,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

গুগলের ব্যর্থতার চিহ্ন! তাদের অসফল কিছু সেবা

সিএনআই নিউজ : যখন গুগল ছিল না তখনকার জীবনের কথা কি আপনি মনে করতে পারেন? তখন আপনি কি করতেন? যখন হঠাৎ করে অথবা তড়িঘড়ি করে কোন বিষয়ে তথ্য প্রয়োজন হতো? 

এখন যা কিছুই খোঁজেন না কেন- সব কিছুর জন্যই হয়তো আপনি এখন গুগলে সার্চ করেন।

গুগল প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ৪০ হাজার অনুসন্ধানের উত্তর খুঁজতে পারে। প্রতিদিন যার মানে সাড়ে তিন বিলিয়ন অনুসন্ধান (ফোর্বসের হিসাব)।

গুগল এলএলসি (ইংরেজি : Google LLC) বা গুগল লিমিটেড লায়াবেলিটি কোম্পানি ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ও পণ্যে বিশেষায়িত একটি আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ছাত্র থাকাকালীন ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন ১৯৯৮ সালে গুগল নির্মাণ করেন। তথ্যসূত্র : ইউকিপিডিয়া

অনলাইন জায়ান্ট গুগল সার্চ ইঞ্জিনের গণ্ডি পেরিয়ে নিয়ে এসেছে নানা ধরনের সেবা। এসব সেবা জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠে ব্যবহারকারীদের মাঝে। আবার অনেক সেবাই সাড়া ফেলতে পারেনি প্রযুক্তি বিশ্বে। যার ফলে এসব সেবার বন্ধ করে দেয় গুগল। এমনকি আলোড়ন সৃষ্টি করা অনেক সেবাই সময়ের সাথে সাথে বন্ধ করে দেয় গুগল। 

নতুন পণ্য/সেবা নিয়ে আসা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে সব সময়ই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। গ্রাহকের কাছে পণ্য/সেবা গুলোর জনপ্রিয় অর্জনে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে থাকে। তারপরও প্রতিষ্ঠান গুলোকে গুণতে হয় লোকসান।


গুগলও এর ব্যতিক্রম নয়। বাজারে গুগলের ২৫০+ সেবা আছে। যার সব গুলোই সফলতার মুখ দেখেনি।

গুগলের প্রধান সেবা গুগল সার্চ ছাড়াও গুগল ডক, শিট ও স্লাইড, জিমেইল, ইনবক্স, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল ক্লাউড, গুগল ড্রাইভ, গুগল+, গুগল এলো, ডুও, হ্যাংআউট, গুগল ট্রান্সলেট, গুগল ম্যাপস, ওয়েজ, আর্থ, স্ট্রিট ভিউ, ইউটিউব, গুগল কিপ, এবং গুগল ফটোজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

গুগল প্লাস :

২০১১ সালে ফেসবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাজারে আসে গুগল-প্লাস। কিন্তু জনপ্রিয়তা অর্জনে ব্যর্থ হয়। নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ৫ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে গুগল সেবাটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। চলতি বছর এপ্রিল মাসেই গুগল প্লাস বন্ধ হয়ে যায়। খুব কম সংখ্যক ব্যবহারকারীই গুগল প্লাস ব্যবহার করতেন। উল্লেখ্যে ৯০ শতাংশ গুগল প্লাস ব্যবহারকারী পাঁচ সেকেন্ডের বেশি ব্যবহার করতেন না। 

গুগল ইনবক্স :

২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর ইনবক্স অ্যাপটি উন্মোচন করেছিল গুগল। আধুনিক ই-মেইল সেবা প্রদান করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। চলতি বছরের ২ এপ্রিল অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ফিচারগুলো জিমেইল অ্যাপেই যুক্ত করা হয়েছে।

গুগল লাইভলি :

‘ভার্চুয়াল লাইফ’ খ্যাত ‘দ্য সেকেন্ড লাইফ’ নামক ‘গুগল লাইভলি’ সার্ভিস চালু করেছিল গুগল; ২০০৮ সালের জুনে। কিন্তু এটি জনপ্রিয়তা লাভে সক্ষম হয়নি। একই বছরেই নভেম্বরে সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

গুগল ইউআরএল শর্টেনার :

ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ছোট করার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠে গুগল ইউআরএল শর্টেনার। গুগলের দাবি, বর্তমান প্রযুক্তির সাথে না সার্ভিসটির নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায়; সার্ভিসটি ব্যবহারে গ্রাহকের খুব বেশি উপকার হবে না। এমন দেখিয়ে চলতি বছর ৩০ মার্চ সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

গুগল অ্যালো :

অনেক ঢাকডোল পিটিয়ে ২০১৬ সালে গুগল উন্মোচন করে অ্যালো(চ্যাটিং অ্যাপ)। বাজরের জনপ্রিয় অন্যান্য ম্যাসেজিং অ্যাপগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করেছিল গুগল। প্রথম দিকে কিছুটা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে যায়। গত বছরের মাঝামাঝিতে অ্যাপটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আর্ডভার্ক :

গুগল’র এক বিশেষ ধরনের সার্চ ইঞ্জিন ছিল আর্ডভার্ক। আর্ডভার্কের নিজস্ব ওয়েব কিংবা ইমেইল ও ইন্সট্যান্ড ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রশ্ন রাখা যেত। এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করা যেত আর্ডভার্কে। ২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা আর্ডভার্ককে গুগল কিনে নেয় ২০১০ সালে, ৫০ মিলিয়ন ডলারে। পরে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে গুগল বন্ধ করে দেয় এই সেবাটি।

গুগল বাজ :

ফেসবুক এবং টুইটার যখন পুরোদমে জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে চলছিল, সেই সময়ে ২০১০ সালে গুগল বাজ চালু হয়। সোস্যাল নেটওয়ার্কিং, মাইক্রোব্লগিং এবং ম্যাসেজিং টুল হিসেবে এটি সর্বব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করবে বলেই ধারণা করে গুগল। গুগল বাজ দিয়ে খুব একটা সাড়া পায়নি গুগল। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তাই বন্ধ করে দেওয়া হয় গুগল বাজ।

গুগল কোড সার্চ :

সার্চ ইঞ্জিন গুগলের বিভিন্ন ধরনের বিশেষায়িত সার্চ সেবা চালু ছিল এবং রয়েছে। এরকমই একটি সেবা গুগল কোড সার্চ। ইন্টারনেটে ওপেন সোর্স কোড খোঁজার কাজেই গুগল এটি চালু করে। ২০০৬ সালে চালু হওয়া এই সেবাটি ২০১২ সালের শুরুতে বন্ধ করার ঘোষণা দেয় গুগল।

গুগল ডিকশনারি :

এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তরের জন্য গুগল’র ডিকশনারি সার্ভিসটি চালু থাকে দীর্ঘদিন। তবে পরবর্তী সময়ে গুগল সার্চ ইঞ্জিনেই সরাসরি ‘Define’ অপারেটর ব্যবহার করে শব্দের অর্থ খোঁজার সুযোগ চালু হওয়ায় এবং গুগল ট্রান্সলেট সেবাতে বেশি জোর দেওয়াতেই শেষ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যায় গুগল ডিকশনারি। ২০১১ সালের আগস্টে গুগল ডিকশনারি বন্ধ হয়ে যায়।

আইগুগল :

একটি ব্যক্তিগত ওয়েব পেজ বা ওয়েব পোর্টারের ধারণা নিয়ে আইগুগল যাত্রা শুরু করে ২০০৫ সালে। ২০০৭ সাল নাগাদ ৪২টি ভাষায় ৭০টি কান্ট্রি ডোমেইনে এই সেবা ছড়িয়ে দেয় গুগল। ওই বছরেই এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৭১ লাখেরও বেশি। ২০০৮ সালের তথ্য অনুযায়ী গুগল সার্চ ব্যবহারকারীর প্রায় ২০ শতাংশই ব্যবহার করে থাকে আইগুগল। তা সত্ত্বেও ২০১৩ সালে পারসোনালাইজড হোমপেজ সেবা আইগুগল বন্ধ করা হয়। সেবাটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ডিভাইসের হোমপেজ নিজেদের মতো করে সজ্জিত করতে পারতেন। গুগলের ভাষ্য, ক্রোম ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে আইগুগলের খুব বেশি প্রয়োজনীয়তা ছিল না।

পিকনিক :

অনলাইন ফটো এডিটিং এবং ফটো লাইব্রেরি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে পিকনিক বেশ জনপ্রিয় ছিল। ২০০৫ সালে পিকনিক যাত্রা শুরুর পর ২০১০ সালে এসে একে কিনে নেয় গুগল। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এটি বন্ধের ঘোষণা দেয় গুগল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ওই বছরের এপ্রিলে বন্ধ হয়ে যায় পিকনিক।

গুগল রিডার :

পণ্য ও সেবা বন্ধের ধারাবাহিকতায় গুগলের সর্বশেষ সংযোজন গুগল রিডার। আরএসএস ফিড রিডার হিসেবে গুগল রিডার যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল অনলাইনে। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে এটি। সময়ের সাথে সাথে এর ব্যবহারকারী কম ছিল বলে জানায় গুগল। সে কারণেই শেষ পর্যন্ত একে বন্ধ করে দিয়েছে গুগল।

ডজবল :

ব্যবহারকারী নিজের অবস্থান শনাক্ত করতে পারতেন সেবাটির মাধ্যমে। ২০০৫ সালে গুগল ডজবল ক্রয় করেছিল। সেবাটির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন ডেনিস ক্রাউলি। ২০০৭ সালে তিনি গুগল ছাড়েন এবং এর প্রায় দুই বছর পর একই ধরনের সেবা ফোরস্কয়ার চালু করেন। ডজবল নিয়ে পরবর্তীতে আর কোনো পরিকল্পনা ছিল না গুগলের।

গুগল হ্যাংআউটস অন এয়ার :

গুগলের লাইভ স্ট্রিমিং সেবা ছিল এটি। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে সেবাটিকে ইউটিউব লাইভে যুক্ত করা হয়। ২০১২ সালে সেবাটি চালু করা হয়। অনলাইন লাইভ স্ট্রিমিং সে সময় সবেমাত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সেবাটি চালুর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং পোপ ফ্রান্সিস এটি ব্যবহার করেছিলেন।

গুগল ক্যাটালগঃ

ইন্টারেক্টিভ শপিং প্রোগ্রাম ছিল গুগল ক্যাটালগ। ২০১৩ সালে এ অ্যাপের মোবাইল সংস্করণ বন্ধ করা হলেও ডেস্কটপ সংস্করণ বন্ধ করা হয়েছিল ২০১৫ সালে।

গুগল ভিডিও :

গুগলের নিজস্ব ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা ছিল গুগল ভিডিও। তবে ২০০৬ সালে ইউটিউব অধিগ্রহণের পর সেবাটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সংশ্লিষ্টরা। ২০০৯ সালে সেবাটির জন্য নতুন ভিডিও আপলোড বন্ধ করে গুগল। সর্বশেষ ২০১২ সালে সেবাটি বন্ধ করা হয়েছিল।

নেক্সাস কিউ :

গুগলের স্ট্রিমিং মিডিয়া প্লেয়ার ছিল ‘নেক্সাস কিউ’। এটি নকশা করা হয়েছিল বাসাবাড়ির সব ডিভাইস একই প্লাটফর্মে সংযুক্ত করতে। ২০১২ সালে ডেভেলপার সম্মেলনে ২৯৯ ডলার মূল্যের পণ্যটির বিস্তারিত তুলে ধরেছিল গুগল। তবে বাজারে আসার আগেই অজানা কারণে পণ্যটিকে বিদায় জানানো হয়েছিল।

গুগল এক্স :

গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের বিকল্প ইন্টারফেস হিসেবে আনা হয়েছিল গুগল এক্স। ২০০৫ সালের মার্চে আকস্মিক সেবাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। গুগল এক্স বন্ধের কারণ এখনো রহস্য।

গুগল হেলথ :

স্বাস্থ্য সচেতনদের সুস্থ থাকার তথ্য ভাণ্ডরে প্রবেশের সুযোগ দিতে সেবা টি চালু করে গুগল। বৃহৎ পরিসরে সাড়া ফেলতে না পারায় ২০১২ সালে চিরতরে গুগল হেলথ সেবাকে বিদায় জানিয়ে দিতে হয়েছে।

গুগল প্লে :

অ্যান্ড্রয়েডের বিশেষ সংস্করণ ‘গুগল প্লে’ এর সঙ্গে ভক্তদের ২০১৪ সালের বসন্তে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল গুগল। কিন্তু ২০১৫ সালের জানুয়ারিতেই বন্ধ হয়ে যায় এটি।

গুগল ওয়েভ :

‘গুগল ওয়েভ’ ডিজাইন করা হয়েছিল মেসেজ আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ রাখার সুযোগ দিতে। এর সাহায্যে একসঙ্গে কোনো নথি সম্পাদনাও করা যেত। কিন্তু ব্যবহার পদ্ধতি ছিল ভীষণ জটিল। তাই তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি গ্রাহক মহলে। ২০১০ সালের আগস্টে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে বছরখানেক চলেছিল সেবাটি।

গুগল আনসার :
গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের মস্তিষ্ক প্রসূত সেবা ছিল ‘গুগল আনসার’। শুধু তাই নয়, এটি ছিল সার্চ জায়ান্টটির প্রথম প্রকল্প। সেবাটি চার বছরের বেশি সময় চালু ছিল। ২০০৬ সালে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেয়া বন্ধ করে দেয় গুগল আনসার।

”কখনো দুষ্টতে পরিণত হয়ো না”

এটি গুগলের মৌলিক আদর্শ গুলোর একটি। কিন্তু এই কোম্পানি এখনো সেই আদর্শে ব্যতিক্রম কিনা, সেই সিদ্ধান্ত আপনার।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited