,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

জন্মের পরে কেরোসিনের কুপি ও হারিকেনের সাথে পরিচয়

তোফায়েল হোসেন তোফা সানির ফেসবুক থেকে সংগ্রহীত : জন্মের পরে কেরোসিনের কুপি ও হারিকেনের সাথে পরিচয়। স্কুলে যখন পড়ি তখন জামা-প্যান্ট ভাঁজ করে আব্বা বালিশের নিচে রেখে দিতেন। সকালে ইস্ত্রি হয়ে যেত। সেগুলু পরিধান করে স্কুলে যেতাম। শিক্ষকেরা লুঙ্গি পরে ক্লাস নিতেন। আমরা শিক্ষার্থীরা অনেকেই লুঙ্গি পরে স্কুলে যেতাম। অবশ্য আমার ভাগ্যে বেশিরভাগ ইংলিশ প্যান্ট জুটেছে। বাবার খাকি কাপর কেটে আমাকে ইংলিশ প্যান্ট বানিয়ে দিতেন। আর সাথে হাওয়াই শার্ট। বাজারের দর্জি গৌড় কাকা আমাদের সকল পোশাক তৈরি করে দিতেন। কাঠের ব্রিজ পাড়ি দিয়ে উপারে স্কুল। মাঝেমধ্যে ভাঙ্গা ছিল ব্রিজটি। ছোটবেলা খুব ভয় পেতাম ব্রিজ দিয়ে যেতে। তবুও স্কুলে যেতে হবে। চুল কাটাতে হতো বাজারের কালি ঘরের সামনে ফুটপাতে বসা ভোলা নাপিত ও তার ছেলে সিতারামের কাছে। বাবার নির্দেশ, চাম ছাট দিতে হতো। নইলে উপায় নেই। বাবা নিজে দাড়িয়ে থেকে চুল কাটাতেন। সপ্তাহে একবার সাটুরিয়ার হাট। বাজারের বাইরে খেলতে যেতাম বন্ধুদের সাথে। দূর থেকে হাটের গুম গুম শব্দ শুনতে পেতাম। গাজীখালীতে লঞ্চ আর বড় বড় গয়নার নৌকা নোঙর করতো। চন্দ্রখালীতে এক মালিয়া, দুই মালিয়া আর ডিঙ্গি নৌকার সাড়ি থাকতো। কি অপরূপ দৃশ্য। খাল থেকে সাতরিয়ে নদীর মোহনায় যেতাম। বালুচরে খেলা করতাম। সেখানে বাবুই পাখির বাসা ভেঙ্গে পাখিসহ নিয়ে আসতাম ঘরে। বিভিন্ন গ্রাম থেকে আমাদের স্কুলে যে ছেলে-মেয়েরা পড়তো তারা মাইলের পর মাইল হেঁটে আসতো সাটুরিয়ায়। অনেক কষ্টে দিন যেত অনেক পরিবারের। তবুও একবেলা খেয়ে না খেয়ে স্কুলে আসতে দেখেছি অনেক সহপাঠীদের। ক্লাস বসার আগে এসেম্বলি হতো। জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে পতাকাকে সালাম জানিয়ে শপথ পাঠ করে তবে ক্লাসে যেতাম। স্যারেরা পোশাক, হাতের আঙ্গুল পরীক্ষা করতেন। নখ বড় কিনা, পোশাক নোংড়া কিনা এসব দেখতেন। স্কুলের বোডিংয়ে দূর-দূরান্তের শিক্ষার্থীরা থেকে লেখাপড়া করতো। সেই সোনালী দিনের কত আনন্দ, কত নিয়মানুবর্তিতা ছিল। নদীর উপারে হাসপাতাল। হাসপাতালের ঘাটে বাঁধা ছিল কাঠের তৈরী একটি স্পীড বোট। সাতরিয়ে বোটে গিয়ে খেলা করতাম। এপারে ঘাটে ছিল পুলিশের নৌকা। তখন নৌকাই ছিল পুলিশের বাহন। কাল পতাকায় পুলিশ লেখা থাকতো। সেই পতাকা টাঙ্গানো থাকতো নৌকায়। দেখলেই বুঝা যেত এটা পুলিশের নৌকা। সাটুরিয়ার হাটে ম্যাজিক দেখিয়ে ঔষধ বিক্রি করতেন অনেকেই। তার মধ্যে মজু ভাই চাক্কু মারা খেলা দেখাতেন। প্রকাশ্যে একটি ছেলের পেটের এপার থেকে ওপারে ছুরি ঢুকিয়ে দিতেন। আমি জীবনের প্রথমবার এই খেলা দেখে ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সাথে থাকা তিনটাকা ফেলে দিয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে যাই। আমাদের বাড়ির কাজের মহিলার একজনের নাম ছিল খতে আর অপরজন আনোড়া। মা পালের মুরগী বিক্রি করতে দিতেন। হাটে গিয়ে বড় একটি মুরগী বিক্রি করতাম ২ থেকে ৩ টাকায়। খতে এখান থেকে আটআনা চুরি করে আমাকে চারআনা দিয়েছিল। যাতে মাকে না বলি। বলিনি, কিন্তু চারআনা কোথায় রাখবো? ভয়ে ভয়ে কাইয়ুমদের বাড়ির ভিটিতে পয়সা গর্ত করে রেখে দিয়েছিলাম। তখন চারআনার কি যে মূল্য। আহ— সন্ধ্যার পরে বাবু ভাই, সালাম ভাই, হামজা ওস্তাদদের গানের আসর হতো। দোকানের সামনে রাস্তায় ছালা বিছিয়ে হারমেনিয়াম, তবলা দিয়ে গানের আসর। আমিও সেই আসরের সঙ্গী ছিলাম। সাটুরিয়ায় বিদ্যুৎ এলো। বাজারে প্রথম কারেন্টের বাতি জ্বললো আমাদের ঘরে। মানুষ ভীর করে দেখতে আসতো বাতি। আমাকে কত বার জ্বালিয়ে দেখাতে হয়েছে মানুষকে। সুইচ ক্লিক করলেই বাতি জ্বলে উঠতো। বাহ, কি আশ্চর্য। তখন আব্বা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলেন। কাশেম ভাই ছিলেন চেয়ারম্যান। পরিষদে প্রথম টিভি আসে। কাঠের বাক্স একটা। পরিষদে কারেন্ট নেই। কাশেম ভাইয়ের বাড়িও কারেন্ট যায়নি তখন। টিভি চলতো আমাদের বাড়িতে। এখন মনে আছে আমার যে, নাগরপুর, মির্জাপুর থেকে লোক আসতো টিভি দেখতে। বাজারের রাস্তায় শত শত মানুষ ভীর করে টিভি দেখতো। সেই দিন আর এই দিন। আজ আমরা কত আধুনিক। শহরের দালান-কোঠা আর ইন্টারনেটের গতি আমাদের জীবন পাল্টে দিয়েছে। পাল্টে গেছে সবই। মায়া-মমতা, ভালবাসার ধরনেও পরির্বতন হয়েছে। যারা আমার এই বাস্তব গল্পের শুরু থেকে শেষ অবধি পড়েছেন, তারা এভাবে মনে করুন ফেলে আসা দিনগুলু। গল্পের শুরু যেখানে। অনেক কিছু মেলাতে পারবেন।

Leave a Reply

প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: সি-৫/১, (৪র্থ তলা) ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
ঢাকা অফিস : বিএনএস সেন্টার (৯তলা), প্লট-৮৭, সেক্টর-০৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
Design & Developed BY PopularITLimited