,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

ঘুর্ণিঝড় আম্পানের বিষক্ত ছোবলে কেশবপুর লন্ডভন্ড ॥ ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি

কেশবপুরঃ(যশোর) প্রতিনিধি :

কেশবপুরে করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর এক মাত্র মাথা গোজার ঠাঁইটুকুও কেড়ে নিয়েছে ঘুর্ণিঝড় আম্পান। আম্পানের বিষক্ত ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে কেশবপুরের সার্বিক উন্নয়ন। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে আম্পানে সর্বশান্ত পরিবারগুলো তাদের সহায় সম্বল বিক্রি করে একমাত্র মাথা গোজার ঠাঁই মেরামত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের কারনে সৃষ্ট ঝড়,দমকা হাওয়া ও অতি বৃষ্টিতে কেশবপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বরোধান, পাট,আম তরতিরকারী,গরু,ছাগল হাস, মুরগি,বিভিন্ন প্রজাতির গাছ গাছালী ও কৃিষর ব্যাপক ক্ষতির কারনে কৃষকরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।এমনিতে করোনার কারনে সারাদেশের কৃষক উৎপাদিত কৃষি পন্যের দাম পায়নি। এর উপর আম্পানের আঘাতে কৃষকের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘাঁ এর মতো অবস্থা হয়েছে।এছাড়াও স্কুল, কলেজ,রাস্তা-ঘাট,গাছ, গরু,ছাগল,বাড়ি ও পল্লি বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।পল্লি বিদ্যুতের শতাধিক পোল ভেঙ্গে পড়ায় গ্রাহকদের বিপাকে পড়তে হয়েছে। স্বাস্থ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে কেশবপুর উপজেলায় ঘুর্নিঝড়ের তান্ডবে শিশুসহ ১৪জন আহত হয়েছে ও পড়ে যাওয়া গাছ সরাতে গিয়ে একজন নিহত হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে গুর্নিঝড় আম্পানের কারনে ২০ হেক্টর পাট,৭শত ১২ হেক্টর গ্রীস্মকালীন সবজি,১০ হেক্টর মুগডাল,২৪ হেক্টর তিল, ১৬ হেক্টর মরিচ, একশ”৩৫ হেক্টর পান, ৬৮ হেক্টর লিচু, ৪শ ২৪ হেক্টর আম, ২৫ হেক্টর পেপে,৪৫ হেক্টর কলার খেত, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এর ভিতর সম্পুর্ন ক্ষতি হয়েছে ২০ হেক্টর গ্রীস্মকালীন সবজি,এক হেক্টর মরিচ,২০ হেক্টর পান,২ হেক্টর লিচু, ৫০ হেক্টর আম,ও ৫ হেক্টর কলার খেত। বাকি খেতের ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত কৃষকের ৩হাজার ৮শ ৯২ মেট্রিক টন উৎপাদিত ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রক্লপ বাস্ত বায়ন অফিস সুত্রে জানা গছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘরবাড়ি ভেঙে প্রায় পাঁচ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী সুত্রে জানা গেছে.ঝড়ের কারনে প্রায় ১১কিলোমিটার রাস্তা ন্ষ্টহয়ে পাঁচ কটি ৩০ লাক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে,উপজেলার ৬০টি উচ্চবিদ্যালয়, ৮টি কলেজ,ও ৫১টি মাদ্রাসার ভবনের চাল উড়ে গিয়ে প্রায় এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে ৪৫টি মুরগির খামারের ক্ষতি হয়েছে ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তান্ডবে ৬০টি গভীর নলকুপ সম্পুর্নও ৪০টি আয়শিক এবং অগভীর নলকুপ সম্পুর্ন ৭২টি ও আংশিক ৪৮টি ভেঙে প্রায় ৭৬ লাক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থসম্মত পায়খানা চারশ২০টি সম্পুর্নও ২শ ৮০টিআংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ৪০ লাক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পল্লী বিদ্যুত অফিস সুত্রে জানা গেছে, ঘুর্নিঝড় আম্পানের প্রভাবে কেশবপুর উপজেলার ৯৫টি পোল বেঙেও উপড়ে পড়ে গেছে । ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬শ ৬৩টি মিটারও১২টি ট্রাস্নফরমার এবং এক হাজার ৯৩ কিলোমিটার তারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৯৫লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ৯ দিন হয়ে গেলেও বর্তমান কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতবিহীনভাবে দিন রাত যাপন করতে হচ্ছে। পল্লিবিদ্যুত কেশবপুর অফিসের ডি, জি এম মোঃ আব্দুল লতিফ জানান,আসা করি দু এক দিনের মধ্যে সকল গ্রাহক বিদ্যুত পেয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা জানান, ঘুর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবে সাত হাজার ৯শ ৫৭জন কৃষকের প্রায় ১৩ কোটি ৬৩ লাখ৭৫ হাজার টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান বলেন,ঘুর্নিঝড় আম্পানের কারনে কেশবপুর বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ২৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপজেলা নির্বাহী অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে। সরকারিভাবে সহায়তা আসলে তাদেরকে সহযোগিতা করা হবে।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited