,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

কুড়িগ্রামে অন্য পেশাজীবী, ১ম শ্রেণির ঠিকাদার, বড় ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী সাংবাদিক পেল প্রধানমন্ত্রীর সাহায্যের চেক

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কাঙ্গালেরা যে দিকে তাকায় সেদিকের দরিয়া শুকিয়ে যায়” গ্রাম অঞ্চলের হতাশ হওয়া মানুষগুলোর মুখে এই বাক্য প্রায়ই শোনা যায়। কারণ এ সমাজের প্রকৃত হকদাররা সবসময়ই লাইনের পিছনে পড়ে থাকে। প্রভাবশালীদের ভীড়ে হকদাররা বরাবরই হারিয়ে যায়। গণ ভোজনালয়ে হকদারের থালায় শুধু শুকনো ভাতই থাকে। তরকারি পাওয়ার আগেই তা ফুঁড়িয়ে যায়। কুড়িগ্রামে করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সাহায্য প্রদানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক খ.ম আতাউর রহমান বিপ্ল্ললবের ফেসবুকে পোষ্টকৃত তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ২০২০ রংপুর বিভাগের সাংবাদিকদের করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাহায্যের চেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জননেতা জনাব খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এম পি হাত থেকে কুড়িগ্রাম জেলার সাংবাদিকদের চেক গ্রহণ করেন প্রেসক্লাব সভাপতি এডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্ল্লব। ৩১ জুলাই ২০২০ইং আবার একটি পোষ্ট থেকে জানা যায়, কুড়িগ্রামে করোনাকালিন সময়ে ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পেশায় যুক্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত চেক বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে সৈয়দ শামসুল হক মিলনায়তনে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু। ৩১জন সাংবাদিকদের প্রতিজনকে ১০ হাজার টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়। করোনায় সরকারের আর্থিক সাহায্যে চেক পাওয়ার মধ্যে রয়েছে- কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী পদে চাকুরী করা ও নিউএজ পত্রিকার প্রতিনিধি গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম পৌরসভার কর কর্মকর্তা ও দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিন্টু, নীলারাম স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক ও দৈনিক মাতৃছায়া পত্রিকার প্রতিনিধি তৌহিদুল বকসী ঠান্ডা, উমর মজিদ আলগুন নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার প্রতিনিধি মাহফুজার রহমান রঞ্জু (এম রহমান রঞ্জু), কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক, ন্যাশনাল কোচিং সেন্টারের মালিক ও বাংলাদেশ প্রতিদিন, আরটিভি, আলোকিত বাংলাদেশ, নিউ নেশন পত্রিকার প্রতিনিধি একরামূল হক খন্দকার সম্রাট, কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদরাসার প্রাকটিক্যাল পরীক্ষক ও ডেইলী স্টার পত্রিকার প্রতিনিধি আব্দুল ওয়াহেদ, কুড়িগ্রামের বিশিষ্ট ধনী ব্যবসায়ী, ৭১ টিভি, দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার প্রতিনিধি রাজু মোস্তাফিজ, বিশিষ্ট ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও কুড়িগ্রাম খবর পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক অলক সরকার, কাঁঠালবাড়ী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকা, ইন্ডিপেন্টেন্ড টিভি ও মাসিক বিভাস পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুল খালেক ফারুক, বিশিষ্ট ঠিকাদার ও দৈনিক দিনকাল পত্রিকা, মর্নিং অবজারভার পত্রিকার প্রতিনিধি হারুন উর রশিদ হারুন, কুড়িগ্রাম আলিয়া মাদরাসার কর্মচারী ও দৈনিক বজ্রশক্তি পত্রিকার প্রতিনিধি মোঃ শাহ্ আলম, জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক, বিশিষ্ট মেডিসিন ব্যবসায়ী, ভোরের দর্পন পত্রিকা ও মাইটিভি’র প্রতিনিধি আশরাফুল হক রুবেল, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার জেলা অফিস প্রধান শফি খান, ফ্রিডম পার্টির নেতা জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করা ও দীপ্ত টিভির প্রতিনিধি ইউনুছ আলী, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ মোটা অংকের বেতনভুক্ত, বিভিন্ন পেশাজীবী, ঠিকাদার, বড় ব্যবসায়ী ও বিত্তবান সংবাদকর্মী এই আর্থিক সাহায্যের আওতায় আসেন। অথচ কুড়িগ্রাম জেলা শহরের প্রায় অর্ধ শতাধিক সাংবাদিক রয়েছে যারা শুধুমাত্র সাংবাদিকতা পেশার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। তারা এই প্রনোদনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা সম্পদশালী না হওয়ায় মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্বেও ভালো নামিদামী মিডিয়ায় কাজ করার সুযোগ পায়নি। যার ফলে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ২য় ও ৩য় শ্রেণির পত্রিকা, ঢাকার বাহিরে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রকাশিত আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকায় এবং অনলাইন পত্রিকায় কাজ করে জীবীকা চালাচ্ছেন। বাস্তব তথ্য অনুসারে করোনা পরিস্থিতিতে দেশের নামীদামী কোন পত্রিকা, টিভি চ্যানেল বন্ধ হয়নি এবং বন্ধ হওয়ার উপক্রমও সৃষ্টি হয়নি। বন্ধ হয়েছে এবং বন্ধের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে দেশের অনেক ছোট পত্রিকা। বিআইজেএন’র তথ্য সুত্রে জানা গেছে, রাজধানী শহরের ২য় ও ৩য় শ্রেণির , আঞ্চলিক ও স্থানীয় (৬০ দশমিক ৩১ শতাংশ) পত্রিকা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। অনিয়মিত অর্থাৎ বিজ্ঞাপন পেলে, অথবা অর্থের সংস্থান হলে ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ সংবাদপত্র প্রকাশ করা হয়। যার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া বা বন্ধের উপক্রম সৃষ্টি হওয়া মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদকর্মীরা প্রায় আয়হীন ও কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরকারের দেয়া আর্থিক সাহায্য (প্রনোদনা) পাওয়ার প্রকৃত হকদার এই সকল আয়হীন ও কর্মহীন সংবাদকর্মীরাই। কুড়িগ্রামের একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেন- কুড়িগ্রামের যে সকল সংবাদকর্মী আর্থিক সাহায্যের চেক পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই ধনাঢ্য ও অন্য পেশায় যুক্ত আছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন এতো বেশি সম্পদের মালিক যে তারা নিজেই এ রকম শত শত মানুষকে আর্থিক সাহায্য ও ত্রাণ দেয়ার সামর্থ রাখেন। স্থানীয় সাপ্তাহিক ধরলা পত্রিকার প্রতিনিধি হাবিবুল হক লিংকন বলেন- যারা বিত্তবান সাংবাদিক তারাই করোনায় ১ম ধাপের সরকারের আর্থিক সাহায্য পেলেন। আমরা প্রনোদনা পাবো কিনা তা সৃষ্টিকর্তাই জানেন। কুড়িগ্রাম জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এসএম আবুল হোসেন (বাবুল) বলেন- লকডাউনের সময় বড় মিডিয়াগুলো ছাড়া দেশের অন্য সকল মিডিয়াগুলো বন্ধের উপক্রম হয়ে অনলাইন নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আমরা কর্মহীন সংবাদকর্মীর একটি তালিকা দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেছিলাম গত ০৫/০৫/২০২০ ইং। কিন্তু এখনও কোন আর্থিক সাহায্য পাইনি। কিন্তু বিত্তবান ও সংশ্ল্লিষ্ট মিডিয়ায় বেতন ভুক্ত সাংবাদিকরাই সকল সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন। কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু বলেন- যে সকল সাংবাদিক আর্থিক সাহায্যের চেক পাননি। তাদের পাবার সুযোগ রয়েছে। আগামীতে তারাও আর্থিক সাহায্য পাবে। কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন- সমন্বয়হীনতার কারণে যেন প্রধানমন্ত্রীর সৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে না যায়। করোনা পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের আর্থিক সাহায্যের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে প্রকৃত দুস্থ্য সাংবাদিকদেরকেও।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited