ত থাকে।

এই গবেষনার তথ্য ও তথ্যসূত্র কপি করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

সর্বস্বত্ব- তোফায়েল হোসেন তোফাসানি

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com