,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

ক্ষমতা ভোগের নয়, দায়িত্ব পালনের বিষয় : প্রধানমন্ত্রী

সিএনআই নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে এবং দেশের উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করার জন্য প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাসহ সব সরকারি চাকরিজীবীর প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা ভোগের নয়, জনগণকে সেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়। ঘুষ ও দুর্নীতির ব্যাপারে আপনাদের সবাইকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। এসব ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি অনেক সময় আমাদের সমাজকে ধ্বংস ও উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। তাই আপনাদের এ ব্যাপারে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।’

গতকাল সকালে রাজধানীর বিসিএস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসস। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশাসনের নতুন কর্মকর্তাদের বলব জনগণের ট্যাক্স ও কৃষক-শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রমের কল্যাণে আমরা একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। তাই তাদের এই পরিশ্রমলব্ধ অর্থের যেন যথাযথ ব্যবহার হয় এবং সুপরিকল্পিত ও সাশ্রয়ীভাবে যেন উন্নয়নমূলক কর্মকা-গুলো সম্পন্ন হয় সেদিকে আপনাদের বিশেষ নজর দিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের এ কথা মনে রাখতে হবে যে, এ দেশে আমাদের এবং আপনাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এখানেই বাস করবে। তাই আপনাদের এ কথাও মাথায় রাখতে হবে যে, আপনারা আপনাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছেন। আপনারা যদি এই চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ লালন করে কাজ করেন, তবে আমাদের দেশ আরও এগিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, তার সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির মূল উৎপাটনের জন্য অভিযান শুরু করেছে এবং এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি তাদেরকে আরও বেশি উদ্ভাবনীর পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, তারা তাদের এলাকার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন এবং তাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে পারেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি আপনারা প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলার অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। এলাকাগুলোর উন্নয়ন আপনাদের কাজের মাধ্যমে দৃশ্যমান হবে। তাই দেশের জন্য ভালোবাসা ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে এই উদ্ভাবনী পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, এই জনগণের জন্য আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এবং তাদের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা যেমন আমাদের পরিবারের জন্য দায়িত্বশীল, এই চিন্তা-চেতনা নিয়ে তেমনি দেশের জনগণের জন্যও আমাদের কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের মনে রাখতে হবে, শপথের প্রতিটি বাক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি শুধু পাঠ করলেই চলবে না, চর্চাও করতে হবে। আমরা চাই আপনারা তা করবেন।’ তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যখন মাঠ পর্যায়ে বড় দায়িত্ব পালন করবেন, তখন আপনাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যাবে।’ শেখ হাসিনা দেশের আরও উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নীতির উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার ২০১০-২০২০ সাল মেয়াদে ১০ বছরের পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন দেশের আরও উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০ বছর মেয়াদি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা কৌশলপত্র (২০২১-২০৪১) প্রণয়ন করেছি। আজকের তরুণ অফিসাররা একদিন সিনিয়র অফিসার হবেন। সে সময় তাদেরকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তাদেরকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ সততার শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলা এবং চ্যালেঞ্জে বিজয় লাভ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সৎ পথে ছিলাম বলে এ অভিযোগ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। অবশেষে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এবং কানাডার ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়েছে, এ অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। আমরা সততার সঙ্গে অগ্রসর না হলে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতে পারতাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা বিশ্বব্যাংককে দিয়ে এসব অভিযোগ করিয়েছিল, তারা আমার হাত থেকে লাভবান হয়েছিল। আমি তাদেরকে গ্রামীণফোনের ব্যবসা দিয়েছিলাম। আমি ১৯৮৫-৮৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলাম এবং আমার সরকার জাতিসংঘে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারণার ওপর প্রস্তাব পেশ করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে এটি পাস করতে সাহায্য করেছিল। সেই লোকই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদের জন্য পদ্মা সেতুর বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন তহবিল বন্ধ করতে গিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন- একজন নোবেল বিজয়ী ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এমডি পদের জন্য এতটা লোভী হয়ে উঠেছিলেন কেন?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রচলিত আইন অনুযায়ী একজন এমডি কেবল ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার পদে থাকতে পারেন। অথচ সে সময় এই ব্যক্তির বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন অবৈধভাবে পদ আঁকড়ে থাকায় বাধা সৃষ্টি করল, তখনই পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ তিনি ছিলেন হিলারির বন্ধু।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের দুজন খ্যাতিমান সম্পাদকও সে সময় পদ্মা সেতুর জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থসহায়তা বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমি তখন এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রমাণ করতে হবে।’ তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার লক্ষ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বের মানুষের ধারণা বদলে গেছে। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তারা ধারণা করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশ যদি ইচ্ছা করে তাহলে পারে এবং আমরা তাই করেছি।’

শেখ হাসিনা সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণে তাঁর সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে বলেন, তাঁর সরকার তাদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেছে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার জন্য তাদেরকে সুবিধা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা ভালো কাজ করবে তাদেরকে পুরস্কৃত করতে আমরা জনপ্রশাসন পদক চালু করেছি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা চাই তারা দেশ ও দেশের জনগণের জন্য বেশি করে কাজ করুক, আমার জন্য নয়।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এইচ এন আশিকুর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর কাজী রওশন আখতার শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। রেক্টর অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী তিন কোসের্র তিন তরুণ কর্মকর্তা তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited