,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

আমিনবাজারে ছয় ছাত্র হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে, সু-বিচারের আশায় এলাকাবাসী

সাব্বির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার :

ঢাকার সাভারের আমিন বাজার ট্রাজেডিতে সে সময় কেঁদেছিল সারাদেশ। ৬ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনায় বর্বরোচিত একটি গোষ্ঠির পরিচয় মিলেছিল আমিন বাজারে। যে গোষ্ঠির সাথে ভয়ংকর গাংচিল বাহিনীর রয়েছে হট কানেকশান। দির্ঘ প্রায় ৯ বছর পরে এসে শবে-বরাতের রাতে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা ৬ ছাত্রের বিচারের রায় ঘোষনা হতে যাচ্ছে আগামী ২ ডিসেম্বর। এ মামলার আসামি আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনসহ সকলে এখন কারাগারে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার সু-বিচারের আশায় অপেক্ষমান সাভারের শান্তিপ্রিয জনগণ। গত ২২ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক সকল আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এরপর এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ এ ধরনের মন্তব্য করেন। এলাকাবাসী আরো জানান, গাংচিল বাহিনীর প্রধান পৃষ্ঠপোষক আমিন বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে যুগের পর যুগ ব্যাপক চাঁদাবাজি, দুই র‌্যাব সদস্য ও এক পুলিশের এসআইকে ইটের ভাটায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা, কুখ্যাত গাংচিল বাহিনীর সাথে হট কানেকশান ছাড়াও অনেক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি স্থানীয় লাট্টু হত্যা মামলার যাবৎজীবন কারাদন্ডে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী। বিগত নয় বছর আগে শবে-বরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার গত সোমবার ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ইসমত জাহান রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য্য করেন। এ সময় মামলার সকল অভিযুক্তদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়। ২২ নভেম্বর এজলাস থেকে পালিয়ে যায় কয়েকজন আসামি। এর একঘন্টা পরে আবার তারা আত্মসমর্পন করলে সকলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। আসামীদের আইনজীবি এডভোকেট মাসুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আমিন বাজারে শত কোটি টাকার জমির ওপর কয়েকশত দোকান তৈরী করে মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা তোলে আসছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এ সব জমি ব্যক্তি মালিকানা হলেও চেয়ারম্যান নিজেই সরকারী জমি দেখিয়ে ইজারা নিয়েছেন সাভার উপজেলা থেকে। রাজধানী লাগোয়া এই অঞ্চলে তিনটি নদীর নৌকা, স্টিমার, জাহাজ ও যানবাহন থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলারও অভিযোগ আছে আনোয়ারের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীরা আরো জানান, আলমাস উদ্দিন লাট্টু আমিন বাজারে খুন হন ১৯৯২ সালে। বাদী ছিলেন তার বড় ভাই সিদ্দিক। ২০০৪ সালে ঢাকার জজ আদালতের রায়ে তার মামা আব্দুল হাকিম ও ভাই দেলোয়ার হোসেন সহ চেয়ারম্যান আনোয়ার এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডপ্রাপ্ত হন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালেই আপিল বিভাগে আপিল করে ১৬ বছর ধরেই জামিনে আছেন চেয়ারম্যান ও তার স্বজনরা। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে-বরাতের রাতে আমিন বাজারের বড়দেশী গ্রামের কেবলার চরে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ম্যাপললিফের এ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শামীম (১৮), মিরপুর বাংলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ (২০), একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল (২১), উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র কামরুজ্জামান কান্ত (১৬), তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান (১৯) ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবির মুনিব (২০)। ঘটনার পর নিহতদের বিরুদ্ধেই ডাকাতির অভিযোগ এনে গ্রামবাসীর পক্ষে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন আব্দুল মালেক নামে এক বালু ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, ছয় কলেজছাত্র হত্যাকাণ্ডে ৬’শ গ্রামবাসীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি র‌্যাব সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ৬০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই বছরের ৮ জুলাই মামলার ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জশিট) গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. হেলালউদ্দিন। চার্জশিটভুক্ত ৬০ আসামি হলেন, ডাকাতি মামলার বাদী আব্দুল মালেক, সাঈদ মেম্বার, আব্দুর রশিদ, ইসমাইল হোসেন রেফু, নিহর ওরফে জমশের আলী, মীর হোসেন, মজিবর রহমান, কবির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রজুর আলী সোহাগ, আলম, রানা, আ. হালিম, ছাব্বির আহম্মেদ, আলমগীর, আনোয়ার হোসেন আনু, মোবারক হোসেন, অখিল খন্দকার, বশির, রুবেল, নূর ইসলাম, আনিস, সালেহ আহমেদ, শাহাদাত হোসেন রুবেল, টুটুল, অখিল, মাসুদ, নিজামউদ্দিন, মোখলেছ, কালাম, আফজাল, বাদশা মিয়া, তোতন, সাইফুল, রহিম, শাহজাহান, সুলতান, সোহাগ, লেমন, সায়মন, এনায়েত, হায়দার, খালেদ, ইমান আলী, দুলাল , আলম, আসলাম মিয়া, শাহীন আহমেদ, ফরিদ খান, রাজীব হোসেন, হাতকাটা রহিম, মো. ওয়াসিম, সেলিম মোল্লা, সানোয়ার হোসেন, শামসুল হক ওরফে শামচু মেম্বার, রাশেদ, সাইফুল, সাত্তার, সেলিম ও মনির। আসামিদের মধ্যে কবির হোসেন ও রাশেদ মারা গেছেন। মামলায় ৯২ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময় ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ২২ নভেম্বর আদালত সকল আসামিদের জামিন বাতিল করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। আগামী ২ ডিসেম্বর আমিন বাজার ট্রাজেডির রায় ঘোষনার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন আমিন বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণ। এ রায়ের মাধ্যমে ভয়ংকর গাংচিল বাহিনীর পতন হবে বলে বিশ্বাস সকলের। #

Leave a Reply

প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: সি-৫/১, (৪র্থ তলা) ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
ঢাকা অফিস : বিএনএস সেন্টার (৯তলা), প্লট-৮৭, সেক্টর-০৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
Design & Developed BY PopularITLimited