,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

আজকের চট্রগ্রাম

সিএনআই নিউজ :

দুদকের মামলায় ওসি প্রদীপের জামিন না মঞ্জুর, স্ত্রী বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনে দুদকের করা মামলায় তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসাথে প্রদীপের স্ত্রী চুমকির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন। এর আগে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের প্রদীপকে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আদালতে আনা হয়। গত ২৬ জুলাই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক জানান, সাবেক ওসি প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকি বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদ অর্জন ও অন্যকে হস্তান্তর ও ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকা অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে আদালতে। শুনানি শেষে অভিযোগপত্র গ্রহণের আদেশ দেন আদালত। ওসি প্রদীপের পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়েছে। আদালত প্রদীপের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
গত ২৯ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ ও মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশের অবৈধ সম্পদ দেখভালের দায়িত্ব কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে দেন। ২০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলাটির এজাহারে উল্লিখিত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।
২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদি হয়ে প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ওসি প্রদীপের সঙ্গে তার স্ত্রী চুমকিকেও আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চট্টগ্রামে নাশকতার মামলায় বিএনপির ১৫ নেতার জামিন
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা নাশকতার মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ ১৫ নেতা জামিন পেয়েছেন। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গনি ও রিয়াজ উদ্দীন খানের আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন প্রাপ্ত বাকি ১৪ নেতা হলেন- চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এসএম সাইফুল আলম, নাজিমুর রহমান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু, গাজী সিরাজ উল্লাহ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচএম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন ও যুগ্ম-আহবায়ক আসিফ চৌধুরী লিমন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী।
তিনি বলেন, গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রামে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে পুলিশ হামলায় কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা করা হয়। ওই মামলা দুটিতে আজ (বুধবার) হাইকোর্ট থেকে ১৫ নেতা জামিন পেয়েছেন। আজকের মামলা পরিচালনা করেছেন- ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাড. আশরাফ জালাল খান মনন ও ব্যারিস্টার মাহদীন চৌধুরী।
ছবি আছে

বঙ্গবন্ধু’ কবিতার বই বিতরণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ও কর্ম সম্পর্কে ছোট্ট সোনা মনিদের ছন্দে ছন্দে গল্প জানাতে দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি গোলাম মাওলা জসিমের ‘আমার বন্ধু বঙ্গবন্ধু’ কবিতার বই বিতরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি নগরীর মোমিন রোডের চট্টগ্রাম একাডেমিতে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদের বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত স্মরণ অনুষ্ঠান ‘এ লাশ আমরা রাখব কোথায়’ শীর্ষক কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। এতে আগত অতিথিদের মাঝে এ বই বিতরণ করা হয়।
এ সময় কবি গোলাম মাওলা জসিম বলেন, ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনকর্ম ছন্দে ছন্দে শিশুদের জানাতে আমার এ প্রয়াস। শিশুরা যাতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে বেড়ে উঠছে পারে। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মের জানার আগ্রহ যেন আরো বৃদ্ধি পায়।’
বইটি হাতে পেয়ে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও সম্মিলিত আবৃত্তি জোট চট্টগ্রামের সভাপতি ও চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ন সম্পাদক হাসান জাহাঙ্গীর এবং মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদের সভাপতি ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের নির্বাহী সদস্য মো. মছরুর হোসেন সহ আগত অতিথিরা বইটির মাধ্যমে শিশু কিশোরদের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে জানার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানান।

মিনুর মৃত্যুর ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট
চট্টগ্রাম ব্যুরো: প্রায় ১৫ বছর আগে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসকর্মী হত্যার ঘটনায় করা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামি কুলসুম আক্তারের হয়ে জেল খাটা মিনুর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে এ মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২২ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেছেন আদালত। তবে, ওই দিন এ ঘটনায় তলব করা চট্টগ্রামের আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকতে হবে।
গাড়িচাপায় মিনুর মৃত্যুর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের নথি এবং আটক কুলসুমীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির নথিসহ দুই তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলম ও কোতোয়ালি থানার এসআই জুবায়ের মৃধা বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির হন। এরপর তাদের প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
শুনানির সময় দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালত বলেন, কেন সে (মিনু) রাত ৩টায় বাসা থেকে তিন কিলোমিটার দূরে গেল? তাকে প্রক্সি দিয়ে জেল খাটানোর ঘটনায় আটকদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না অথবা শুধুই আটকরা প্রক্সির ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে জড়িত কি-না, নাকি অন্য কেউ আছে, এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে (সিরিয়াসলি) তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা নিতে পরামর্শ দেয় আদালত।
এর আগে ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে নির্ধারিত দিনে তারা স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত হন। ভার্চুয়াল বেঞ্চে শুনানি হওয়ায় চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও যুক্ত হন। এর আগে গত ১৬ আগস্ট দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে নথিসহ ১ সেপ্টেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।
আদালতে মঙ্গলাবার মিনুর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। দুই তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আরিফুর রহমান।
এর আগে গত ৩১ মার্চ অন্যের হয়ে মিনুর জেল খাটার ঘটনাটি উচ্চ আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এরপর ৭ জুন হাইকোর্ট মিনুকে মুক্তির নির্দেশ দেন।
গত ১৬ জুন বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান মিনু। তবে গত ২৮ জুন ভোর পৌনে ৪টার দিকে বায়েজিদ ভাটিয়ারী লিংক রোডের মহানগর সানমার গ্রিনপার্কের বিপরীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিনু।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ২৯ জুন একটি মামলা হয়। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খোরশেদ আলম। আর খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত কুলসুমকে ২৯ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রতারণার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় কুলসুমের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি জবানবন্দিও দেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জুবায়ের মৃধা।
জানা গেছে, একটি হত্যা মামলায় আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড দেন কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। আর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেল খাটছেন মিনু। বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন।
গত ২২ মার্চ সকালে অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালতে পিডব্লিউ মূলে মিনুকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে জবানবন্দি শুনে এ মামলার আপিল উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় মিনুর উপ-নথি ২৩ মার্চ হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেন। এ মামলায় মিনুর পক্ষে শুনানি করেছিলেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার রহমতগঞ্জে একটি বাসায় ২০০৬ সালের জুলাই মাসে মোবাইলে কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টসকর্মী কোহিনূর আক্তারকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর রহমতগঞ্জে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কোহিনূর আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন গার্মেন্টসকর্মী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এরপর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়। মামলায় পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে এটি হত্যাকান্ড বলে প্রতিবেদন দিলে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এর মধ্যে এক বছর তিন মাস জেল খেটে জামিনে মুক্তি পান কুলসুম।
মামলার বিচার শেষে ২০১৭ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ওই হত্যা মামলায় আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ডাদেশ দেন। সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমীর বদলি মিনু গত ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে যান।
এদিকে গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানতে পারেন। পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়।
কারাগারের সংরক্ষিত হাজতি রেজিস্ট্রার অনুসারে আসামি কুলসুম আক্তার গত ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর কারাগারে আসেন। তিনি কারাগারে প্রায় এক বছর তিন মাস ছিলেন। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালত ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জামিন মঞ্জুর করেন। ওই দিন কারাগার থেকে মুক্তি পান কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এর পরে তিনি দুর্ঘটনায় মারা যান। যেটি নিয়ে সৃষ্টি হয় ধুম্রজাল।###

চট্টগ্রামে করোনায় মৃত্যু ৫,শনাক্ত ১৪৫
চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামে একদিনের ব্যবধানে করোনা শনাক্ত অর্ধশতাধিক কমে স্বস্থি এনেছে । কমেছে শনাক্তের হারও। তবে ‘মৃত্যু’ বৃদ্ধিতে শঙ্কাটা বাড়িয়ে দিলো। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫ করোনা রোগী। একদিন আগে চট্টগ্রামে ২০৬ জন করোনা শনাক্ত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ১৪৫ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারসহ চট্টগ্রামের সরকারি-বেসরকারি ১১টি ল্যাব ও বিভিন্ন এন্টিজেন বুথে সর্বমোট ১ হাজার ৩৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে করোনা ১৪৫ জনের নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এদিন নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১ হাজার ৩৭৫টি। এ হিসাবে শনাক্তের হার ১০.৫৪ শতাংশ। একদিন আগে শনাক্তের এ হার ছিল ১৩.০১ শতাংশ। এদিকে শনাক্তের স্বস্থি হারিয়ে গেছে মত্যুর আহাজারিতে। একদিন আগে দুই করোনা রোগীর মৃত্যু হলেও সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ জনের মধ্যে নগরের ১ জন, বাকি ৪ জন উপজেলার। আর শনাক্তের মধ্যে ১০৬ জন নগরের এবং ৩৯ জন উপজেলার বাসিন্দা। নতুন শনাক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৪ জন হাটহাজারী উপজেলার।
চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত মৃত ১ হাজার ২৩২ জনের মধ্যে ৬৮৯ জন নগরের আর ৫৪৩ জন উপজেলার বাসিন্দা। আর শনাক্ত ৯৯ হাজার ৪৮৬ জনের মধ্যে ৭২ হাজার ৩৩৪ জন নগরের এবং ২৭ হাজার ১৫২ জন উপজেলার বাসিন্দা।
গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৫৪ জন, ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটি ল্যাবে ৩৯ জন এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১৩ জনের শরীরে করোনার অস্থিত্ব¡ মিলেছে।
একই সময়ে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ৬ জন, জেনারেল হাসপাতাল আরটিআরএল ল্যাবে ১, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল ল্যাবে ৩ জন, ইপিক হেলথ কেয়ার ল্যাবে ১৪ জন, শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৫ জন, ইমপেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৬ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া যায় এবং অ্যান্টিজেন টেস্টে ৪ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

বিমানবন্দরে র‌্যাপিড টেস্টের মেশির বসানোর দাবিতে প্রবাসীদের আল্টিমেটাম
চট্টগ্রাম ব্যুরো: দেশের তিনটি বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্ট ক্যাম্প বসানোর দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে দেশে আটকে পড়া আরব-আমীরাত প্রবাসী বাংলাদেশীরা। তারা দ্রুত আরব আমিরাত গামী যাত্রীদের জন্য শাহ আমানত, শাহজালাল এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে র‌্যাপিড টেস্টের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ঢাকায় আমরণ অনশন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আমিরাতগামী যাত্রীদের জন্য তিনটি বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্ট ক্যাম্প বসানোর দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ কথা বলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আমার দেশ আমার মাটি’ নামক একটি সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১২ মে থেকে করোনা আগ্রাসনের কারণে বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা উপলক্ষে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি ছুটি এবং বেড়াতে এসে আটকা পড়ে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় ওইসব দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের জন্য সব প্রতিবন্ধকতা উঠিয়ে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। বর্তমানে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকার পরও আমরা আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা আমিরাত যেতে পারছি না। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে আমিরাতের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোতে র‌্যাপিড পিসিআর টেস্টের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ৫০ হাজারের উপর প্রবাসী তাদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিস্থলে যেতে পারছে না।
বক্তারা আরও বলেন, প্রবাসীদের বিশাল অংশ দেশে আটকে পড়ায় ২৮ শতাংশ রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে এসেছে। অথচ রেমিট্যান্সের ওপর অনেকটা নির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতি। বক্তারা অবিলম্বে বাংলাদেশের ৩টি বিমানবন্দরে র‌্যাপিড টেস্ট মেশিন বসানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রবাসীদের জীবন রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুত্ব নিয়ে দেখবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। আগামী তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না এলে তারা আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও উল্লেখ করেন।
‘আমার দেশ আমার মাটি’ সংগঠনের সভাপতি মোক্তার হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিবলী আল সাদিব। উপস্থিত ছিলেন প্রধান সমন্বয়ক ইয়াছিন চৌধরী, যুগ্ন-আহব্বয়ক মো. মুছা, সদস্য সচীব নেওয়াজ কবির, প্রকৌশলী াসে এম মহিউদ্দিন বেলার রনি, রেজাউল করিম, মোজাম্মেল হক, মো. হেলাল, শাহীদা হামজা, রাসেল, রুবেল, সুমন, ফুজেইরা মো. ফরিদুল আলম, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা মো. বেলাল হোসেন, মো. ফয়সাল, মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. নজরুল, মো. দিদার, গিয়াস উদ্দিন সিকদার, কাজী সালাউদ্দিন, মো. জাবেদুল ইসলাম, মো. মোস্তফা, মো. মনির, মো. শওকত, মিঠুন কান্তি দত্ত, তপন নাগ, গৌতম দাশ, মো. আজিজ, মো. ফারুক প্রমুখ।

Leave a Reply

প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: সি-৫/১, (৪র্থ তলা) ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
ঢাকা অফিস : বিএনএস সেন্টার (৯তলা), প্লট-৮৭, সেক্টর-০৭, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০
Design & Developed BY PopularITLimited