,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

বন্ধ হয়নি এনজিওর কিস্তি আদায় বিপাকে মানুষ

সারাদেশ ডেস্ক:

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বন্ধ হয়নি এনজিও’র কিস্তি আদায়। এতে করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্ম আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়েছে। করোনা মহামারীর এ সময় সাধারণ নিম্ম আয়ের মানুষদের সংসার চালাতে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সময় এনজিওর কিস্তি যেন “মরার উপর খড়ার ঘা।”

ধামরাইয়ের হাজীপুর গ্রামবাসীদের অনেকেই জানান, করোনা ভাইরাসের আক্রমনে বাংলাদেশে যখন সবাই মানবিকতা দেখাচ্ছে, তখন এনজিও ও মাল্টিপারপাস কোম্পানীগুলো বাড়ি বাড়ি এসে কিস্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। এদের অত্যাচারে অনেকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এই গ্রামের অনেকেই এখন কষ্টে দিন চালাচ্ছেন বলে জানান নূরুল ইসলাম নামে এক শ্রমজীবি। তিনি সিএনআই নিউজকে বলেন, এই সংকট মূহুর্তে আমরা জীবিকার জন্য দিশেহারা। আয়-রোজগারও কমে যাচ্ছে। এরপরও সংচার চালানোর শেষ সম্বলটুকু এদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে।

দিনমজুর-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন স্থানে চলছে এনজিওর ঋণ আদায় কার্যক্রম। এতে এনজিওর ঋণ গ্রহণকারী দরিদ্র মানুষ এখন বিপাকে। তাদের দাবি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঋণ আদায় স্থগিত করার।

এদিকে নাটোর, রায়পুর, রামগঞ্জ, কলাপাড়া ও অভয়নগরে ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, ছয় মাসের জন্য এনজিও ঋণের কিস্তি শিথিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। জুন পর্যন্ত ঋণগ্রহিতা কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে সেটিকে খেলাপি বা বিরূপমানে শ্রেণিকরণ করা যাবে না।

গত রোববার মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে। সার্কুলারে বলা হয়, বর্তমানে করোনা ভাইরাসজনিত কারণে বিশ্ববাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতির এ নেতিবাচক প্রভাবের ফলে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহিতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বিধিমালা, ২০১০ এর বিধি ৪৪ অনুসরণে ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ঋণের শ্রেণিমান যা ছিল, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ওই ঋণ তার চেয়ে বিরূপ মানে শ্রেণিকরণ করা যাবে না। 

এর আগে গত কয়েকদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়ায় এনজিও ও সমিতির কিস্তি শিথিল করার জন্য অনেকেই আলোচনা করে বিভিন্ন পোস্ট দেয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথোরিটির নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু মুখার্জ্জি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা আপাতত আগামী জুন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধের বিষয়টি রিল্যাক্স করে সার্কুলার দিয়েছি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রয়োজনে এ সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।

এমআরএর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৫৮টি এনজিও সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। ৩ কোটির বেশি গ্রাহক এই ঋণ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ ৬৮ হাজার কোটি টাকা।

মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এধরনের দির্দেশ জারি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সাভার, আশুলিয়া , ধামরাইয়ে এনজিওগুলোর পশাপাশি অবৈধভাবে গজিয়ে উঠেছে অনেক মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান। এরা সমবায় অধিদপ্তরের আইনকে উপেক্ষা করে চালিয়ে সুদ ও দাদন ব্যবসা। এদের অত্যাচারে অনেকেই এখন দিশেহারা।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল): ভূঞাপুরে এনজিওর কিস্তি দিতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। করোনাভাইরাস আতঙ্কে হাট-বাজারে মানুষ নেই। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের আয় নেই। খেটে খাওয়া মানুষেরা হয়ে পড়ছেন বেকার। এমতাবস্থায় এনজিওর সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তির টাকা জোগাড় দূরের কথা খাবার কেনার টাকা জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলায় শতাধিক এনজিও নিয়মিত ঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব এনজিও থেকে কয়েক হাজার মানুষ ঋণ সংগ্রহ করেছেন। এতে ঋণগ্রহীতারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ভুক্তভোগীরা জানায়, কিস্তির টাকা না দিলে কর্মীরা জন্য রাত অবধি বসে থাকেন, গালমন্দ করেন, হুমকি দেন। গোবিন্দাসী এলাকার ভ্যানচালক আমিনুর জানান, করোনাভাইরাসের কারণে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করায় মানুষ ঘর থেকে কম বের হন। সারা দিনে ভ্যান চালিয়ে যে উপার্জন হয় তাতে সংসারই হয় না আবার কিস্তি দেব কোথায় থেকে।

ফলদা বাজার হাটের মুদি দোকানদার হাসান জানান, হাটে লোকজন প্রয়োজন ছাড়া আসছে না। বেচাকেনা খুবই কম। ইভাবে চললে সংসার চালান খুবই কঠিন।

ইউএনও নাসরীন পারভীন বলেন, এনজিওগুলোর কিস্তি আদায়ের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

গাইবান্ধা: করোনাভাইরাস দুর্যোগে কিস্তি মওকুফে সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করাসহ ৭ দফা দাবিতে মঙ্গলবার বাসদ (মার্কসবাদী) শহর শাখার উদ্যোগে গাইবান্ধা পৌর মেয়র শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলনের হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এর আগে পৌরসভা চত্বরে বাসদ (মার্কসবাদী) শহর শাখার সংগঠক আবু রাহেন শফিউল্যাহ খোকনের সভাপতিত্বে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্য নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, লীজা উল্যাহ, মাসুদা আকতার প্রমুখ।

গুরুদাসপুর (নাটোর): নাটোর জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ হতদরিদ্রদের আয় কমায় সব এনজিওর ঋণ আদায় বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এনজিও কর্মকর্তারা সে আদেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায় করছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এনজিও থেকে ঋণগ্রহীতা জাহানার বেগম, আসমা খাতুন, রোকেয় বেগমসহ অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে তারা ঋণ নিয়েছেন। প্রায় সবাই ওই ঋণের টাকা নিয়ে অটো ভ্যান ক্রয় করেছেন। তাদের স্বামীরা অটো ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। খাবার কেনার পর সেখান থেকে বাঁচিয়ে ঋণের কিস্তি দেন।

তারা জানান, দুই সপ্তাহ হল করোনার কারণে মানুষজনের চলাফেরা কমে গেছে। আগে ৩ থেকে ৫শ’ টাকা রোজগার হতো। বর্তমানে ১০০ টাকা কামাই হয় না। তা দিয়ে স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসারই চলে না, কিস্তি দেবে কোথায় থেকে। কিন্তু এনজিওর স্যারেরা এসে জবরদস্তি করছে। এমনকি গালমন্দও করছে।

ইউএনও মো. তমাল হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার নির্দেশ দিয়েছেন জুন পর্যন্ত কোনো এনজিওর ঋণের কিস্তি নেয়া যাবে না। কোনো এনজিও নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর): ইউএনও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কিস্তি জুন পর্যন্ত না নেয়ার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে রায়পুরের ২৩ এনজিও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে কয়েকটি এনজিওর মাঠকর্মীদের কিস্তি উত্তোলন করতে দেখা গেছে।

উপকূলীয় অঞ্চল চরআবাবিল ও চরবংশী ইউনিয়নের কয়েকটি জেলে পরিবার গ্রামে এনজিও কর্মীরা কিস্তি আদায়ের জন্য বাড়িতে বাড়িতে অবস্থান করছে। দিনমজুর ও জেলে পরিবারকে কিস্তি পরিশোধে চাপ সৃষ্টি করতে দেখা যায়।

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী): করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করলেও এখনও বন্ধ হয়নি কুয়াকাটায় এনজিও কর্মীদের ঋণের কিস্তি আদায়। মঙ্গলবার সকালে বেসরকারি সংস্থা আশার মাঠকর্মীরা কুয়াকাটা পৌরসভার ইসলামপুর মহল্লার বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে কিস্তি টাকা আদায় করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

২৩ মার্চ পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এনজিওর কিস্তি আদায় বন্ধ ঘোষণা করছেন। কিন্তু এনজিও কর্মকর্তারা তা মানছেন না। কিস্তির টাকা পরিশোধে অনেকে অনীহা প্রকাশ করলে এনজিও কর্মীরা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। নতুন করে ঋণ নিতে অসুবিধা হবে বলেও সতর্ক করা হচ্ছে ওই সব এনজিওর পক্ষ থেকে।

জাহিদ হোসেন নামে এক এনজিও মাঠকর্মী বলেন, কিস্তি আদায়ে আমাদের ওপরের কোনো নির্দেশ পাইনি। তাই আদায় করছি।

কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সরকারিভাবে এনজিওর কিস্তি তোলার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিষেধ আছে। এরকম অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভয়নগর (যশোর): ২৪ মার্চ যুগান্তরে অভয়নগরে এনজিওর কিস্তি আদায় শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হলে উপজেলা প্রশাসন কিস্তি আদায়ের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়।

মঙ্গলবার অভয়নগর ইউএনও নাজমুল হুসেইন খানের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএম রফিকুল ইসলাম উপজেলার সব এনজিও প্রতিনিধি ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত বিভিন্ন সমিতির কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তাদের দেয়া ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর): রামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কিস্তি আদায় বন্ধ করে দিয়েছেন ইউএনও মুনতাসির জাহান। করোনাভাইরাসজনিত কারণে দেশে লকডাউনে কিস্তি গ্রহীতারা সাপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তি পরিশোধে সমস্যা হবে মর্মে ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় লিখিত আদেশ জারি করেন।

লিখিত আদেশে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়ায় পর্যন্ত কিস্তি আদায় বন্ধ থাকবে।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited