,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

বিদ্রোহী কবি নজরুলের স্মৃতি বিজরিত মানিকগঞ্জের তেওতা জমিদার বাড়ি

গবেষনা: তোফায়েল হোসেন তোফাসানি

নদী বিধৌত মানিকগঞ্জ জেলা। এই জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের মধ্যে শিবালয় উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ি অন্যতম। কারণ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজরিত এই বাড়িটি ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
গবেষনায় জানাগেছে, তেওতা জমিদার বাড়িটি মোট ৭.৩৮ একর জমির উপর স্থাপিত। মূল প্রাসাদের চারপাশে রয়েছে আরও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ও একটি বড় পুকুর। প্রাসাদের মূল ভবনটি লালদিঘী ভবন নামে পরিচিত। এখানে একটি নটমন্দিরও রয়েছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে নবরত্ন মঠ ও আর বেশ কয়েকটি মঠ। সবগুলো ভবন মিলিয়ে এখানে মোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি। পদ্মা নদীর কোল ঘেষে নয়নাভিরাম তেওতা জমিদার বাড়ী মানিকগঞ্জ জেলাকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

সতেরশ’ শতকে এই জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন সেন নামক একজন জমিদার। জনশ্রুতি অনুসারে, পঞ্চানন সেন এক সময় খুবই দরিদ্র ছিলেন ও দিনাজপুর অঞ্চলে তিনি তামাক উৎপাদন করে প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হওয়ার পর এই প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। পরবর্তিতে এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠিত করে জয়শংকর ও হেমশংকর নাম দুজন ব্যক্তি। ভারত বিভক্তির পর তারা দুজনেই ভারত চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে এই জমিদার বাড়িতে। এ প্রাসাদেই কবি নজরুল প্রেমে পড়েন প্রমীলা দেবীর। এ সময় তিনি লিখেছিলেন কালজয়ী গান- “তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়, সেকি মোর অপরাধ।”
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও প্রমীলা দেবীর প্রেম অমর হয়ে আছে এই জমিদার বাড়িতে। কবি নজরুল এই বাড়িতে এসে অবস্থান করতেন এবং লিখতেন কবিতা, গান, সাহিত্য।
বাবু হেমশংকর রায় চৌধুরী ও বাবু জয় শংকর রায় চৌধুরী দুই সহোদর ভ্রাতার নিজ বসতবাড়ী ছিল এই জমিদার বাড়িটি। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তেওতা অবস্থান করে তারা জমিদারি পরিচালনা করতেন।

কুমিল্লার দৌলতপুর যাবার পথে আলী আকবর খান সাহেব নজরুলকে নিয়ে কয়েকদিন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে শ্রী ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে থেকে যান। ইন্দ্রকুমার বাবু কুমিল্লা বোর্ড অফ ওয়ার্ডস-এর ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। ইন্দ্রকুমারের ছেলে বীরেন্দ্রকুমার কুমিল্লা জেলা স্কুলে পড়াশুনা করতেন। সে সময় আলি আকবর খানও সেখানে পড়তেন। তাই আলী আকবর বীরেন্দ্রকুমারের ক্লাসমেট ছিলেন। ক্লাসমেট থেকে তাঁরা বন্ধু হয়ে গিয়েছিলেন। পরস্পরের বাড়ীতে যাতায়াত ছিল। বীরেন্দ্রকুমারের বাড়ীতে স্ত্রী, বোন, ছেলে ও বাবা মা ছাড়াও আরো থাকতেন বিধবা পিসী গিরিবালা দেবী ও তাঁর একমাত্র কন্যা প্রমীলা তথা আশালতা সেনগুপ্তা, যার ডাকনাম দুলী।
আশালতার স্বর্গীয় পিতা, শ্রী বসন্তকুমার সেনগুপ্তের আদি নিবাস ছিল মানিকগঞ্জের তেওতা গ্রামে। তিনি ত্রিপুরা সরকারের নায়েবের পদে চাকুরী করতেন। পিতার মৃত্যুর পর প্রমীলারা কুমিল্লায় আত্মীয় বীরেন্দ্রকুমারদের বাড়ীতে এসে সেখানেই বসবাস করছিলেন।
কনে আশালতা বা দুলী দেবীর বয়স ১৮ বছরের বেশ কম ছিল বলে অফিসিয়ালি হিন্দু-মুসলমানের বিয়ে, অর্থাৎ সিভিল ম্যারেজ হতে পারেনি। অগত্যা ইসলামী মতেই বিয়েটি হয়। এ জটিলতায় হিন্দু, মুসলনমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরা চটে যান। দুলীর গায়ের রঙ চাঁপাকলির মতো ছিল বলে নজরুল তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের নাম দিয়েছিলেন “দোলন চাঁপা”। দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেবার পর থেকে প্রমীলা দেবী পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে বহুদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। কবি প্রায় তাঁর সর্বস্ব দিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে থাকেন।
দুর্ভাগ্যবশত: অল্পদিনের মধ্যে দারুণ অসুস্থ হয়ে তিনি নিজেও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৩৮ বছর সংসার করার পর, ১৯৬২ সালের ৩০শে জুন, শনিবার, মাত্র ৫২ বছর বয়সে প্রমীলা দেবী তাঁর কলকাতার পাইকপাড়ার বাসাতে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
ইতিহাসের সাক্ষী তেওতা জমিদার বাড়িটি সংস্কার অতি জরুরী। তা না হলে কালে গর্ভে হারিয়ে যাবে এই প্রত্মতত্ত্ব নিদর্শণ।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited