,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

জাতীয় কৌশলপত্রের খসড়া প্রণয়ন: শনাক্ত হবে অর্থ পাচারের পরিমাণ ও দুর্নীতিবাজ

সিএনআই নিউজ : অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রণয়ন করা হয়েছে খসড়া ‘জাতীয় কৌশলপত্র’। এর মাধ্যমে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা শনাক্ত করা হবে। ঋণের নামে ব্যাংক থেকে টাকা বের করে ও এলসির অন্তরালে বিদেশে টাকা পাচার শনাক্ত করা হবে।

পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের গড়ে তোলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম, শিল্প-কারখানা, বিদেশি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন ও অনলাইনে কেনাবেচার নামে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন কারা বিদেশে অবস্থান ও দেশে কতজন অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিক বসবাস করছে এরও সন্ধান চালানো হবে। জাতীয় কৌশলপত্রে ১২৭টি কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এ পদক্ষেপ বাস্তবায়নে শনাক্ত করা হয়েছে ৪১টি ঝুঁকি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফইউ) এ খসড়া প্রণয়ন করেছে। চূড়ান্ত মতামতের জন্য এটি পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের উপদেষ্টা দেব প্রসাদ দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়ন করতে এশীয় প্যাসিফিক গ্রুপ (এপিজি) ৪০টি শর্ত দিয়েছে। এর প্রথমটি হচ্ছে অর্থ পাচার, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে ‘জাতীয় কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই ভিত্তিতে কৌশলপত্র তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন এপিজি প্রতি বছর করে। এ কৌশলপত্রের আলোকে সংস্থাটি মূল্যায়ন করবে।

টাকা পাচার নিয়ে গবেষণাকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) মইনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মানি লন্ডারিং ও টাকা পাচার প্রতিরোধে যে আইন হয়েছে এর বাস্তবায়ন সন্তোষজনক নয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে। আগের তুলনায় দেশ থেকে পুঁজি পাচার বেড়েছে। এখন মানি লন্ডারিং হচ্ছে ফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে। দুর্নীতিবাজরা হুন্ডির মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করছে। তাদের আত্মীয়স্বজন বিদেশে আছে তাদের মাধ্যমে ডলার বিদেশ থেকে নিচ্ছে। দেশে টাকা দিচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে। ফলে বেড়েছে মানি লন্ডারিংও। তিনি আরও বলেন- বেগমপাড়া, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া, টরেন্টোতে কারা বাড়ি করেছে দুদক অভিযান চালালে বেরিয়ে আসবে। কোরিয়া, উগান্ডা, নেপালসহ বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা শিল্পকারখানা গড়ে তুলছেন। এখানে এফবিসিসিআইয়ের অনেক সদস্যও আছেন। এসব সন্ধান চালালে টাকা পাচারকারীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। এসব দিকে নজর দিতে হবে সরকারকে।

সূত্র মতে, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে খসড়া ‘জাতীয় কৌশলপত্র’টি ৩ বছরের (২০১৯-২০২২) জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই চূড়ান্ত করে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বিভাগকে।

এদিকে দেশ থেকে টাকা পাচার প্রতিরোধের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত, ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে সংঘটিত মানি লন্ডারিং কমিয়ে আনা, আর্থিক ঘটনা অনুসন্ধানের গুণগতমান বৃদ্ধি ও সরকারি-বেসরকারি খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে অ্যাকশন প্ল্যান ঘোষণা করা হয় ওই কৌশলপত্রে। সেখানে মানব পাচার, চোরাচালন ও মাদক ব্যবসা প্রতিরোধ এবং আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, জাতীয় কৌশলপত্রে ১২৭টি কার্যকরী পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- এ পর্যন্ত বিদেশে কত টাকা এবং কিভাবে পাচার হয়েছে তা বের করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দায়িত্ব দেয়া। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সংস্থা তিনটি এ সংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিল করবে। এছাড়া বিদেশে সেকেন্ড হোম কারা গড়ে তুলছে, এসব ক্ষেত্রে কতজন বিনিয়োগকারী আছে, কারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং দেশে দ্বৈত নাগরিক সংখ্যা কত তাও বের করা হবে। এ তথ্য বের করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএফইউ, পুলিশ ও সরকারের একটি এজেন্সির। পাশাপাশি দেশে কতজন বিদেশি কাজ করছে, তাদের মাধ্যমে কত টাকা বিদেশে রেমিটেন্স আকারে যাচ্ছে এটিও বের করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, টাকা পাচারের রুট শনাক্ত করতে বিদেশের মিডিয়াগুলোতে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচার ও অনলাইনে বেচাকেনার নামে কত টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে সেটি শনাক্ত করা হবে। ব্যাংকের ঋণের মাধ্যমে টাকা নিয়ে বিদেশে কত টাকা পাচার করা হয়েছে তাও সন্ধান করা হবে। কর ফাঁকি রোধে এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে মধ্যে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এছাড়া আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েস ও ওভার ইনভেয়স কার্যক্রমকে মনিটরিং করা হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং, মূলত আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে সেটি বের করা হবে। সেখানে বলা হয়, শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, সফটওয়্যার, শিল্পায়নের ডিজাইন, কম্পিউটার এক্সেসরিজ ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ ও কর কম আরোপ করার মাধ্যমেও অর্থ পাচার হচ্ছে। এসব খাত খতিয়ে দেখা হবে। এসব বন্ধে ১১টি কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয় ওই কৌশলপত্রে। এরমধ্যে উল্লেযোগ্য হচ্ছে- ব্যাংকগুলোর এলসিতে দেয়া মূল্য অধিক যাচাই-বাছাই করা, প্রত্যেক বাণিজ্যিক ব্যাংকে নিজস্ব ডাটাবেজ স্থাপন ও এলসির মূল্য যাচাই-বাছাই করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা জিএফআইর তথ্য মতে, উন্নয়নশীল থেকে ৮৭ শতাংশ অর্থ পাচার হচ্ছে। এটি ২০১৫-১৬ সালের মোট বাণিজ্যের ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। আর একই সময়ে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের ১৭.৫ শতাংশ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। ২০১৫-১৭ সালে প্রণীত মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত জাতীয় কৌশলপত্রের ৭১টি কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হয়েছে। আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৬টি কার্যকরী পদক্ষেপ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় আছে আরও ৩১টি পদক্ষেপ।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited