মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন

১০ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল হোতা শরীয়তপুরে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যা:

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : 6:42 pm, শুক্রবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১১ বার পঠিত

সিএনআই নিউজ:

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও নড়িয়া থানা পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিহত প্রবাসীর স্ত্রীর ২ সন্তানের মধ্যে এক সন্তানের চোখের সামনে তার মাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলেই নিজের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনা বলতে থাকে ৪ বছরের শিশু জিন্তু।

নিহতের ছোট মেয়ে জিন্তুর দাবি, তার চাচাতো ভাই নাজমুল হাওলাদার নৃশংসভাবে তার মাকে হত্যা করেছে। নিহতের বাবার দাবি, সুষ্ঠু বিচার হোক তার মেয়ের হত্যার। পুলিশ জানায়, পুরো ঘটনার তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা ও মূল হোতাকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে।

নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন কাজী ও নড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, নড়িয়া উপজেলার ডিগ্রি বাজার এলাকায় সৌদি প্রবাসী হোসেন হাওলাদারের স্ত্রী আঁখি আক্তার তার দুই সন্তান স্নেহা (১২) ও জিন্তুকে (৪) নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। সেখানে প্রতিদিনের ন্যায় তার ছোট মেয়ে শিশু জিন্তুকে নিয়ে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ৮ ডিসেম্বর শ্বশুরবাড়ির লোকজন গভীর রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে আঁখি আক্তারকে মাথায় ও বুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। হত্যার পর তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে নিহতের পোশাক খুলে শরীরের বিভিন্ন স্থানের রক্ত মুছে ফেলে হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্টের চেষ্টা করে।

ঘটনার দিন নড়িয়া থানা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের ভাসুর মাস্টার কাদির হাওলাদার, ছায়েদ হাওলাদার ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগম, তার ছেলে বাবু হওলাদার, ভাগ্নী নাছিমাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর দিন নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন কাজী বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হক হাওলাদারসহ মূল আসামিদের গত ১০ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশি। প্রত্যক্ষদর্শী শিশু জিন্তুকে জিজ্ঞাসা করলেই সে বলতে থাকে যে, তার চাচাতো ভাই নাজমুল হাওলাদার তার মাকে মেরেছে।

নিহতের বড় মেয়ে স্নেহা আক্তার (১২) বলে, আমার চাচাতো ভাই নাজুল হাওলাদার প্রায়ই আমার মায়ের কাছে টাকা দাবি করতো। মেরে ফেলার হুমকি দিতো। শেষ পর্যন্ত আমার মাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

জিন্তু বলে, আমার মাকে নাজমুল প্রথমে রড দিয়ে মাথায় বাড়ি দেয়। পরে পেটের ভিতরে ছুরি দিয়ে মারে। পরে আমার মা আমাকে ডাক দেয়। আমি মার কাছে গেলে আমাকেও মারে (নাজমুল)। পরে আর আমার মা আর কথা বলে না।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনী শংকর কর বলেন, তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না। সন্দেহভাজন হিসাবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল হোতাকে অচিরেই গ্রেপ্তার করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই রকম আরো জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2017 Cninews24.Com
Design & Development BY Hostitbd.Com