,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

রাতের আঁধারে সাভার হাইওয়ে থানা থেকে পরিবহন গায়েবের অভিযোগ

তোফায়েল হোসেন তোফাসানি: সাভার হাইওয়ে থানা থেকে রাতের আঁধারে বিভিন্ন পরিবহন গায়েব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সাথে হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং কোন প্রকার-হিসার ছাড়াই আটক হচ্ছে পরিবহন ও অটোরিক্সা। আটক বাণিজ্যের শিকার হয়ে অটোরিক্সা ও যানবাহন খুঁইয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন অসহায় ও দরিদ্র অটোরিক্সা চালক ও মালিকেরা।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত সাভার হাইওয়ে থানা। এ থানাটি গাজীপুর হাইওয়ে রিজিওনের অধিনে পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি অফিসার ইনচার্জ হিসেবে এখানে যোগদান করেন গোলাম মোর্শেদ তালুকদার। তিনি যোগদান করার পর থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন অনিয়ম।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রতিনিয়ত ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ব্যাপক সংখ্যক অটোরিক্সা ও বিভিন্ন পরিবহন আটক করা হচ্ছে। এসব যানবাহন আটক করার পর চালক বা মালিকদের কোন প্রকার রশিদ দেয়া হচ্ছেনা। যার ফলে কি পরিমান যানবাহন আটক করা হয়েছে তার কোন সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই। এছাড়াও অটোরিক্সা থেকে বাইরের লোক দিয়ে ব্যাটারী আলাদা করে তা গুদামে রাখা হয়। এসব মূল্যবান ব্যাটারী ও অটোরিক্সা হিসাব বা প্রমান না থাকার কারনে রাতের আঁধারে গায়েব হয়ে যায়।
মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অটোরিক্সা আটক করে নিয়ে আসলেও হাইওয়ে পুলিশের প্রহরায় বাইপাইল, শ্রীপুর, নবীনগরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যেই স্ট্যান্ড বসিয়ে মহাসড়কে চলছে অটোরিক্সা। রহস্যজনক কারনে এসব রিক্সা কখনওই হাইওয়ে পুলিশ ধরে নিয়ে আসেনা।
ধামরাইয়ের মাদারপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে দরিদ্র শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় দুইমাস আগে ইপিজেড এলাকা থেকে তার একটি অটোরিক্সা আটক করে সাভারের হাইওয়ে পুলিশ। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর অটোরিক্সা আর ফেরৎ দেয়া হবেনা। শফিকুলের শেষ সম্বল এই অটোরিক্সা হারিয়ে সে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
ভুক্তভোগী অটোরিকশাচালক হাসান অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস আগে আশুলিয়ার হাসেম প্লাজার সামনে থেকে তার একটি অটোরিকশা আটক করে হাইওয়ে থানা পুলিশ। সে সময় তিনি ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে নিয়ে যান।
গত শুক্রবার আবার একই জায়গা থেকে হাসানের আটোরিকশাটি আটক করা হয়। শনিবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে হাসান দেখেন হাইওয়ে থানা থেকে একটি অটোরিকশা ও একটি ভ্যান নিয়ে যাচ্ছেন থানার কয়েকজন লোক। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের স্টিকার লাগানো একটি হোন্ডাও ছিল।
জাহাঙ্গীরনগর প্রান্তিক গেটের সামনে গিয়ে তাদের পথ আটকে দাঁড়ান তিনি। এ সময় একজন পালিয়ে গেলেও শরিফুল ইসলাম, শাহেব আলী ও মোকলেছ নামে তিনজনকে আটকাতে সক্ষম হয় উপস্থিত জনতা। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার এএসআই মামুন হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি অটোরিকশা, একটি ভ্যান ও একটি হোন্ডা উদ্ধার করেন।
আটক শাহেব আলী ও মোকলেছ উপস্থিত জনতার কাছে জেরার মুখে স্বীকার করেন যে, তারা হাইওয়ে থানার সোর্স শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশা ও ভ্যানটি কিনেছেন।
সূত্র জানায়, এএসআই মমিনুল ইসলাম সাভার হাইওয়ে থানায় বদলি হয়ে আসার পর থেকে তার মামাতো ভাই শরিফুল ইসলাম তার কাজে দালালী করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে এই শরিফুলের মাধ্যমেই প্রায় প্রতিরাতে সাভার হাইওয়ে থানা থেকে অটোরিকশা, ভ্যান, মূল্যবান ব্যাটারী ও ইজিবাইক বিক্রয় করা হয়। একারনে আটক গাড়ি, মোটর সাইকেল ও অটোরিক্সা গায়েব হওয়ার মত ঘটনা ঘটছে।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি গোলাম মোর্শেদ তালুকদার বলেন, “একজন এসপির সুপারিশের কারনে সম্প্রতি গাড়ি ছাড়া হয়। অটোরিক্সা বা যানবাহন আটকের পর কোন রশিদ দেয়া হয়না। আমরা নাম-ঠিকানা লিখে তালিকা করে রেখে দিই।”
অটোরিক্সা থেকে ব্যাটারী আলাদা করে রাখার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। আটকের পর কার কোন অটো, ব্যাটারী বা গাড়ী তা নির্ণয় করা পরবর্তীতে সম্ভব হয়না বলেও জানান তিনি। (চলবে)

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited