,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

ডাকাত আতঙ্ক মাদকের থাবা

সিএনআই নিউজ : কুমিল্লায় গেল কয়েক মাসে খুন-খারাবিসহ অন্যান্য অপরাধ কর্মকাণ্ড কমলেও জেলাজুড়ে বিরাজ করছে ডাকাত আতঙ্ক। কিছুদিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়ি-ঘর ও সড়কে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ডাকাতি। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ কয়েকটি সড়ক ও জেলার বিভিন্ন উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় কয়েক দিন পরপরই হানা দিচ্ছে ডাকাতদল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও। এ ছাড়া মাদকের আগ্রাসনও কমেনি।

পুলিশ বলছে, ডাকাতি রোধে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে তারা। কোথাও কোথাও চিহ্নিত ডাকাতদের ধরিয়ে দিতে টানানো হয়েছে ফেস্টুনও।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত হত্যা-ধর্ষণসহ নানা অপরাধ বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় অপরাধপ্রবণতা রুখতে সোচ্চার হয় পুলিশ। অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যাপক অভিযানের পর হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ কমতে থাকে।

জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে জেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ৮০ জন। আর শেষ পাঁচ মাসে এ সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৩৫-এ। কমতে থাকে অন্যান্য অপরাধও। যদিও মাদকের আগ্রাসন বন্ধ করা যায়নি কিছুতেই। জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে মাদকসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য দেশে ঢুকছে অহরহ। প্রতি মাসে প্রায় সমানভাবেই মাদক কারবারি আটক ও মাদক জব্দ করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জুনের পর থেকে মাদক ছাড়া অন্যান্য অপরাধ কর্মকাণ্ড কমলেও ইদানীং জেলাজুড়ে বিরাজ করছে ডাকাত আতঙ্ক। এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ও গণপিটুনীতে নিহত হয়েছে কয়েকজন চিহ্নিত ডাকাত। সর্বশেষ গত ১ ডিসেম্বর ভোরে কুমিল্লার চান্দিনায় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে আন্তজেলা ডাকাত সর্দার দেলোয়ার হোসেন দেলু। এর আগে বুড়িচংয়ের কোমাল্লায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় দুই ডাকাত। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অভিযানে বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা, মুরাদনগর, দাউদকান্দি, তিতাস, দেবীদ্বারসহ অন্যান্য উপজেলা থেকে ডাকাতদলের অর্ধশতাধিক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, আন্তজেলা ডাকাতচক্রের বেশ কিছু সক্রিয় সদস্য রয়েছে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায়। তারা রাতে ডাকাতি করে দিনে আত্মগোপনে চলে যায়। কেউবা এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় আবার কেউবা এক জেলা থেকে আরেক জেলায় গিয়ে গা ঢাকা দেয়।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি উপজেলায় চার-পাঁচটি ডাকাতদল রয়েছে। প্রতিটি উপজেলার চিহ্নিত ডাকাতরা নিজ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও অন্য জেলায় ডাকাতি করে।

আশঙ্কাজনক হারে ডাকাতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তুলে ধরেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সুমন। তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ইদানীং ডাকাতি বেড়েছে। ডাকাতদের খপ্পরে পড়ে যাত্রীরা সর্বস্ব হারাচ্ছে, কখনো কখনো আহত হচ্ছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়হীনতার কারণে ভুক্তভোগীরা কোনো ধরনের প্রতিকার পাচ্ছে না। জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া এসব ডাকাতকে রুখতে পুলিশকে আরো দায়িত্বের সঙ্গে তৎপরতা বাড়াতে হবে।

বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ডাকাতি রোধে ও ডাকাতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। জেলা ও হাইওয়ে পুলিশের মাঝে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। সবাই তাদের দায়িত্ব পালন করছে। এরই মধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে। হত্যা-ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধের মতো ডাকাতিও কমে আসবে। ডাকাত আতঙ্ক ছাড়া সার্বিক বিবেচনায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলাজুড়ে ডাকাতি রোধে এবং চিহ্নিত ডাকাতদের গ্রেপ্তারে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা পুলিশ। ডাকাতদের গ্রেপ্তারে গোপন অভিযান চালানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে পুলিশ। ডাকাতি ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশও করছে থানা পুলিশ। সম্প্রতি এমন আহ্বান জানিয়ে চিহ্নিত ডাকাতদের ছবিসংবলিত ব্যানার-বিলবোর্ড সাঁটাতে পুলিশের উদ্যোগ দেখা গেছে।

বরুড়া উপজেলার উত্তর খোশবাস ইউনিয়নের বাঁশতলী এলাকায় গত ৪ ডিসেম্বর আইন-শৃঙ্খলা সভা করে চিহ্নিত ডাকাতদের ছবিযুক্ত ফেস্টুন-বিলবোর্ড উপজেলার রামমোহন বাজার থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে গাছে গাছে সাঁটিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

রামমোহন বাজারের ব্যবসায়ী নিমাই মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে এলাকায় কে চোর বা কে ডাকাত সাধারণ জনগণ তাদের চিনতে পারে না। পুলিশ ডাকাতদের ছবিসহ বিলবোর্ড লাগানোর কারণে এখন সর্বমহলে আলোচনা চলছে। ওই সব চিহ্নিত ডাকাতদের যে কেউ দেখলেই মুহূর্তের মধ্যে পুলিশে সংবাদ পৌঁছাতেও পারবে। আর ডাকাতরাও আত্মগোপন না করে আত্মসমর্পণ করবে।’

বরুড়া থানার ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা বরুড়া থানাসহ আশপাশের থানা এলাকার চিহ্নিত ডাকাতদের ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন হাট-বাজার, দোকানপাটের সামনে বিলবোর্ড লাগিয়েছি। যে ডাকাতরা যে এলাকার সেই এলাকায় তার ছবিসহ বিলবোর্ড বেশি লাগানো হয়েছে। এতে একদিকে যেমন জনগণ তাদের চিনবে অন্যদিকে ডাকাতরাও আত্মসমর্পণ করে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে বাধ্য হবে।’

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited