,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

প্রবৃত্তির দমনে পরিশুদ্ধ জীবন লাভ – ইমাম গাজালি (রহ.)

অনলাইন ডেস্ক :

মানুষের জন্য তার প্রবৃত্তি শয়তানের চেয়েও বড় ও ভয়ানক শত্রু। প্রবৃত্তির মাধ্যমে মানুষের ওপর শয়তান শক্তি-সামর্থ্য লাভ করে থাকে। সুতরাং মানুষকে প্রবৃত্তির প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। প্রবৃত্তির প্রতারণাগুলোর মধ্যে আছে দ্বিন পালনে সহজতার সন্ধান, আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের ব্যাপারে অসচেতন ও অবচেতন থাকা, আরামপ্রিয় ও বিলাসী হওয়া, জীবনযাপনে বেপরোয়া ও দ্বিধাহীন হওয়া ইত্যাদি। এই স্বভাবগুলো ক্ষতিকর। মানুষ প্রবৃত্তির ধোঁকায় পড়লে সে তাকে জাহান্নামে নিয়ে ছাড়ে, পার্থিব জীবনেও সে বিপদগ্রস্ত হয়। প্রবৃত্তির কবল থেকে রক্ষার একটি উপায় নিজের কাজগুলো পর্যালোচনা করে দেখা। পরকালের চিন্তা থেকে মানুষ অতীত কর্মকাণ্ডের পর্যালোচনা করলে তা তাকে পরিশুদ্ধ হতে সাহায্য করে। এ জন্য মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘এক মুহূর্ত কোনো কল্যাণকর বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হাজার বছর ইবাদত করার চেয়ে উত্তম।’ (তাফসিরে আবিল লাইস)

সুতরাং বুদ্ধিমানরা তার অতীত পাপের জন্য তওবা করবে এবং পরকালের ব্যাপারে চিন্তা করবে—কিভাবে পরকালে মুক্তি লাভ করবে, মিথ্যা আশা থেকে নিজেকে রক্ষা করবে, যথাযথভাবে তওবা করবে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করবে, পাপ কাজ পরিহার করবে এবং সত্য পথে চলার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করবে। প্রবৃত্তি একটি দেব মূর্তির মতো। যে তার অনুসরণ করল, সে যেন তার উপাসনা করল। আর যে নিষ্ঠার সঙ্গে আল্লাহর আনুগত্য করল, সে প্রবৃত্তির বিষ থেকে রক্ষা পেল।

মালিক বিন দিনার (রহ.) সম্পর্কে বলা হয়, একবার তিনি বসরার একটি বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ডুমুরের ওপর চোখ পড়ল এবং তা খেতে ইচ্ছা করল। তিনি জুতা খুলে দোকানদারকে দিলেন এবং তার বিনিময়ে ডুমুর চাইলেন। দোকানি বলল, ডুমুরের তুলনায় জুতার দাম কম। উত্তর শুনে মালিক বিন দিনার (রহ.) সামনে এগিয়ে গেলেন। কেউ একজন বলল, যে ডুমুর চেয়েছিল তাকে চেনো? দোকানদার বলল, না। সে বলল, উনি মালিক বিন দিনার। উত্তর শুনে দোকানি দাসের মাথায় ডুমুরের ঝুড়ি তুলে দিয়ে বলল, তিনি যদি তোমার ঝুড়ি গ্রহণ করে, তবে তুমি স্বাধীন। দাস মালিক বিন দিনারকে ডুমুর গ্রহণ করার অনুরোধ করল এবং বলল, আপনি এই উপহার গ্রহণ করলে আমি স্বাধীন হব। তিনি উত্তর দিলেন, এতে তোমার স্বাধীনতা ও আমার ধ্বংস নিহিত। দাস বারবার অনুরোধ করলে তিনি বললেন, আমি শপথ করেছি ডুমুরের বিনিময়ে নিজের দ্বিনদারি (ধার্মিকতা) বিক্রি করব না এবং পরকালেই তার স্বাদ গ্রহণ করব। মালিক বিন দিনার (রহ.) যখন মৃত্যুশয্যায় এক পেয়ালা মধু ও দুধ চাইলেন। সেবক তা নিয়ে উপস্থিত হলে তিনি পাত্রটি হাতে নিয়ে গভীর মনোযোগসহ দেখলেন এবং বললেন, হে মন! তুমি এটার জন্য ৩০ বছর অপেক্ষা করেছ। এখন তোমার জীবনের কয়েক মুহূর্ত অবশিষ্ট আছে। অতঃপর তিনি তা ছুড়ে ফেললেন এবং মনকে ধৈর্য ধারণ করতে বললেন। এভাবেই তাঁর মৃত্যু হলো। নবী-রাসুল, আল্লাহর প্রিয় বান্দা, তাঁর প্রেমিক ও আধ্যাত্মিক সাধকরা এভাবেই নিজের প্রবৃত্তি দমন করতেন।

সোলায়মান (আ.) বলেছেন, ‘নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে বিজয়ী ব্যক্তি একাকী শহর বিজয়কারীর চেয়ে বড় বীর ও কৃতিত্বের অধিকারী।’ আলী ইবনে আবি তালিব (রহ.) বলেন, ‘আমি ও আমার প্রবৃত্তির উদাহরণ বকরি ও চাবুকের মতো। বকরি যখন এদিক-সেদিক মুখ দেয়, চাবুক তখন তার গতিপথ ঠিক করে দেয়। আমিও এভাবে প্রবৃত্তিকে দমন করি।’ ইয়াহইয়া বিন মুয়াজ আর-রাজি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহর আনুগত্য ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম কোরো। আধ্যাত্মিক সাধনা হলো—রাত জেগে ইবাদত করা, কম কথা বলা, আল্লাহর সৃষ্টির কষ্ট দূর করা, কম খাওয়া। কেননা রাত জাগলে মানুষের কামনা প্রশমিত হয়, কম কথায় বিপদমুক্তি ঘটে, আল্লাহর সৃষ্টির কষ্ট দূর করলে আল্লাহ তার প্রত্যাশা পূরণ করেন, কম খেলে যৌন চাহিদা কমে, বেশি খেলে হূদয়ে কঠোরতা তৈরি হয় এবং অন্তর মরে যায়। ক্ষুধা (খাবার গ্রহণে সংযম) প্রজ্ঞা সৃষ্টি করে আর পেটপুজা আল্লাহ থেকে দূরে ঠেলে দেয়।’ হাদিসে এসেছে, ক্ষুধা দ্বারা নিজের অন্তর আলোকিত করো, ক্ষুিপপাসার মাধ্যমে নিজের প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করো, ক্ষুধার মাধ্যমে জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়াও। কেননা তার প্রতিদান আল্লাহর পথে জিহাদকারীর অনুরূপ, আল্লাহর জন্য ক্ষুধা ও পিপাসা সহ্য করা তাঁর কাছে প্রিয় আমল। ফেরেশতা পেটপুজারিদের নিকটবর্তী হতে অপছন্দ করে এবং এমন মানুষ ইবাদতের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়।

আবু বকর সিদ্দিক (রা.) বলতেন, ‘আমি ইসলাম গ্রহণের পর কখনো পেটপুরে খাইনি। আমি আল্লাহর ইবাদতের স্বাদ অনুভব করি। আগেকার বুজুর্গরা খাবার গ্রহণে সংযমী ছিলেন। কেননা বেশি খাবার খেলে শরীর ভার হয়ে যায় এবং ব্যক্তির ওপর ঘুম প্রবল হয়, শরীরে আলস্য ভর করে। তখন মৃতের মতো ঘুমানো ছাড়া আর কোনো কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না।’ মিনহাজুল আবিদিনে লোকমান হাকিম (রহ.) সম্পর্কে লেখা হয়েছে, তিনি তাঁর ছেলেকে বেশি ঘুমাতে ও বেশি খেতে নিষেধ করেছেন। যারা এ দুটি কাজ বেশি করবে, পরকালে তারা নেকিশূন্য নিঃস্ব অবস্থায় উঠবে। সাধক আলেমরা বলেন, মানুষের অন্তর উত্তম পাকস্থলীর ওপরের হাড়ির মতো—যার তাপ অন্তরে এসে লাগে। পাকস্থলীর তাপ বাড়লে অন্তর কালো হয়ে যায়।

আল্লাহ সবাইকে প্রবৃত্তির দমন ও সংযত জীবনযাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

তামিরে হায়াত থেকে

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: সি-১১/১০, ছায়াবীথি, সাভার, ঢাকা-১৩৪০
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
ঢাকা অফিস : ২১ দক্ষিনখান (শহীদ লতিফ রোড), ঢাকা-১২৩০
Design & Developed BY PopularITLimited