,
প্রচ্ছদ | জাতীয় | আন্তর্জাতিক | সারাদেশ | রাজনীতি | বিনোদন | খেলাধুলা | ফিচার | অপরাধ | অর্থনীতি | ধর্ম | তথ্য প্রযুক্তি | লাইফ স্টাইল | শিক্ষাঙ্গন | স্বাস্থ্য | নারী ও শিশু | সাক্ষাতকার

আমার বাড়ি আমার খামার

ড. শিল্পী ভদ্র : শেখ হাসিনার উপহার, একটি বাড়ি একটি খামার, বদলাবে দিন তোমার আমার। এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দারিদ্র্য নির্মূলে সরকারের কর্মসূচিটির বিস্তার আজ সারা দেশে। ফলে উপকারভোগীদের আয় বৃদ্ধি পেয়ে দারিদ্র্যমুক্তি ঘটছে। একটি বাড়ি একটি খামার, পারিবারিক খামার বা কৃষিকাজের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূর করতে বাংলাদেশ সরকারের একটি অন্যতম প্রকল্প। এর মূল লক্ষ্য তহবিল সংগ্রহ ও পারিবারিক খামারের মাধ্যমে দারিদ্র্য নির্মূল ও টেকসই উন্নয়ন। বহুমাত্রিক এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার একদিকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সুসংগঠিত করছে; অন্যদিকে সঞ্চয়ের উৎসাহ প্রদান ও সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের নাম বদলে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় ও অনুশাসন বিবেচনা করে নতুন নামকরণের প্রস্তাব, ২৫ মার্চ, ২০১৯ তারিখে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে। তাই এখন থেকে নতুন নামে পরিচিতি পাবে প্রধানমন্ত্রীর দশ বিশেষ উদ্যোগের শীর্ষে থাকা এই বিশেষ উদ্যোগ। বাংলার কৃষি এবং কৃষক একই সুতোয় গাঁথা। কারণ যে কৃষক ধান ফলান, তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় শাক সবজির আবাদ করেন; আবার সুযোগ পেলে পুকুরে মাছের চাষও করেন। তিনিই আবার ছাগল, গরু, কবুতর ইত্যাদি পালন করেন। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মধ্যে এগুলো অত্যাবশ্যকীয়।

তবে এমন পারিবারিক খামার গড়ার স্বপ্ন সবার থাকলেও পুঁজির অভাবে অনেকেই তা পেরে ওঠেন না। এসব প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতেই সরকারের এই প্রকল্প—আমার বাড়ি আমার খামার। প্রত্যেকে নিজের জমি ব্যবহার করে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারে এবং আর্থিকভাবে যাতে সচ্ছলতা
আসে তার জন্য প্রতিটি মানুষের জন্য বাড়িঘর নির্মাণ এবং কোনো জমি যেনো পতিত না থাকে সে দিকে লক্ষ্য রেখে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে প্রতিটি গ্রামে ৬০ জন দরিদ্র মানুষকে নিয়ে একটি সমিতি গঠন করা হয়। এদের মধ্যে ৪০ জন নারী সদস্য ও ২০ জন পুরুষ সদস্য। প্রত্যেক সমিতির নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট বা হিসাব খোলা হয়। প্রত্যেক সদস্য মাসে ২০০ টাকা করে ঐ একাউন্টে জমা দেন। এভাবে দু’বছরে প্রতিটি সমিতির একাউন্টে সদস্যরা জমা দেন ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। সরকারও সমপরিমাণ টাকা জমা দেয়। এছাড়া প্রত্যেক সমিতি সরকারের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নিতে পারে। অর্থাৎ দুবছর পর ঋণসহ প্রত্যেক সমিতির তহবিল দাঁড়ায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, প্রত্যেক সমিতি ৬ মাস পর পর উঠান বৈঠক করে তাদের জমানো তহবিল আয়বর্ধক কোনো কাজে ব্যবহার করবেন কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সমিতির সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হয়। প্রস্তাব অনুমোদন হলে সমিতি ঋণ গ্রহণ করতে পারে। ঋণের প্রক্রিয়াও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হয়। অর্থাৎ সমিতির মনোনীত কোনো সদস্যের মোবাইলে ঋণের গোপন পিন কোডটি পাঠানো হয়, যা দেখিয়ে তিনি প্রকল্প নির্ধারিত ব্যাংক এজেন্টের কাছ থেকে ঋণের টাকা গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। এই প্রকল্পে ৭ বিভাগ, ৬৪ জেলা, ৪৮৫ উপজেলা, ৪,৫০৩ ইউনিয়ন ও ৪০,৫২৭ গ্রাম এবং তৃতীয় সংশোধনীর পর আরো ৬০ হাজার গ্রামকে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয় (সূত্র: বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট)। ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এই প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী আনা হয়; সেই সাথে গঠন করা হয় ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক’।

‘আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের লক্ষ্য দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে কৃষিভিত্তিক আয়বর্ধক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খামার গড়ে তুলে কৃষি উৎপাদন ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধিসহ নারীর ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্যমোচন নিশ্চিত করা। প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বহুমাত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন, তার অন্যতম আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্প। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শত্রুকে মোকাবিলা করে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। এখন আমাদের যে যুদ্ধ সেটা হচ্ছে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই, কাজেই আমাদের এখন সব থেকে
প্রধান শত্রু হচ্ছে দারিদ্র্য। এই দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আমাদেরকে লড়াই করতে হবে, অর্থাৎ আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করতে হবে’ প্রকল্প শুরুর প্রাক্কালে বিদ্যমান দারিদ্র্যের হার ২৪.৮% থেকে ১৮.৬% এ নামিয়ে আনা এবং অতি দারিদ্র্যের হার ২০২০ সালের মধ্যে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার
লক্ষ্যে এই প্রকল্প কাজ করছে। দারিদ্র্যসীমার নীচের এক কোটি পরিবারকে প্রকল্পভুক্ত করে ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হযেছে। এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার

প্রধান লক্ষ্য দারিদ্র্যমোচন। অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার সেই লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। যেহেতু এই প্রকল্পের অধীনে গঠিত সমিতির ৬৭ ভাগ সদস্যই নারী, সেহেতু প্রকল্পটি নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়
বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রান্তিক পরিবারগুলোর অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষাসহ উন্নয়নের সকল সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রকল্পের সব আর্থিক লেনদেন অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হচ্ছে বলে, একদিকে প্রান্তিক মানুষকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সেবার আওতায় আনা যাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সম্ভব হচ্ছে। আবার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য তহবিল গঠনের এমন উদ্যোগ বিশ্বে এটাই প্রথম। তাই অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক এনজিও এখন বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্য নির্মূলের
এই মডেল গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সব উপকারভোগী প্রকল্পের মাধ্যমে তহবিল গঠন ও ঋণ নিয়ে আয়বর্ধক কাজে বিনিয়োগের সুফল সম্পর্কে আগ্রহী হলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চিত্র বদলে দিতে অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।

Leave a Reply

VIDEO_EDITING_AD_CNI_NEWS
প্রধান সম্পাদক : তোফায়েল হোসেন তোফাসানি
বার্তা সম্পাদক : রোমানা রুমি, ৫৭, সুলতান মার্কেট (তয় তলা), দক্ষিনখান, উত্তরা, ঢাকা।
ফোন ও ফ্যাক্স : ০২-৭৭৪১৯৭১, মোবাইল ফোন : ০১৭১১০৭০৯৩১
ই-মেইল : cninewsdesk24@gmail.com, cninews10@gmail.com
আঞ্চলিক অফিস : সি-১১/১৪, আমতলা মোড়, ছায়াবিথি, সোবহানবাগ, সাভার, ঢাকা।
Design & Developed BY PopularITLimited